০৪:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু

ম্যানসিটির পর এবার ইন্টার মিলানকেও ধাক্কা দিয়ে ধবলধুলা করল বোডো/গ্লিম্ট

ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব ফুটবল প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অত্যন্ত প্রত্যাশিত ও দর্পোজ্জ্বল এক ম্যাচের গল্প এখন নতুন এক অধ্যায়ে লেখা হচ্ছে। নরওয়ের অখ্যাত ও ছোট শহর বোডো থেকে উঠে আসা বোডো/গ্লিম্ট দলটি এই মৌসুমে ঘুচিয়ে দিয়েছে তাদের নিজস্ব ফুটবল ইতিহাস, তুলে ধরেছে তাদের কৌশল এবং মনোবল। গত জানুয়ারিতে তারা জয়লাভ করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটির কাছে বড় অঘটন ঘটিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। আর এবার তারা দেখালো যে, তারা শুধু কোন অঘটনকারী নয়, বরং এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে। বুধবার রাতে নরওয়ের আস্পমাইরা স্টেডিয়ামে প্লে-অফ নকআউট পর্বের প্রথম লেগের ম্যাচে, এই অখ্যাত দলটি ৩-১ গোলের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ইন্টার মিলানকে হারিয়ে অসাধারণ একটি সফলতা অর্জন করল। মাত্র ৫৫,০০০ জনের ছোট শহর থেকে উঠে আসা এই দলটি এখন ইউরোপের বড় বড় দলের জন্য এক আতঙ্ক তৈরি করেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বোডো/গ্লিম্ট তাদের আক্রমণাত্মক ফুটবল দিয়ে দেখিয়েছে তারা শ্রম ও পরিকল্পনার মাধ্যমে যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। যদিও বলের অধিকাংশই ছিল ইন্টার মিলানের দখলে, ৫৫ শতাংশ, কিন্তু কার্যকরী আক্রমণে স্বাগতিক দল ছিল আরও দৃষ্টিনন্দন। ম্যাচের ২০তম মিনিটে মধ্যসোন্ধ্রে সোন্দ্রে ব্রান্সটাডের একটি অসাধারণ ফিনিশে প্রথম গোলটি করেন, যা দর্শকদের উৎসাহে ভাসিয়ে দেয়। তবে ইন্টার মিলান লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য দেরি করল না, ৩০ মিনিটে পিও এস্পোসিতোর গোলের মাধ্যমে ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনল। বিরতির সময় ১-১ এ অবস্থান থাকায় ভক্তরা আশা করেছিলেন, ইন্টার দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে এসে ম্যাচটি নিজেদের পক্ষে নেবে।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পুরো দৃশ্যপট পাল্টে যায় বোডো/গ্লিম্টের জন্য। মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে দুটি গোল করে তারা নিজেদের আক্রমণকে সফল করে তোলে এবং ইন্টার মিলান রক্ষণভাগকে দারুণভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ৬১ মিনিটে জেন্স পিটার হাউগ এবং ৬৪ মিনিটে ক্যাসপার হগের দ্রুত ও নিঃস্বার্থ অ্যাসিস্টে গোল হওয়ার ফলস্বরূপ, আস্পমাইরা স্টেডিয়াম উল্লাসে ভরে ওঠে। ম্যাচের সব দিক থেকে দেখলে বোডো/গ্লিম্টের কার্যকারিতা প্রশংসনীয়, তারা মোট ৮টি শট নিয়েছিল, এর মধ্যে ৬টি লক্ষ্যে ছিল, যা তাদের ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ের প্রমাণ। বিপরীতে, ইন্টার মিলান ১১টি শট নিয়েও লক্ষ্যভেদের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়। পুরো ম্যাচ জুড়ে, এই অখ্যাত দলটি তাদের পরিস্থিতি অনুযায়ী সফলতার চরম সীমা স্পর্শ করেছে।

এটি এক অপ্রত্যাশিত ফল নয়; এর আগেও তারা অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের মাঠে গিয়ে ২-১ গোলে হারিয়ে এসেছে। ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, বোডো/গ্লিম্ট এখন আর কেবল অঘটন ঘটানোর দল নয়, বরং তারা কৌশলী ফুটবলের এক নতুন পরাশক্তিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। এই পরাজয় ইন্টার মিলানের শেষ ষোলোয় যাওয়ার পথে বড় একটি সমস্যার সৃষ্টি করেছে। আগামী মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ইন্টার মিলানের ঘরের মাঠে ফিরতি লেগের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ঐ ম্যাচে যদি তারা ঘুরে দাঁড়াতে না পারে, তবে তাদের এই মৌসুমের স্বপ্নভঙ্গ হতে পারে। অন্যদিকে, নিজের অভিষেক আসরে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে রূপকথার পথচলা চালিয়ে যাচ্ছে বোডো/গ্লিম্ট, যেখানে তারা নতুন করে প্রতিযোগিতায় নিজের জয়গাথা রচনা করার জন্য অপেক্ষা করছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি

