০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রমজানে আল-আকসায় প্রবেশ সীমিত করার পরিকল্পনা: গ্র্যান্ড মুফতি উদ্বিগ্ন

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদে মুসলিমদের প্রবেশ ও ইবাদত পালনে নিয়ন্ত্রণস্বরূপ কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের একটি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছে ইসরায়েল—এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফিলিস্তিনের গ্র্যান্ড মুফতি ও সুপ্রিম ইসলামিক কাউন্সিলের প্রধান শেখ একরিমা সাবরি। তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিকে বলেছেন, বিশ্বস্ত সূত্রগুলো থেকে পাওয়া তথ্যে দখলদার বাহিনী রমজান মাসে আল-আকসা চত্বরে মুসলিমদের অবাধ যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

শেখ একরিমা সাবরি এ ধরনের পরিকল্পনাকে তিনি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উসকানিমূলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর অনুযায়ী, ইতোমধ্যেই ইসরায়েলি পুলিশ মসজিদের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করেছে এবং গত কয়েক দিনে বেশ কিছু মুসলিম যুবককে মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাবরি বলেন, রমজানের শুরু থেকেই এসব কড়াকড়ি আরও সঙ্কুচিত করা হবে এবং একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমার নিচের মানুষের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। ফিলিস্তিনি ধর্মীয় নেতারা এসব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখছেন।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে এই পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গিভির গত জানুয়ারি থেকেই এই ধরনের পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আরও বলা হয়েছে, মেজর জেনারেল আভশালোম পেলেড পূর্ব জেরুজালেম শাখার শীর্ষ কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পরিকল্পনাটি ত্বরান্বিত হয়েছে। হারেৎজ তাদের প্রতিবেদনে বেন-গিভিরের ভূমিকা সমালোচনা করে মন্তব্য করেছে যে, রমজানের মতো স্পর্শকাতর সময়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

আল-আকসা মসজিদ ইসলামের পবিত্রতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ — মক্কার কাবা ও মদিনার মসজিদে নববীর পর এটি তৃতীয় পবিত্রতম স্থান, প্রথম কিবলাহ হিসেবে ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মিরাজ ঘটনার সঙ্গে এতে গভীর ঐতিহাসিক সংযোগ রয়েছে। ১৯৬৭ সালের ছয়দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখলে নেয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতি বছর রমজান মাসে বিশ্বের নানা প্রান্ত ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে এখানে হাজার হাজার মানুষ ইবাদতের জন্য সমবেত হন।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পুনরায় ওই অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ধর্মীয় কর্মসূচি ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশ সুরক্ষার জন্য সব পক্ষকে সংযম ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছেন অনেক পর্যবেক্ষক।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

রমজানে আল-আকসায় প্রবেশ সীমিত করার পরিকল্পনা: গ্র্যান্ড মুফতি উদ্বিগ্ন

প্রকাশিতঃ ১১:৩৮:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদে মুসলিমদের প্রবেশ ও ইবাদত পালনে নিয়ন্ত্রণস্বরূপ কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের একটি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছে ইসরায়েল—এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফিলিস্তিনের গ্র্যান্ড মুফতি ও সুপ্রিম ইসলামিক কাউন্সিলের প্রধান শেখ একরিমা সাবরি। তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিকে বলেছেন, বিশ্বস্ত সূত্রগুলো থেকে পাওয়া তথ্যে দখলদার বাহিনী রমজান মাসে আল-আকসা চত্বরে মুসলিমদের অবাধ যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

শেখ একরিমা সাবরি এ ধরনের পরিকল্পনাকে তিনি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উসকানিমূলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর অনুযায়ী, ইতোমধ্যেই ইসরায়েলি পুলিশ মসজিদের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করেছে এবং গত কয়েক দিনে বেশ কিছু মুসলিম যুবককে মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাবরি বলেন, রমজানের শুরু থেকেই এসব কড়াকড়ি আরও সঙ্কুচিত করা হবে এবং একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমার নিচের মানুষের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। ফিলিস্তিনি ধর্মীয় নেতারা এসব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখছেন।

ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে এই পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গিভির গত জানুয়ারি থেকেই এই ধরনের পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আরও বলা হয়েছে, মেজর জেনারেল আভশালোম পেলেড পূর্ব জেরুজালেম শাখার শীর্ষ কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পরিকল্পনাটি ত্বরান্বিত হয়েছে। হারেৎজ তাদের প্রতিবেদনে বেন-গিভিরের ভূমিকা সমালোচনা করে মন্তব্য করেছে যে, রমজানের মতো স্পর্শকাতর সময়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

আল-আকসা মসজিদ ইসলামের পবিত্রতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ — মক্কার কাবা ও মদিনার মসজিদে নববীর পর এটি তৃতীয় পবিত্রতম স্থান, প্রথম কিবলাহ হিসেবে ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মিরাজ ঘটনার সঙ্গে এতে গভীর ঐতিহাসিক সংযোগ রয়েছে। ১৯৬৭ সালের ছয়দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম দখলে নেয়ার পর থেকে এই অঞ্চলে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতি বছর রমজান মাসে বিশ্বের নানা প্রান্ত ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে এখানে হাজার হাজার মানুষ ইবাদতের জন্য সমবেত হন।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পুনরায় ওই অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ধর্মীয় কর্মসূচি ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশ সুরক্ষার জন্য সব পক্ষকে সংযম ও সংবেদনশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছেন অনেক পর্যবেক্ষক।