০৮:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

জাতিসংঘ: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচে ৮ কোটি মানুষের জীবন রক্ষা করা যেত

জাতিসংঘ ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়কে তীব্রভাবে সমালোচনা করেছে। সংস্থাটির মানবতামূলক সহায়তা বিভাগের প্রধান টম ফ্লেচার লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে সোমবার (২০ এপ্রিল) দেওয়া বক্তব্যে বলেন, যুদ্ধ প্রতিদিন প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার দাঁড়িয়েছে — যা দিয়ে অল্প সময়েই কোটি কোটি মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব ছিল।

ফ্লেচার জানান, তাদের বছরের লক্ষ্যমাত্রা ২৩ বিলিয়ন ডলার। এই তহবিল সংগ্রহ হলে ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষের জরুরি মানবিক চাহিদা মেটানো যাবে। তিনি বলেন, “ইরান যুদ্ধে মাত্র ১২ দিনের খরচ দিয়েই এই বিশাল তহবিল যোগান দেওয়া যেত।”

তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রতিদিন এই যুদ্ধে দুই বিলিয়ন ডলার অপচয় হচ্ছে, অথচ আমার অফিসের বাজেটে এখন ১০ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি আছে।’’ ফ্লেচার সতর্ক করে জানান যে এই যুদ্ধে কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও জ্বালানির দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে সাব-সহারা ও পূর্ব আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোর ওপর।

টম ফ্লেচার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া ভাষা ও উগ্র ঘোষণাকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “ইরানকে ‘বোমা মেরে পাথর যুগে পাঠিয়ে দেওয়া’—এরকম ভাষার স্বাভাবিকীকরণ বিপজ্জনক।” এমন ধরনের উগ্র বাক্যবন্ধ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের পথ প্রশস্ত করে এবং বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলার জন্য বিশ্বের অন্যান্য স্বৈরাচারী শাসকদের উৎসাহিত করতে পারে, যোগ করেন তিনি।

ট্রাম্প প্রশাসনের কাজের ধরন নিয়ে ফ্লেচার বলেন, সেখানে রাষ্ট্রনীতি না থেকে ‘রিয়েল এস্টেট’ মানসিকতা বেশি কাজ করে; প্রতিষ্ঠান ও নিয়ম-নীতির চেয়েও ব্যক্তিগত সম্পর্ককে তাত্পর্য দেওয়া হয়। তারা মনে করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে প্রতিপক্ষ অপ্রস্তুত থাকবে এবং তা থেকে সুবিধা পাওয়া যাবে। তিনি একের পর এক থিম উত্থাপন করে বলেন, যদি ট্রাম্প ১৪টি যুদ্ধ শেষ করতে পারেন, তবে তাকে নোবেল দেওয়া যাক—কিন্তু তা করতে হলে বাস্তবে প্রমাণ করতে হবে।

নিজের দেশেরও সমালোচনা করতে পিছপা হননি সাবেক ব্রিটিশ কূটনীতিক ফ্লেচার। তিনি বলেন, গত দশকে ব্রিটিশ রাজনীতিকরা পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুড়িতে এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাজ্যের প্রভাব কমেছে। বৈদেশিক সহায়তায় বড় ধরনের বাজেট কাটছাঁটের ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চগুলোতে এখন যুক্তরাজ্যকে নানাভাবে আক্ষরিক ও উপহাসের মুখে পড়তে হচ্ছে, মন্তব্য করেন তিনি।

ফ্লেচার জানান, এই সময় বিশ্ব মানবিক সহায়তা খাতে গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি: চাহিদা বাড়ছে, অথচ যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের দান কমাচ্ছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘গত তিন বছরে এক হাজারেরও বেশি ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছে। ত্রাণকর্মীদের হত্যাকে যেন স্বাভাবিক ব্যাপার হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে—এটা অত্যন্ত ভাবাবেগঘাতক এবং অনুৎসাহজনক।’’

তিনি বিশ্বের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান যে তারা কেবল বিবৃতি দিয়ে থামবেন না; ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিন এবং যুদ্ধপ্রবণদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করুন। ফ্লেচারের মন্তব্যগুলো আন্তর্জাতিক সহায়তা ও নীতিনির্ধারণের ওপর তাৎপর্যপূর্ণ আলোকপাত করেছে, বিশেষত যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচে ৮ কোটি মানুষের জীবন রক্ষা করা যেত

