০৩:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

নবীনগরে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগের গণশুনানিতে এমপি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার চরলাপাং এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনা নিয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে সরেজমিন পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তাঁদের অভিযোগ শোনেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, ‘সামিউল ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান নাসিরাবাদ মৌজায় ইজারা নিলেও অল্প দূরবর্তী সাহেবনগর ও চরলাপাং মৌজার কৃষিজমি ও বসতভিটা সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালাচ্ছে। তারা আরও জানিয়েছেন, প্রভাবশালী এক চক্রের সহযোগিতায় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং গ্রামবাসীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অভিযোগ করেন যে, এই অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণেই তীব্র নদীভাঙন বাড়ছে এবং আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক পরিবার বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে থাকছে বলে তারা জানান। তারা দ্রুত এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।

গণশুনানিতে এমপি আব্দুল মান্নান ঘোষণা করেন, নবীনগরে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড অবশ্যই সহনশীল নয়। তিনি বলেন, “যেকোনো মূল্যে অবৈধ বালুমহাল বন্ধ করতে হবে”। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে কৃষিজমি ধ্বংস ও আতঙ্ক সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে যৌথ অভিযান চালানোরও নির্দেশ দেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সরকারি এই উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দারা আশাবাদী, তাদের মনে হয়েছে প্রশাসনের সক্রিয় পদক্ষেপে চরলাপাং ও তার আশেপাশের এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হবে এবং কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষা পাবে। এটি যেন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা এলাকার শান্তি ও পরিবেশের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনবে বলে তারা প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

নবীনগরে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগের গণশুনানিতে এমপি

প্রকাশিতঃ ০৬:০০:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার চরলাপাং এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনা নিয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে সরেজমিন পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তাঁদের অভিযোগ শোনেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, ‘সামিউল ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান নাসিরাবাদ মৌজায় ইজারা নিলেও অল্প দূরবর্তী সাহেবনগর ও চরলাপাং মৌজার কৃষিজমি ও বসতভিটা সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালাচ্ছে। তারা আরও জানিয়েছেন, প্রভাবশালী এক চক্রের সহযোগিতায় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং গ্রামবাসীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অভিযোগ করেন যে, এই অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণেই তীব্র নদীভাঙন বাড়ছে এবং আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক পরিবার বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে থাকছে বলে তারা জানান। তারা দ্রুত এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।

গণশুনানিতে এমপি আব্দুল মান্নান ঘোষণা করেন, নবীনগরে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড অবশ্যই সহনশীল নয়। তিনি বলেন, “যেকোনো মূল্যে অবৈধ বালুমহাল বন্ধ করতে হবে”। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে কৃষিজমি ধ্বংস ও আতঙ্ক সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে যৌথ অভিযান চালানোরও নির্দেশ দেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সরকারি এই উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দারা আশাবাদী, তাদের মনে হয়েছে প্রশাসনের সক্রিয় পদক্ষেপে চরলাপাং ও তার আশেপাশের এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হবে এবং কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষা পাবে। এটি যেন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা এলাকার শান্তি ও পরিবেশের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনবে বলে তারা প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।