১১:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আইজিপি বাহারুল আলম পদত্যাগ করেছেন মন্ত্রিসভা ছোট হচ্ছে, কারা ডাক পেতে পারেন? আইজিপি বাহারুল আলমের পদত্যাগ নিয়ে প্রশাসনে তীব্র গুঞ্জন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের শপথে ১৩ দেশের প্রধানকে আমন্ত্রণ গণতান্ত্রিক উন্নয়ন ও নির্বাচনী সফলতার জন্য তিন শীর্ষ নেতাকে প্রধানমন্ত্রী অভিনন্দন সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান, নতুন সরকারের শপথ আজ মঙ্গলবার আসিফ নজরুলের স্পষ্টবার্তা: বিএনপির মন্ত্রিসভায় আমার থাকাটা সম্ভব নয় সেনাবাহিনী ফিরে যাবে ব্যারাকে: সেনাপ্রধান নবনির্বাচিত সরকার শপথ নিলে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরবে: সেনাপ্রধান

নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে বন্দুকধারীর তাণ্ডবে অন্তত ৩২ নিহত

নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে মোটরসাইকেল আরোহী বন্দুকধারীদের হামলায় শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছে। ঘটনা ঘটে নাইজার রাজ্যের বোরগু এলাকার তিনটি গ্রামে, যেখানে হামলাকারীরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে এবং বাসা-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তুঙ্গা-মাকেরি গ্রামে এই তাণ্ডবের শুরু হয়; সেখানে ছয়জন নিহত এবং কয়েকজনকে অপহরণ করা হয়েছে। পরে একই এলাকায় হামলাকারীরা কোনকোসো গ্রামে ঢুকে পড়ে, সেখানে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। মানবকল্যাণ সংস্থা ও স্থানীয় সূত্রগুলো নিহতের সংখ্যা ৩৮ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে বলেছে।

গ্রামের লোকদের কানেকশন বলছে, হামলাকারীরা ভোরে গ্রামে ঢুকে একটি পুলিশ স্টেশন জ্বালিয়ে দেয় এবং সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, অনেককে গুলিতে হত্যা করা হয় এবং কয়েকজনকে গলা কেটে হত্যা করার ঘটনাও ঘটেছে। পিটসা নামক অন্য গ্রামেও পুলিশের একটি স্টেশন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আইএসআইএস‑সহযোগী সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মুক্তিপণ আদায়কারী ডাকাত দলগুলোর কার্যক্রম কয়েক বছরের মধ্যে তীব্র হয়েছে। বোরগু এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক নেতারা প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবুর কাছে সেখানে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন, যাতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা যায়।

এই সহিংসতা আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে; সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন, যার ফলে দেশটিতে আন্তর্জাতিক চাপ আরও বেড়ে গেছে। তবু নাইজেরীয় কর্তৃপক্ষ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মাবলম্বীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খ্রিস্টান ও মুসলিম—উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই এই সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

গত ডিসেম্বরে মার্কিন সামরিক বাহিনী সোকোতো রাজ্যে বিমান হামলা চালালেও উত্তরাঞ্চলে রক্তক্ষয়ী হামলা বন্ধ হয়নি। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত ও সুসংহত নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি না হলে নিরীহ মানুষদের ওপর হামলার ঘটনা চলতেই থাকবে এবং মানবিক সংকট আরও গভীর হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

মন্ত্রিসভা ছোট হচ্ছে, কারা ডাক পেতে পারেন?

নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে বন্দুকধারীর তাণ্ডবে অন্তত ৩২ নিহত

প্রকাশিতঃ ০৮:২৩:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে মোটরসাইকেল আরোহী বন্দুকধারীদের হামলায় শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছে। ঘটনা ঘটে নাইজার রাজ্যের বোরগু এলাকার তিনটি গ্রামে, যেখানে হামলাকারীরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে এবং বাসা-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তুঙ্গা-মাকেরি গ্রামে এই তাণ্ডবের শুরু হয়; সেখানে ছয়জন নিহত এবং কয়েকজনকে অপহরণ করা হয়েছে। পরে একই এলাকায় হামলাকারীরা কোনকোসো গ্রামে ঢুকে পড়ে, সেখানে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। মানবকল্যাণ সংস্থা ও স্থানীয় সূত্রগুলো নিহতের সংখ্যা ৩৮ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে বলেছে।

গ্রামের লোকদের কানেকশন বলছে, হামলাকারীরা ভোরে গ্রামে ঢুকে একটি পুলিশ স্টেশন জ্বালিয়ে দেয় এবং সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, অনেককে গুলিতে হত্যা করা হয় এবং কয়েকজনকে গলা কেটে হত্যা করার ঘটনাও ঘটেছে। পিটসা নামক অন্য গ্রামেও পুলিশের একটি স্টেশন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আইএসআইএস‑সহযোগী সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মুক্তিপণ আদায়কারী ডাকাত দলগুলোর কার্যক্রম কয়েক বছরের মধ্যে তীব্র হয়েছে। বোরগু এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক নেতারা প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবুর কাছে সেখানে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন, যাতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা যায়।

এই সহিংসতা আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে; সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন, যার ফলে দেশটিতে আন্তর্জাতিক চাপ আরও বেড়ে গেছে। তবু নাইজেরীয় কর্তৃপক্ষ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মাবলম্বীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খ্রিস্টান ও মুসলিম—উভয় সম্প্রদায়ের মানুষই এই সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

গত ডিসেম্বরে মার্কিন সামরিক বাহিনী সোকোতো রাজ্যে বিমান হামলা চালালেও উত্তরাঞ্চলে রক্তক্ষয়ী হামলা বন্ধ হয়নি। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত ও সুসংহত নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি না হলে নিরীহ মানুষদের ওপর হামলার ঘটনা চলতেই থাকবে এবং মানবিক সংকট আরও গভীর হবে।