প্রকাশিতঃ ০৭:২৫:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

জাতিসংঘ ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়কে তীব্রভাবে সমালোচনা করেছে। সংস্থাটির মানবতামূলক সহায়তা বিভাগের প্রধান টম ফ্লেচার লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে সোমবার (২০ এপ্রিল) দেওয়া বক্তব্যে বলেন, যুদ্ধ প্রতিদিন প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার দাঁড়িয়েছে — যা দিয়ে অল্প সময়েই কোটি কোটি মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব ছিল।

ফ্লেচার জানান, তাদের বছরের লক্ষ্যমাত্রা ২৩ বিলিয়ন ডলার। এই তহবিল সংগ্রহ হলে ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষের জরুরি মানবিক চাহিদা মেটানো যাবে। তিনি বলেন, “ইরান যুদ্ধে মাত্র ১২ দিনের খরচ দিয়েই এই বিশাল তহবিল যোগান দেওয়া যেত।”

তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রতিদিন এই যুদ্ধে দুই বিলিয়ন ডলার অপচয় হচ্ছে, অথচ আমার অফিসের বাজেটে এখন ১০ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি আছে।’’ ফ্লেচার সতর্ক করে জানান যে এই যুদ্ধে কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও জ্বালানির দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে সাব-সহারা ও পূর্ব আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোর ওপর।

টম ফ্লেচার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া ভাষা ও উগ্র ঘোষণাকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “ইরানকে ‘বোমা মেরে পাথর যুগে পাঠিয়ে দেওয়া’—এরকম ভাষার স্বাভাবিকীকরণ বিপজ্জনক।” এমন ধরনের উগ্র বাক্যবন্ধ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের পথ প্রশস্ত করে এবং বেসামরিক অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলার জন্য বিশ্বের অন্যান্য স্বৈরাচারী শাসকদের উৎসাহিত করতে পারে, যোগ করেন তিনি।

ট্রাম্প প্রশাসনের কাজের ধরন নিয়ে ফ্লেচার বলেন, সেখানে রাষ্ট্রনীতি না থেকে ‘রিয়েল এস্টেট’ মানসিকতা বেশি কাজ করে; প্রতিষ্ঠান ও নিয়ম-নীতির চেয়েও ব্যক্তিগত সম্পর্ককে তাত্পর্য দেওয়া হয়। তারা মনে করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে প্রতিপক্ষ অপ্রস্তুত থাকবে এবং তা থেকে সুবিধা পাওয়া যাবে। তিনি একের পর এক থিম উত্থাপন করে বলেন, যদি ট্রাম্প ১৪টি যুদ্ধ শেষ করতে পারেন, তবে তাকে নোবেল দেওয়া যাক—কিন্তু তা করতে হলে বাস্তবে প্রমাণ করতে হবে।

নিজের দেশেরও সমালোচনা করতে পিছপা হননি সাবেক ব্রিটিশ কূটনীতিক ফ্লেচার। তিনি বলেন, গত দশকে ব্রিটিশ রাজনীতিকরা পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুড়িতে এতটাই ব্যস্ত ছিলেন যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাজ্যের প্রভাব কমেছে। বৈদেশিক সহায়তায় বড় ধরনের বাজেট কাটছাঁটের ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চগুলোতে এখন যুক্তরাজ্যকে নানাভাবে আক্ষরিক ও উপহাসের মুখে পড়তে হচ্ছে, মন্তব্য করেন তিনি।

ফ্লেচার জানান, এই সময় বিশ্ব মানবিক সহায়তা খাতে গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি: চাহিদা বাড়ছে, অথচ যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের দান কমাচ্ছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘গত তিন বছরে এক হাজারেরও বেশি ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছে। ত্রাণকর্মীদের হত্যাকে যেন স্বাভাবিক ব্যাপার হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে—এটা অত্যন্ত ভাবাবেগঘাতক এবং অনুৎসাহজনক।’’

তিনি বিশ্বের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান যে তারা কেবল বিবৃতি দিয়ে থামবেন না; ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিন এবং যুদ্ধপ্রবণদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করুন। ফ্লেচারের মন্তব্যগুলো আন্তর্জাতিক সহায়তা ও নীতিনির্ধারণের ওপর তাৎপর্যপূর্ণ আলোকপাত করেছে, বিশেষত যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে।