১১:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জনআকাংক্ষা পূরণে প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ সাংবাদিকদের সমস্যা সমাধান না হলে গণমাধ্যমের উন্নয়ন সম্ভব নয়: তথ্যমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কড়া বার্তা: বাংলাদেশে মব কালচারের দিন শেষ বিমান বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শেখ বশিরউদ্দীনকে সরকারি অব্যাহতি যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজিত হবে: মির্জা ফখরুল ১০ জনকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নিযুক্ত তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী: গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায়ের শুভসূচনা আনসার-ভিডিপি ও SREDA’র সমঝোতা: টেকসই জ্বালানি ও গ্রামীণ কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ববণ্টন: কে কোথায় পেলেন দায়িত্ব? ২৪ প্রতিমন্ত্রী শপথ নিলেন — নতুন অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকারের যাত্রা শুরু

চট্টগ্রামে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম গ্রেপ্তার, দুটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার

চট্টগ্রামে র‌্যাব পুলিশকে সহায়তাকারী হিসেবে পরিচয় দেওয়া তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ইমতিয়াজ সুলতান ইকরামকে দুইটি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে নগরের বায়েজিদ লিংক রোডের আরেফিন নগর এলাকা থেকে এক সহযোগীর সঙ্গে তাকে আটক করা হয়।

র‌্যাব-৭ চান্দগাঁও ক্যাম্পে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল পরিচালিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অস্ত্র কেনাবেচার সময় ইকরামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইকরামের কাছ থেকে ৭ পয়েন্ট ৬৫ বোরের দুটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচটি ম্যাগাজিন ও ৫৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাব জানিয়েছে, ইকরাম চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদকে ধরাতে পুলিশকে ‘‘সহায়তাকারী’’ হিসেবে কাজ করতেন।

র‌্যাব কর্মকর্তারা আরো জানান, ইকরাম আগে চট্টগ্রামের সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরের অনুসারী ছিলেন। চট্টগ্রামের স্কুলছাত্রী তাসফিয়া হত্যা মামলার একজন আসামি হওয়ার পর তিনি পালিয়ে প্রথমে ভারত এবং পরে দুবাই চলে যান। বিদেশে অবস্থানের সময় তার সখ্যতা সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলারের সঙ্গে গড়ে ওঠে—সরোয়ার গত নভেম্বরে বায়েজিদ চালিতাতলী এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন।

র‌্যাবের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইকরাম মধ্যপ্রাচ্য থেকে বায়েজিদ বোস্তামী, অক্সিজেন ও মুরাদপুর এলাকার কিছু ব্যবসায়ীর কাছে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে মোটা অঙ্কে চাঁদা দাবী করতেন। এক সময় তিনি ‘‘রিচ কিডস’’ নামে কিশোরদের একটি গ্যাংও পরিচালনা করত বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের সময় ইকরামের সঙ্গে থাকা তার ব্যক্তিগত গাড়ির চালক আবুল কামাল আজাদ (৬২)কেও আটক করা হয়েছে। র‌্যাবের দাবি, ইকরামের চাঁদার টাকা সংগ্রহ করতেন এই চালক।

র‌্যাব জানিয়েছে, গত বছরের ১৫ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরা শপিং সিটি কমপ্লেক্স থেকে ছোট সাজ্জাদ গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় সাজ্জাদকে ধরাতে পুলিশকে সহায়তা করেছিলেন ইকরাম ও 그의 স্ত্রী রুমা আক্তার স্মৃতি। পরে স্মৃতি নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে ২০ মার্চ পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় তিনি জানান, সাজ্জাদকে ধরিয়ে দেয়ার বিষয়টি জানার পর তার স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্না তাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। এছাড়া বড় সাজ্জাদ ভারতীয় একটি নম্বর থেকে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি দিচ্ছিলেন বলে স্মৃতি অভিযোগ করেন।

ওই মামলায় স্মৃতি ছোট সাজ্জাদের স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্না, বড় সাজ্জাদ, হাবিব খান, রায়হান, হেলাল, হাসান, আরমান (ওরফে ডবল হাজারি), ইমন, বোরহান, রাজু, মোহাম্মদ ও দিদারসহ মোট ১১ জনকে আসামি করেন।

