০৭:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না এমপি-রা, বিরোধীও একমত: চিফ হুইপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

খুলনায় তারেক রহমানের জনসভা

দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ সোমবার খুলনার খালিশপুরের প্রভাতী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হলো প্রবল উৎসাহ ও প্রত্যাশায় ভরা এক নির্বাচনী জনসভা। এই বিশাল জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্ত হন, যা ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। তারেক রহমানের আজকের উপস্থিতি খুলনা এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছে। সকাল সাড়ে ১২টার দিকে তিনি হেলিকপ্টারযোগে সরাসরি জনসভাস্থলে পৌঁছান, এবং তাঁর আগমনকে ঘিরে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা দেখা যায়। মঞ্চে ওঠার সাথে সাথে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক করতালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান, আর তিনি হাত নেড়ে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

উপস্থিত ছিলেন খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার ধানের শীষ প্রতীকের মোট ১৪ প্রার্থী। এই সম্মেলন থেকেই তিনি הללו ইলেক্টোরাল প্রার্থীদের জনগণের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচিত করেন। প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন খুলনার নানা কেন্দ্রে যারা নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিবেন, যেমন তালিকায় রয়েছেন খুলনা-১ এর আমীর এজাজ খান, খুলনা-২ এর নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৩ এর রকিবুল ইসলাম, খুলনা-৪ এর এস কে আজিজুল বারী, খুলনা-৫ এর মোহাম্মদ আলি আসগার, খুলনা-৬ এর এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী। একই সঙ্গে সাবেক সাতক্ষীরা প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও আব্দুর রউফ, কাজী আলাউদ্দীন ও মনিরুজ্জামান। বাগেরহাট থেকে কপিল কৃষ্ণ মন্ডল, শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, শেখ ফরিদুল ইসলাম ও সোম নাথ দে উপস্থিত হন। এই তিন জেলার শীর্ষ প্রার্থীর একসঙ্গে উপস্থিতি স্থানীয় নির্বাচনী পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আজকের এই জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই খুলনা শহরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে পৌঁছাতে থাকেন। দলের নেতা-কর্মীরা ‘ভোট দাও, কিসে ধানের শীষে’ শ্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সকাল একটায় পবিত্র কোরআন ও গীতাপাঠের মাধ্যমে সভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালের ২৩ মার্চ খুলনা সফর করেছিলেন। এই দীর্ঘ সময় পর তাঁর সরাসরি উপস্থিতি সাধারণ নাগরিক ও দলীয় কর্মীদের মধ্যে নতুন উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

খুলনা কর্মসূচি শেষ করে দুপুর ১টার দিকে তিনি আবার হেলিকপ্টারযোগে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখানে বিরামপুরের উপশহর এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অন্য এক নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেবেন। বিকেলে সেই সভা শেষ করে সরাসরি ঢাকায় ফিরবেন তিনি। এই সফরসহ নির্বাচনের ঠিক এক মুহূর্ত আগে তারেক রহমানের এই ঝটিকা সফর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ভোটের পরিস্থিতিকে ধানের শীষের পক্ষে আরও প্রভাবশালী করে তুলতে পারে বলে বিএনপি নেতাকর্মীরা দৃঢ় প্রত্যাশা করছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, সব আনুষ্ঠানিকতা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কারো সঙ্গে বৈরী আচরণ করব না: প্রধানমন্ত্রী

খুলনায় তারেক রহমানের জনসভা

প্রকাশিতঃ ১১:৪৮:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ সোমবার খুলনার খালিশপুরের প্রভাতী স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হলো প্রবল উৎসাহ ও প্রত্যাশায় ভরা এক নির্বাচনী জনসভা। এই বিশাল জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্ত হন, যা ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। তারেক রহমানের আজকের উপস্থিতি খুলনা এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছে। সকাল সাড়ে ১২টার দিকে তিনি হেলিকপ্টারযোগে সরাসরি জনসভাস্থলে পৌঁছান, এবং তাঁর আগমনকে ঘিরে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা দেখা যায়। মঞ্চে ওঠার সাথে সাথে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক করতালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান, আর তিনি হাত নেড়ে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

উপস্থিত ছিলেন খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার ধানের শীষ প্রতীকের মোট ১৪ প্রার্থী। এই সম্মেলন থেকেই তিনি הללו ইলেক্টোরাল প্রার্থীদের জনগণের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচিত করেন। প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন খুলনার নানা কেন্দ্রে যারা নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নিবেন, যেমন তালিকায় রয়েছেন খুলনা-১ এর আমীর এজাজ খান, খুলনা-২ এর নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৩ এর রকিবুল ইসলাম, খুলনা-৪ এর এস কে আজিজুল বারী, খুলনা-৫ এর মোহাম্মদ আলি আসগার, খুলনা-৬ এর এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী। একই সঙ্গে সাবেক সাতক্ষীরা প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও আব্দুর রউফ, কাজী আলাউদ্দীন ও মনিরুজ্জামান। বাগেরহাট থেকে কপিল কৃষ্ণ মন্ডল, শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, শেখ ফরিদুল ইসলাম ও সোম নাথ দে উপস্থিত হন। এই তিন জেলার শীর্ষ প্রার্থীর একসঙ্গে উপস্থিতি স্থানীয় নির্বাচনী পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আজকের এই জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই খুলনা শহরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে নেতাকর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে পৌঁছাতে থাকেন। দলের নেতা-কর্মীরা ‘ভোট দাও, কিসে ধানের শীষে’ শ্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সকাল একটায় পবিত্র কোরআন ও গীতাপাঠের মাধ্যমে সভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালের ২৩ মার্চ খুলনা সফর করেছিলেন। এই দীর্ঘ সময় পর তাঁর সরাসরি উপস্থিতি সাধারণ নাগরিক ও দলীয় কর্মীদের মধ্যে নতুন উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

খুলনা কর্মসূচি শেষ করে দুপুর ১টার দিকে তিনি আবার হেলিকপ্টারযোগে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সেখানে বিরামপুরের উপশহর এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অন্য এক নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেবেন। বিকেলে সেই সভা শেষ করে সরাসরি ঢাকায় ফিরবেন তিনি। এই সফরসহ নির্বাচনের ঠিক এক মুহূর্ত আগে তারেক রহমানের এই ঝটিকা সফর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ভোটের পরিস্থিতিকে ধানের শীষের পক্ষে আরও প্রভাবশালী করে তুলতে পারে বলে বিএনপি নেতাকর্মীরা দৃঢ় প্রত্যাশা করছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, সব আনুষ্ঠানিকতা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।