০৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী একদিনেই দেশে ফিরল ৩৪ প্রবাসীর মরদেহ সরকারের সিদ্ধান্ত: ৯ হাজার ধর্মীয় ও শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ

নবীনগরে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগের গণশুনানিতে এমপি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার চরলাপাং এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনা নিয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে সরেজমিন পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তাঁদের অভিযোগ শোনেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, ‘সামিউল ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান নাসিরাবাদ মৌজায় ইজারা নিলেও অল্প দূরবর্তী সাহেবনগর ও চরলাপাং মৌজার কৃষিজমি ও বসতভিটা সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালাচ্ছে। তারা আরও জানিয়েছেন, প্রভাবশালী এক চক্রের সহযোগিতায় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং গ্রামবাসীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অভিযোগ করেন যে, এই অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণেই তীব্র নদীভাঙন বাড়ছে এবং আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক পরিবার বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে থাকছে বলে তারা জানান। তারা দ্রুত এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।

গণশুনানিতে এমপি আব্দুল মান্নান ঘোষণা করেন, নবীনগরে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড অবশ্যই সহনশীল নয়। তিনি বলেন, “যেকোনো মূল্যে অবৈধ বালুমহাল বন্ধ করতে হবে”। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে কৃষিজমি ধ্বংস ও আতঙ্ক সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে যৌথ অভিযান চালানোরও নির্দেশ দেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সরকারি এই উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দারা আশাবাদী, তাদের মনে হয়েছে প্রশাসনের সক্রিয় পদক্ষেপে চরলাপাং ও তার আশেপাশের এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হবে এবং কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষা পাবে। এটি যেন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা এলাকার শান্তি ও পরিবেশের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনবে বলে তারা প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

নবীনগরে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগের গণশুনানিতে এমপি

প্রকাশিতঃ ০৬:০০:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার চরলাপাং এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনা নিয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের উপস্থিতিতে সরেজমিন পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তাঁদের অভিযোগ শোনেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, ‘সামিউল ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান নাসিরাবাদ মৌজায় ইজারা নিলেও অল্প দূরবর্তী সাহেবনগর ও চরলাপাং মৌজার কৃষিজমি ও বসতভিটা সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালাচ্ছে। তারা আরও জানিয়েছেন, প্রভাবশালী এক চক্রের সহযোগিতায় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং গ্রামবাসীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অভিযোগ করেন যে, এই অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণেই তীব্র নদীভাঙন বাড়ছে এবং আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক পরিবার বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে থাকছে বলে তারা জানান। তারা দ্রুত এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।

গণশুনানিতে এমপি আব্দুল মান্নান ঘোষণা করেন, নবীনগরে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ড অবশ্যই সহনশীল নয়। তিনি বলেন, “যেকোনো মূল্যে অবৈধ বালুমহাল বন্ধ করতে হবে”। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে কৃষিজমি ধ্বংস ও আতঙ্ক সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে যৌথ অভিযান চালানোরও নির্দেশ দেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সরকারি এই উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দারা আশাবাদী, তাদের মনে হয়েছে প্রশাসনের সক্রিয় পদক্ষেপে চরলাপাং ও তার আশেপাশের এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হবে এবং কৃষিজমি ও বসতভিটা রক্ষা পাবে। এটি যেন একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা এলাকার শান্তি ও পরিবেশের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনবে বলে তারা প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন।