০৬:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

২০২৬ সালের নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য আদর্শ: আইনশৃঙ্খলা বৈঠক থেকে ঘোষণা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ রাখতে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বরাষ্ট্র, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, এবং অন্যান্য বাহিনীর প্রধানেরা, পুলিশ মহাপরিদর্শক এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল নির্বাচনের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিচালনা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সমন্বয় সাধন।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই নির্বাচন দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে, যা ভবিষ্যতের নির্বাচনের মানদণ্ড নির্ধারণ করবে। তিনি আরও জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন দিন কোথাও যেন কোনো সমস্যা বা ভুলত্রুটি না ঘটে, সে বিষয়টিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সব একযোগে কাজ করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ব্যাপারেও তিনি জোর দেন। তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে, যার মধ্যে রয়েছে বডি ক্যামেরা, সিসি ক্যামেরা ও কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটারিং। বিদেশি ও দেশি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধি অবশ্যই ব্যাপক আগ্রহের বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানান।

নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতারুল হক জানান, এবারের নির্বাচনে ৫৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি অংশ নিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ২৬ দেশের প্রতিনিধিদের জন্য নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, ইতিমধ্যে ৫৬ জন ইউরোপীয় পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তিনি জানান, প্রচারণা ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল পর্যন্ত চলবে। পাশাপাশি, সাইবার স্পেসে তথ্য বিকৃতি রোধ ও পোস্টাল ও গণভোটের ব্যালট গণনার জন্য অতিরিক্ত সময় ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সুরক্ষা পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এবার সেনা, বিএসএফ ও অন্যান্য স্বরাষ্ট্র বাহিনী ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা বিধানে সরাসরি অংশ নেবে এবং প্রয়োজন হলে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করা যাবে। নির্বাচনস্থলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সব বাহিনী ভোটের চার দিন আগে থেকে আরম্ভ করে সাত দিন পর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে নির্বাচনের সময় ড্রোন ও বডি ক্যামেরার মতো সরঞ্জামও ব্যবহার করা হবে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক বলেন, প্রিজাইডিং অফিসার ও কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্যরা ভিতরে থাকবে, যাতে অযথা কোনো বাধা বা দুর্বৃত্তপনা রোধ করা যায়।

বৈঠকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আইনশৃঙ্খলার অবস্থা এবং অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালে গৃহীত পদক্ষেপে লুট হওয়া ৩ হাজার ৬১৯টি অস্ত্রের মধ্যে ৬২.৪ শতাংশ ও ৪ লাখ ৫৬ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদে ৫২ শতাংশই উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সকল বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও আলোচনা ভিত্তিতে ভবিষ্যতের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হবে। এছাড়া, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ও আইসিটির বিশেষ সহকারী নেতৃগত প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচনের দিন যেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত হয়। এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আগামী সপ্তাহে বা প্রয়োজনে আরো কম ব্যবধানে বৈঠক করার পরিকল্পনাও স্পষ্ট করা হয়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী

২০২৬ সালের নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য আদর্শ: আইনশৃঙ্খলা বৈঠক থেকে ঘোষণা

প্রকাশিতঃ ০৬:৩০:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ রাখতে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বরাষ্ট্র, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, এবং অন্যান্য বাহিনীর প্রধানেরা, পুলিশ মহাপরিদর্শক এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল নির্বাচনের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিচালনা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সমন্বয় সাধন।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই নির্বাচন দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এটি একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে, যা ভবিষ্যতের নির্বাচনের মানদণ্ড নির্ধারণ করবে। তিনি আরও জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন দিন কোথাও যেন কোনো সমস্যা বা ভুলত্রুটি না ঘটে, সে বিষয়টিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সব একযোগে কাজ করতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ব্যাপারেও তিনি জোর দেন। তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে, যার মধ্যে রয়েছে বডি ক্যামেরা, সিসি ক্যামেরা ও কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটারিং। বিদেশি ও দেশি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধি অবশ্যই ব্যাপক আগ্রহের বিষয় বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানান।

নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতারুল হক জানান, এবারের নির্বাচনে ৫৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি অংশ নিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ২৬ দেশের প্রতিনিধিদের জন্য নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, ইতিমধ্যে ৫৬ জন ইউরোপীয় পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। তিনি জানান, প্রচারণা ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল পর্যন্ত চলবে। পাশাপাশি, সাইবার স্পেসে তথ্য বিকৃতি রোধ ও পোস্টাল ও গণভোটের ব্যালট গণনার জন্য অতিরিক্ত সময় ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সুরক্ষা পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এবার সেনা, বিএসএফ ও অন্যান্য স্বরাষ্ট্র বাহিনী ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা বিধানে সরাসরি অংশ নেবে এবং প্রয়োজন হলে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করা যাবে। নির্বাচনস্থলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সব বাহিনী ভোটের চার দিন আগে থেকে আরম্ভ করে সাত দিন পর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে নির্বাচনের সময় ড্রোন ও বডি ক্যামেরার মতো সরঞ্জামও ব্যবহার করা হবে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক বলেন, প্রিজাইডিং অফিসার ও কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্যরা ভিতরে থাকবে, যাতে অযথা কোনো বাধা বা দুর্বৃত্তপনা রোধ করা যায়।

বৈঠকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আইনশৃঙ্খলার অবস্থা এবং অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালে গৃহীত পদক্ষেপে লুট হওয়া ৩ হাজার ৬১৯টি অস্ত্রের মধ্যে ৬২.৪ শতাংশ ও ৪ লাখ ৫৬ হাজার রাউন্ড গোলাবারুদে ৫২ শতাংশই উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সকল বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও আলোচনা ভিত্তিতে ভবিষ্যতের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হবে। এছাড়া, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ও আইসিটির বিশেষ সহকারী নেতৃগত প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচনের দিন যেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত হয়। এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আগামী সপ্তাহে বা প্রয়োজনে আরো কম ব্যবধানে বৈঠক করার পরিকল্পনাও স্পষ্ট করা হয়।