০৩:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান

সারাদেশে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিনম্র শ্রদ্ধায় ‘জুলাই শহীদ দিবস—২০২৬’ পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া-মোনাজাতসহ নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়; স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য ও সাধারণ জনগণ এতে অংশ নেন।

মাগুরা থেকে জানা যায়, শহরের ঢাকা রোডস্থ নবগঙ্গা পার্কের স্মৃতিস্তম্ভে সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন। জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ পরিচালিত আলোচনা সভায় পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক আলী আহমেদ, সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবিরসহ জেলা ও রাজনৈতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতারা বক্তব্য দেন। সভার শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

খুলনায়ও বড় আয়োজন করে শহীদদের স্মরণ করা হয়। শিববাড়ি স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণের পর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান সভার প্রধান অতিথি ছিলেন। সভায় খুলনা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, গণতন্ত্র ও ঐক্যের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুনের নেতৃত্বে প্রশাসনিক ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। একই দিনে মসজিদে মোনাজাতসহ মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়েও শহীদদের স্মরণে বিশেষ প্রার্থনা হয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।

টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও পরে সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি প্রধান অতিথি ছিলেন; তিনি শহীদ ও আহত পরিবারের প্রতি সহানুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন তাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব থাকবে এবং তদন্ত ও বিচার দ্রুত ও সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করার ওপরও গুরুত্ব দেন।

নীলফামারী, কুমিল্লা, কুড়িগ্রাম, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, চুয়াডাঙ্গা, ভোলা, যশোর, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও জেলার আনাচে-কানাচে অনেকে স্মৃতিসভা ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু ব্যক্তি উদ্যোগে জুলাই আন্দোলনে আহতদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেবেন বলে ঘোষণা করেন। নীলফামারীতে জেলা প্রশাসক নেতৃত্ত্বে আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে স্মরণীয় রাখার আহ্বান জানান।

মৌলভীবাজারে জেলা পুলিশ গঠিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়; পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম শহীদদের আত্মত্যাগ দেশের উন্নয়নের অনুপ্রেরণা হবে বলে মন্তব্য করেন। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ গ্রহণ করেন এবং শহীদদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিজ্ঞা করেন।

অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে আলোচনায় শহীদদের আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নিয়ে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে যাওয়ার কথা বারবার উচ্চারণ করা হয়। বক্তারা নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য পরিচর্যা, আর্থিক সহায়তা ও মামলা-পর্যবেক্ষণের তাগিদ দেন এবং নতুন প্রজন্মকে তাঁদের আদর্শ ধরে চলার আহ্বান জানান।

দেশব্যাপী মসজিদে মোনাজাত, মন্দির ও গীর্জায় প্রার্থনা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্মরণসভা-দোয়া সারিয়ে মহান শহীদের আত্মার শান্তি ও দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। প্রশাসন, রাজনীতি ও নাগরিক সমাজের তরফ থেকে এককথায় বার্তা—শহীদদের বীরত্ব ও ত্যাগ চিরস্থায়ী; তাদের স্বপ্ন সার্থক করতে ঐক্য ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন

সারাদেশে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালিত

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিনম্র শ্রদ্ধায় ‘জুলাই শহীদ দিবস—২০২৬’ পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া-মোনাজাতসহ নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়; স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য ও সাধারণ জনগণ এতে অংশ নেন।

মাগুরা থেকে জানা যায়, শহরের ঢাকা রোডস্থ নবগঙ্গা পার্কের স্মৃতিস্তম্ভে সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন। জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ পরিচালিত আলোচনা সভায় পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক আলী আহমেদ, সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবিরসহ জেলা ও রাজনৈতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতারা বক্তব্য দেন। সভার শেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

খুলনায়ও বড় আয়োজন করে শহীদদের স্মরণ করা হয়। শিববাড়ি স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণের পর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান সভার প্রধান অতিথি ছিলেন। সভায় খুলনা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, গণতন্ত্র ও ঐক্যের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুনের নেতৃত্বে প্রশাসনিক ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। একই দিনে মসজিদে মোনাজাতসহ মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়েও শহীদদের স্মরণে বিশেষ প্রার্থনা হয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।

টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও পরে সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি প্রধান অতিথি ছিলেন; তিনি শহীদ ও আহত পরিবারের প্রতি সহানুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন তাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব থাকবে এবং তদন্ত ও বিচার দ্রুত ও সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করার ওপরও গুরুত্ব দেন।

নীলফামারী, কুমিল্লা, কুড়িগ্রাম, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, চুয়াডাঙ্গা, ভোলা, যশোর, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও জেলার আনাচে-কানাচে অনেকে স্মৃতিসভা ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু ব্যক্তি উদ্যোগে জুলাই আন্দোলনে আহতদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেবেন বলে ঘোষণা করেন। নীলফামারীতে জেলা প্রশাসক নেতৃত্ত্বে আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে স্মরণীয় রাখার আহ্বান জানান।

মৌলভীবাজারে জেলা পুলিশ গঠিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়; পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম শহীদদের আত্মত্যাগ দেশের উন্নয়নের অনুপ্রেরণা হবে বলে মন্তব্য করেন। জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ গ্রহণ করেন এবং শহীদদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিজ্ঞা করেন।

অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে আলোচনায় শহীদদের আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নিয়ে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে যাওয়ার কথা বারবার উচ্চারণ করা হয়। বক্তারা নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য পরিচর্যা, আর্থিক সহায়তা ও মামলা-পর্যবেক্ষণের তাগিদ দেন এবং নতুন প্রজন্মকে তাঁদের আদর্শ ধরে চলার আহ্বান জানান।

দেশব্যাপী মসজিদে মোনাজাত, মন্দির ও গীর্জায় প্রার্থনা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্মরণসভা-দোয়া সারিয়ে মহান শহীদের আত্মার শান্তি ও দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। প্রশাসন, রাজনীতি ও নাগরিক সমাজের তরফ থেকে এককথায় বার্তা—শহীদদের বীরত্ব ও ত্যাগ চিরস্থায়ী; তাদের স্বপ্ন সার্থক করতে ঐক্য ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে হবে।