০৩:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী একদিনেই দেশে ফিরল ৩৪ প্রবাসীর মরদেহ সরকারের সিদ্ধান্ত: ৯ হাজার ধর্মীয় ও শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ

সোনাইমুড়ীতে রাতে মাটি কাটা অব্যাহত, এমপির নির্দেশ অমান্য

নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ীতে বৃহস্পতিবারের রাতের ঘটনা প্রকাশ করেছে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র। এ ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে, এমপির কঠোর নির্দেশনা ও হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও, রাতের অন্ধকারে ফসলি জমিগুলোর থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার মহোৎসব চালানো হচ্ছে। এর ফলে কৃষিজমি দ্রুত সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে, পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে এবং গ্রামীণ এলাকাগুলোর পরিবেশ ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা হল রুমে সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনা সভায় নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম মাহাবুব উদ্দিন খোকন এ বিষয়ে কঠোর সতর্কতা ও হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, খোদাই ব্যবসা ও মাটি ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে তিনি জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা দিয়েছেন এবং বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করবেন। এরপরেও, গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জয়াগ, চাষীরহাট, বজরা, নাটেশ্বর ও আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ফসলি জমি থেকে অবাধে মাটি কাটা হচ্ছে, যা আপনিৎ ইটভাটাগুলোতে বিক্রি করা হচ্ছে। কিছু স্থানিতে বিক্রির জন্য বাড়ির ভিটা তৈরি করতে মাটি সংগ্রহে বাধ্য করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করছেন, ভূক্তভোগীরা অবৈধভাবে জমির মাটি কাটছেন, ভেকু দিয়ে চলছে এই অপরাধ। সড়কগুলোতে সারারাত ট্রাক্টর ও মাটি বোঝাই গাড়ির চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে রাস্তাঘাট ভেঙে পড়ছে ও জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাতে মাটি বোঝাই ট্রাকের বিলবোঝাই গাড়ির শব্দে সাধারণ মানুষ অস্তিত্ত্বে থাকতে পারছেন না।

বজরা ইউনিয়নের কৃষক কবির মিয়া জানান, অবৈধভাবে বালি ও মাটি উত্তোলনের কারণে কৃষিজমি পুকুরে পরিণত হচ্ছে, ফলে কৃষকের জীবন ও রিজেকশন সংকটে পড়েছেন। তারা ভীতির মাঝে বাধ্য হয়ে বিক্রির জন্য জমির মাটি এজেন্টদের কাছে বিক্রি করছেন। অন্য কৃষক হানিফ বলেন, বিভিন্ন বার প্রশাসনকে জানালেও পরিস্থিতি একরকমই রয়ে গেছে, প্রশাসন কার্যত নজরদারির বাইরে রয়েছে।

একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উল্লেখ করেন, এমপি সাহেব ইতোমধ্যে কঠোর সতর্কবার্তা দিলেও, রাতে মাটি কাটার কাজ অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় এই অপরাধের প্রবণতা বেড়ে গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তারকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি বলেননি। পরিস্থিতি ও সুষ্ঠু সমাধানে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

সোনাইমুড়ীতে রাতে মাটি কাটা অব্যাহত, এমপির নির্দেশ অমান্য

প্রকাশিতঃ ০৪:৫২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ীতে বৃহস্পতিবারের রাতের ঘটনা প্রকাশ করেছে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র। এ ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে, এমপির কঠোর নির্দেশনা ও হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও, রাতের অন্ধকারে ফসলি জমিগুলোর থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার মহোৎসব চালানো হচ্ছে। এর ফলে কৃষিজমি দ্রুত সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে, পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে এবং গ্রামীণ এলাকাগুলোর পরিবেশ ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা হল রুমে সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনা সভায় নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ এম মাহাবুব উদ্দিন খোকন এ বিষয়ে কঠোর সতর্কতা ও হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, খোদাই ব্যবসা ও মাটি ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে তিনি জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা দিয়েছেন এবং বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করবেন। এরপরেও, গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জয়াগ, চাষীরহাট, বজরা, নাটেশ্বর ও আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ফসলি জমি থেকে অবাধে মাটি কাটা হচ্ছে, যা আপনিৎ ইটভাটাগুলোতে বিক্রি করা হচ্ছে। কিছু স্থানিতে বিক্রির জন্য বাড়ির ভিটা তৈরি করতে মাটি সংগ্রহে বাধ্য করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করছেন, ভূক্তভোগীরা অবৈধভাবে জমির মাটি কাটছেন, ভেকু দিয়ে চলছে এই অপরাধ। সড়কগুলোতে সারারাত ট্রাক্টর ও মাটি বোঝাই গাড়ির চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে রাস্তাঘাট ভেঙে পড়ছে ও জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাতে মাটি বোঝাই ট্রাকের বিলবোঝাই গাড়ির শব্দে সাধারণ মানুষ অস্তিত্ত্বে থাকতে পারছেন না।

বজরা ইউনিয়নের কৃষক কবির মিয়া জানান, অবৈধভাবে বালি ও মাটি উত্তোলনের কারণে কৃষিজমি পুকুরে পরিণত হচ্ছে, ফলে কৃষকের জীবন ও রিজেকশন সংকটে পড়েছেন। তারা ভীতির মাঝে বাধ্য হয়ে বিক্রির জন্য জমির মাটি এজেন্টদের কাছে বিক্রি করছেন। অন্য কৃষক হানিফ বলেন, বিভিন্ন বার প্রশাসনকে জানালেও পরিস্থিতি একরকমই রয়ে গেছে, প্রশাসন কার্যত নজরদারির বাইরে রয়েছে।

একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উল্লেখ করেন, এমপি সাহেব ইতোমধ্যে কঠোর সতর্কবার্তা দিলেও, রাতে মাটি কাটার কাজ অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় এই অপরাধের প্রবণতা বেড়ে গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন আক্তারকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি বলেননি। পরিস্থিতি ও সুষ্ঠু সমাধানে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।