১০:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ

নতুন মন্ত্রিসভা’র প্রথম বৈঠকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে আনুমানিক ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং প্রায় ১,৫৫০ কোটি টাকা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি পাবে।

মন্ত্রিসভা সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতের যে সকল কৃষক ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছেন, তাদের সুদসহ ওই পুরো ঋণ মওকুফ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী এই উদ্যোগের আওতায় মোট প্রায় ১,৫৫০ কোটি টাকা পড়ে যা সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে কৃষকদের থাকা পাওনা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ১০ হাজার টাকার মধ্যে থাকা কৃষিঋণের ক্ষেত্রে যতই সুদ জমা থাকুক না কেন, সুদ-আসল মিলিয়ে সম্পূর্ণ অর্থ মওকুফ করা হবে। তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্তটি নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে এবং এর লক্ষ্য দরিদ্র ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও কৃষি খাতকে শক্তিশালী করা।

সরকার আশা করছে মওকুফের ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হয়ে পরবর্তী চাষাবাদে মনোযোগ দিতে পারবেন। এতে তাদের ঋণমানও উন্নত হবে, ফলে ভবিষ্যতে ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং উচ্চ সুদের মহাজনী ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রয়োজনে স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯১–১৯৯৬ মেয়াদে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারও পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ-আসল মওকুফ করেছিল, যা তখনও কৃষকদের আর্থিক চাপ লাঘব করে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছিল।

সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রামের অনেক পরিবার আৰ্থিকভাবে স্বস্তি পাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাশাপাশি সামনে আসন্ন মৌসুমে চাষাবাদের উত্সাহ বাড়ার প্রত্যাশাও প্রকাশ করা হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ

প্রকাশিতঃ ১০:০৯:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নতুন মন্ত্রিসভা’র প্রথম বৈঠকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে আনুমানিক ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং প্রায় ১,৫৫০ কোটি টাকা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি পাবে।

মন্ত্রিসভা সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতের যে সকল কৃষক ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছেন, তাদের সুদসহ ওই পুরো ঋণ মওকুফ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী এই উদ্যোগের আওতায় মোট প্রায় ১,৫৫০ কোটি টাকা পড়ে যা সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে কৃষকদের থাকা পাওনা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ১০ হাজার টাকার মধ্যে থাকা কৃষিঋণের ক্ষেত্রে যতই সুদ জমা থাকুক না কেন, সুদ-আসল মিলিয়ে সম্পূর্ণ অর্থ মওকুফ করা হবে। তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্তটি নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে এবং এর লক্ষ্য দরিদ্র ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও কৃষি খাতকে শক্তিশালী করা।

সরকার আশা করছে মওকুফের ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হয়ে পরবর্তী চাষাবাদে মনোযোগ দিতে পারবেন। এতে তাদের ঋণমানও উন্নত হবে, ফলে ভবিষ্যতে ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং উচ্চ সুদের মহাজনী ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রয়োজনে স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯১–১৯৯৬ মেয়াদে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারও পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ-আসল মওকুফ করেছিল, যা তখনও কৃষকদের আর্থিক চাপ লাঘব করে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছিল।

সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রামের অনেক পরিবার আৰ্থিকভাবে স্বস্তি পাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাশাপাশি সামনে আসন্ন মৌসুমে চাষাবাদের উত্সাহ বাড়ার প্রত্যাশাও প্রকাশ করা হয়েছে।