র‌্যাব জানিয়েছে, তাদের অভিযান ও জিজ্ঞাসাবাদ চলমান আছে এবং ঘটন্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে র‌্যাব সূত্রে জানানো হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

জনআকাংক্ষা পূরণে প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ

চট্টগ্রামে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম গ্রেপ্তার, দুটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার

প্রকাশিতঃ ০৩:২৩:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামে র‌্যাব পুলিশকে সহায়তাকারী হিসেবে পরিচয় দেওয়া তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ইমতিয়াজ সুলতান ইকরামকে দুইটি বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে নগরের বায়েজিদ লিংক রোডের আরেফিন নগর এলাকা থেকে এক সহযোগীর সঙ্গে তাকে আটক করা হয়।

র‌্যাব-৭ চান্দগাঁও ক্যাম্পে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল পরিচালিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অস্ত্র কেনাবেচার সময় ইকরামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইকরামের কাছ থেকে ৭ পয়েন্ট ৬৫ বোরের দুটি বিদেশি পিস্তল, পাঁচটি ম্যাগাজিন ও ৫৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাব জানিয়েছে, ইকরাম চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদকে ধরাতে পুলিশকে ‘‘সহায়তাকারী’’ হিসেবে কাজ করতেন।

র‌্যাব কর্মকর্তারা আরো জানান, ইকরাম আগে চট্টগ্রামের সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছিরের অনুসারী ছিলেন। চট্টগ্রামের স্কুলছাত্রী তাসফিয়া হত্যা মামলার একজন আসামি হওয়ার পর তিনি পালিয়ে প্রথমে ভারত এবং পরে দুবাই চলে যান। বিদেশে অবস্থানের সময় তার সখ্যতা সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলারের সঙ্গে গড়ে ওঠে—সরোয়ার গত নভেম্বরে বায়েজিদ চালিতাতলী এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন।

র‌্যাবের অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইকরাম মধ্যপ্রাচ্য থেকে বায়েজিদ বোস্তামী, অক্সিজেন ও মুরাদপুর এলাকার কিছু ব্যবসায়ীর কাছে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে মোটা অঙ্কে চাঁদা দাবী করতেন। এক সময় তিনি ‘‘রিচ কিডস’’ নামে কিশোরদের একটি গ্যাংও পরিচালনা করত বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের সময় ইকরামের সঙ্গে থাকা তার ব্যক্তিগত গাড়ির চালক আবুল কামাল আজাদ (৬২)কেও আটক করা হয়েছে। র‌্যাবের দাবি, ইকরামের চাঁদার টাকা সংগ্রহ করতেন এই চালক।

র‌্যাব জানিয়েছে, গত বছরের ১৫ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরা শপিং সিটি কমপ্লেক্স থেকে ছোট সাজ্জাদ গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় সাজ্জাদকে ধরাতে পুলিশকে সহায়তা করেছিলেন ইকরাম ও 그의 স্ত্রী রুমা আক্তার স্মৃতি। পরে স্মৃতি নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে ২০ মার্চ পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় তিনি জানান, সাজ্জাদকে ধরিয়ে দেয়ার বিষয়টি জানার পর তার স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্না তাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। এছাড়া বড় সাজ্জাদ ভারতীয় একটি নম্বর থেকে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি দিচ্ছিলেন বলে স্মৃতি অভিযোগ করেন।

ওই মামলায় স্মৃতি ছোট সাজ্জাদের স্ত্রী শারমিন আক্তার তামান্না, বড় সাজ্জাদ, হাবিব খান, রায়হান, হেলাল, হাসান, আরমান (ওরফে ডবল হাজারি), ইমন, বোরহান, রাজু, মোহাম্মদ ও দিদারসহ মোট ১১ জনকে আসামি করেন।

র‌্যাব জানিয়েছে, তাদের অভিযান ও জিজ্ঞাসাবাদ চলমান আছে এবং ঘটন্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে র‌্যাব সূত্রে জানানো হয়েছে।