১১:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তে অর্থনীতি নাজুক নতুন সরকারের সামনে পাঁচটি জরুরি চ্যালেঞ্জ ড. ইউনূস লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি করবে না সরকার: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা কারও চাঁদাবাজি করার সুযোগ নেই: সড়ক পরিবহণমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিঠি, অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি শিক্ষাকে রাজনীতির বাইরেই রাখবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ড. ইউনূসসহ বিদায়ী উপদেষ্টারা কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর রমজানেই শুরু হবে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প

ড. ইউনূস লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন

নতুন নির্বাচিত সরকারের শপথগ্রহণের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার শুরু হয়েছিল। এর মধ্যেই সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার মন্ত্রিসভার অন্তত ২০ জন উপদেষ্টা তাদের কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন। ড. ইউনূস তার পদ থেকে বিদায়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিজের পাসপোর্টটি জমা করেছিলেন। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদায়ী প্রশাসন নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করার এক গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করল।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের পাশাপাশি আরো বেশিরভাগ উপদেষ্টা আগেই তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন, যা তারা নির্বাচনের আগে করেছিলেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে থাকা ব্যক্তিদের একসঙ্গে এই সুবিধা পাওয়ার পরে পদের অবসান হলে সেই পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া বাধ্যতামূলক। আইনি ও নৈতিক দায়িত্ববোধে সেই নিয়ম মানতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন তারা। তালিকায় রয়েছেন সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার সহ আরও অনেকে।

অন্য উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা বীরপ্রতীক ফারুক-ই-আজম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, সাবেক বাণিজ্য ও শিল্প উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও তাদের পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন। আরো নাম রয়েছে সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও নারী ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।

প্রশাসনিক ও বিশেষ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক বিষয়ে বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবও তাদের পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যোগ দেওয়া মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব দ্রুত এই কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। সরকারের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যারা এখনও পাসপোর্ট হস্তান্তর করতে পারেননি, তাদের জন্য একটি নির্ধারিত সময়সীমা রয়েছে এবং সেই সময়ের মধ্যে সবাই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। ১৮ মাসের দ্বারপ্রান্তে সরকারের অধীনে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নতুন নির্বাচিত সরকারের হাতে হস্তান্তরের এই স্তরে, বিদায়ী উপদেষ্টাদের পেশাদার ও নিয়মতান্ত্রিক আচরণ প্রশাসনিক মহলে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তে অর্থনীতি নাজুক

ড. ইউনূস লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন

প্রকাশিতঃ ০৪:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নতুন নির্বাচিত সরকারের শপথগ্রহণের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার শুরু হয়েছিল। এর মধ্যেই সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার মন্ত্রিসভার অন্তত ২০ জন উপদেষ্টা তাদের কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন। ড. ইউনূস তার পদ থেকে বিদায়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিজের পাসপোর্টটি জমা করেছিলেন। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদায়ী প্রশাসন নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করার এক গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করল।

মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের পাশাপাশি আরো বেশিরভাগ উপদেষ্টা আগেই তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন, যা তারা নির্বাচনের আগে করেছিলেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে থাকা ব্যক্তিদের একসঙ্গে এই সুবিধা পাওয়ার পরে পদের অবসান হলে সেই পাসপোর্ট ফেরত দেওয়া বাধ্যতামূলক। আইনি ও নৈতিক দায়িত্ববোধে সেই নিয়ম মানতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন তারা। তালিকায় রয়েছেন সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার সহ আরও অনেকে।

অন্য উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা বীরপ্রতীক ফারুক-ই-আজম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, সাবেক বাণিজ্য ও শিল্প উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও তাদের পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন। আরো নাম রয়েছে সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও নারী ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।

প্রশাসনিক ও বিশেষ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক বিষয়ে বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবও তাদের পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যোগ দেওয়া মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব দ্রুত এই কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। সরকারের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যারা এখনও পাসপোর্ট হস্তান্তর করতে পারেননি, তাদের জন্য একটি নির্ধারিত সময়সীমা রয়েছে এবং সেই সময়ের মধ্যে সবাই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। ১৮ মাসের দ্বারপ্রান্তে সরকারের অধীনে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নতুন নির্বাচিত সরকারের হাতে হস্তান্তরের এই স্তরে, বিদায়ী উপদেষ্টাদের পেশাদার ও নিয়মতান্ত্রিক আচরণ প্রশাসনিক মহলে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।