ম্যানসিটির পর এবার ইন্টার মিলানকেও ধাক্কা দিয়ে ধবলধুলা করল বোডো/গ্লিম্ট

প্রকাশিতঃ ১১:৫৬:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব ফুটবল প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অত্যন্ত প্রত্যাশিত ও দর্পোজ্জ্বল এক ম্যাচের গল্প এখন নতুন এক অধ্যায়ে লেখা হচ্ছে। নরওয়ের অখ্যাত ও ছোট শহর বোডো থেকে উঠে আসা বোডো/গ্লিম্ট দলটি এই মৌসুমে ঘুচিয়ে দিয়েছে তাদের নিজস্ব ফুটবল ইতিহাস, তুলে ধরেছে তাদের কৌশল এবং মনোবল। গত জানুয়ারিতে তারা জয়লাভ করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটির কাছে বড় অঘটন ঘটিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। আর এবার তারা দেখালো যে, তারা শুধু কোন অঘটনকারী নয়, বরং এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে ইন্টার মিলানের বিপক্ষে। বুধবার রাতে নরওয়ের আস্পমাইরা স্টেডিয়ামে প্লে-অফ নকআউট পর্বের প্রথম লেগের ম্যাচে, এই অখ্যাত দলটি ৩-১ গোলের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ইন্টার মিলানকে হারিয়ে অসাধারণ একটি সফলতা অর্জন করল। মাত্র ৫৫,০০০ জনের ছোট শহর থেকে উঠে আসা এই দলটি এখন ইউরোপের বড় বড় দলের জন্য এক আতঙ্ক তৈরি করেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বোডো/গ্লিম্ট তাদের আক্রমণাত্মক ফুটবল দিয়ে দেখিয়েছে তারা শ্রম ও পরিকল্পনার মাধ্যমে যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। যদিও বলের অধিকাংশই ছিল ইন্টার মিলানের দখলে, ৫৫ শতাংশ, কিন্তু কার্যকরী আক্রমণে স্বাগতিক দল ছিল আরও দৃষ্টিনন্দন। ম্যাচের ২০তম মিনিটে মধ্যসোন্ধ্রে সোন্দ্রে ব্রান্সটাডের একটি অসাধারণ ফিনিশে প্রথম গোলটি করেন, যা দর্শকদের উৎসাহে ভাসিয়ে দেয়। তবে ইন্টার মিলান লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য দেরি করল না, ৩০ মিনিটে পিও এস্পোসিতোর গোলের মাধ্যমে ম্যাচে সমতা ফিরিয়ে আনল। বিরতির সময় ১-১ এ অবস্থান থাকায় ভক্তরা আশা করেছিলেন, ইন্টার দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে এসে ম্যাচটি নিজেদের পক্ষে নেবে।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পুরো দৃশ্যপট পাল্টে যায় বোডো/গ্লিম্টের জন্য। মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে দুটি গোল করে তারা নিজেদের আক্রমণকে সফল করে তোলে এবং ইন্টার মিলান রক্ষণভাগকে দারুণভাবে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ৬১ মিনিটে জেন্স পিটার হাউগ এবং ৬৪ মিনিটে ক্যাসপার হগের দ্রুত ও নিঃস্বার্থ অ্যাসিস্টে গোল হওয়ার ফলস্বরূপ, আস্পমাইরা স্টেডিয়াম উল্লাসে ভরে ওঠে। ম্যাচের সব দিক থেকে দেখলে বোডো/গ্লিম্টের কার্যকারিতা প্রশংসনীয়, তারা মোট ৮টি শট নিয়েছিল, এর মধ্যে ৬টি লক্ষ্যে ছিল, যা তাদের ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ের প্রমাণ। বিপরীতে, ইন্টার মিলান ১১টি শট নিয়েও লক্ষ্যভেদের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়। পুরো ম্যাচ জুড়ে, এই অখ্যাত দলটি তাদের পরিস্থিতি অনুযায়ী সফলতার চরম সীমা স্পর্শ করেছে।

এটি এক অপ্রত্যাশিত ফল নয়; এর আগেও তারা অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের মাঠে গিয়ে ২-১ গোলে হারিয়ে এসেছে। ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, বোডো/গ্লিম্ট এখন আর কেবল অঘটন ঘটানোর দল নয়, বরং তারা কৌশলী ফুটবলের এক নতুন পরাশক্তিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। এই পরাজয় ইন্টার মিলানের শেষ ষোলোয় যাওয়ার পথে বড় একটি সমস্যার সৃষ্টি করেছে। আগামী মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ইন্টার মিলানের ঘরের মাঠে ফিরতি লেগের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ঐ ম্যাচে যদি তারা ঘুরে দাঁড়াতে না পারে, তবে তাদের এই মৌসুমের স্বপ্নভঙ্গ হতে পারে। অন্যদিকে, নিজের অভিষেক আসরে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে রূপকথার পথচলা চালিয়ে যাচ্ছে বোডো/গ্লিম্ট, যেখানে তারা নতুন করে প্রতিযোগিতায় নিজের জয়গাথা রচনা করার জন্য অপেক্ষা করছে।