০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ

নতুন মন্ত্রিসভা’র প্রথম বৈঠকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে আনুমানিক ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং প্রায় ১,৫৫০ কোটি টাকা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি পাবে।

মন্ত্রিসভা সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতের যে সকল কৃষক ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছেন, তাদের সুদসহ ওই পুরো ঋণ মওকুফ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী এই উদ্যোগের আওতায় মোট প্রায় ১,৫৫০ কোটি টাকা পড়ে যা সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে কৃষকদের থাকা পাওনা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ১০ হাজার টাকার মধ্যে থাকা কৃষিঋণের ক্ষেত্রে যতই সুদ জমা থাকুক না কেন, সুদ-আসল মিলিয়ে সম্পূর্ণ অর্থ মওকুফ করা হবে। তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্তটি নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে এবং এর লক্ষ্য দরিদ্র ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও কৃষি খাতকে শক্তিশালী করা।

সরকার আশা করছে মওকুফের ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হয়ে পরবর্তী চাষাবাদে মনোযোগ দিতে পারবেন। এতে তাদের ঋণমানও উন্নত হবে, ফলে ভবিষ্যতে ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং উচ্চ সুদের মহাজনী ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রয়োজনে স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯১–১৯৯৬ মেয়াদে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারও পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ-আসল মওকুফ করেছিল, যা তখনও কৃষকদের আর্থিক চাপ লাঘব করে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছিল।

সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রামের অনেক পরিবার আৰ্থিকভাবে স্বস্তি পাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাশাপাশি সামনে আসন্ন মৌসুমে চাষাবাদের উত্সাহ বাড়ার প্রত্যাশাও প্রকাশ করা হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ

প্রকাশিতঃ ১০:০৯:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নতুন মন্ত্রিসভা’র প্রথম বৈঠকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে আনুমানিক ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং প্রায় ১,৫৫০ কোটি টাকা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি পাবে।

মন্ত্রিসভা সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতের যে সকল কৃষক ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছেন, তাদের সুদসহ ওই পুরো ঋণ মওকুফ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী এই উদ্যোগের আওতায় মোট প্রায় ১,৫৫০ কোটি টাকা পড়ে যা সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছে কৃষকদের থাকা পাওনা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ১০ হাজার টাকার মধ্যে থাকা কৃষিঋণের ক্ষেত্রে যতই সুদ জমা থাকুক না কেন, সুদ-আসল মিলিয়ে সম্পূর্ণ অর্থ মওকুফ করা হবে। তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্তটি নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে এবং এর লক্ষ্য দরিদ্র ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও কৃষি খাতকে শক্তিশালী করা।

সরকার আশা করছে মওকুফের ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত হয়ে পরবর্তী চাষাবাদে মনোযোগ দিতে পারবেন। এতে তাদের ঋণমানও উন্নত হবে, ফলে ভবিষ্যতে ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং উচ্চ সুদের মহাজনী ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রয়োজনে স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯১–১৯৯৬ মেয়াদে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারও পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ-আসল মওকুফ করেছিল, যা তখনও কৃষকদের আর্থিক চাপ লাঘব করে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছিল।

সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে গ্রামের অনেক পরিবার আৰ্থিকভাবে স্বস্তি পাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাশাপাশি সামনে আসন্ন মৌসুমে চাষাবাদের উত্সাহ বাড়ার প্রত্যাশাও প্রকাশ করা হয়েছে।