০৭:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী

পূবালী ব্যাংকের লকারে জমা গ্রাহকের প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিখোঁজ

বাগেরহাট শহরের পূবালী ব্যাংকের এক লকার থেকে এক ব্যবসায়ীর প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ পেয়েছেন পুলিশ। এ নিয়ে ভুক্তভোগী সুমন কুমার দাস বাগেরহাট সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ব্যাংকের খানজাহান আলী সড়কের ওই শাখায় গিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানান বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শামীম হোসেন। ঘটনার খবর জানার পর বিকেলে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাছান চৌধুরীও ওই ব্যাংক পরিদর্শন করেন।

পূর্বরতী তদন্তে দেখা যায়—সিআইডি, জেলা পুলিশ ও পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) কর্মকর্তারা ব্যাংকে উপস্থিত ছিলেন। তারা কয়েক ঘণ্টা ধরে সিসিটিভি ফুটেজ, লকার রেজিস্টার ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করেন।

পূবালী ব্যাংকের বাগেরহাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মনিরুল আমিন বলেন, “লকার খুলতে দুটি চাবি লাগে। দুইটির একটি গ্রাহকের কাছে, অন্যটি ব্যাংকের রেকর্ডে থাকে। অভিযোগকারী গ্রাহকের চাবি তার কাছে ছিল, যা ছাড়া লকার খোলা সম্ভব নয়। তিনি লকারে কী রেখেছিলেন তা আগে কোনোভাবে ঘোষণা করেননি। বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর আমরা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত শুরু করেছি। তদন্ত শেষে সব কিছু স্পষ্ট হবে।”

ভুক্তভোগী সুমন কুমার দাসের বাড়ি শহরের দশানী এলাকায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুপারি ব্যবসা করেন। তিনি জানান, “গত বছরের ১৫ অক্টোবর আমার মা, খালা, ভাই, স্ত্রীর সঙ্গে মিলিয়ে কয়েকজন আত্মীয়ের প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার একটি বক্সে লকারে রেখেছিলাম। বুধবার বাড়িতে পারিবারিক এক অনুষ্ঠানের পর ব্যাংকে এসে লকার খুলতেই সমস্ত স্বর্ণালঙ্কার নেই—লকার সম্পূর্ণ খালি ছিল। আমি সাথে সাথে পুলিশকে খবর দিয়েছি, তারা তদন্ত করছে।”

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর লকার ব্যবহারকারী আরও অনেকে ব্যাংকে ছুটে এসে নিজেদের লকার খুলে যাচাই করেন। ব্যাংক কর্মকর্তারা ও পুলিশ আলাদা আলাদা গ্রাহকদের লকার পরিদর্শন ও রেকর্ড মিলিয়ে দেখছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম হোসেন বলেন, “লকার থেকে স্বর্ণালঙ্কার নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আমরা বিস্তারিতভাবে তদন্ত করছি; লকারটি নিরাপদ অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। কীভাবে এত বড় পরিমাণে অলঙ্কার গায়েব হল তা ক্রমে পরিষ্কার হবে।”

এদিকে ব্যাংক ও পুলিশ দুপক্ষই তদন্ত চলছে বলে জানিয়ে কড়া ভাবে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায় স্বীকারের বিষয়ে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পূবালী ব্যাংকের লকারে জমা গ্রাহকের প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিখোঁজ

প্রকাশিতঃ ১১:৩৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

বাগেরহাট শহরের পূবালী ব্যাংকের এক লকার থেকে এক ব্যবসায়ীর প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ পেয়েছেন পুলিশ। এ নিয়ে ভুক্তভোগী সুমন কুমার দাস বাগেরহাট সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ব্যাংকের খানজাহান আলী সড়কের ওই শাখায় গিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানান বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শামীম হোসেন। ঘটনার খবর জানার পর বিকেলে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাছান চৌধুরীও ওই ব্যাংক পরিদর্শন করেন।

পূর্বরতী তদন্তে দেখা যায়—সিআইডি, জেলা পুলিশ ও পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) কর্মকর্তারা ব্যাংকে উপস্থিত ছিলেন। তারা কয়েক ঘণ্টা ধরে সিসিটিভি ফুটেজ, লকার রেজিস্টার ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করেন।

পূবালী ব্যাংকের বাগেরহাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মনিরুল আমিন বলেন, “লকার খুলতে দুটি চাবি লাগে। দুইটির একটি গ্রাহকের কাছে, অন্যটি ব্যাংকের রেকর্ডে থাকে। অভিযোগকারী গ্রাহকের চাবি তার কাছে ছিল, যা ছাড়া লকার খোলা সম্ভব নয়। তিনি লকারে কী রেখেছিলেন তা আগে কোনোভাবে ঘোষণা করেননি। বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর আমরা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত শুরু করেছি। তদন্ত শেষে সব কিছু স্পষ্ট হবে।”

ভুক্তভোগী সুমন কুমার দাসের বাড়ি শহরের দশানী এলাকায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুপারি ব্যবসা করেন। তিনি জানান, “গত বছরের ১৫ অক্টোবর আমার মা, খালা, ভাই, স্ত্রীর সঙ্গে মিলিয়ে কয়েকজন আত্মীয়ের প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার একটি বক্সে লকারে রেখেছিলাম। বুধবার বাড়িতে পারিবারিক এক অনুষ্ঠানের পর ব্যাংকে এসে লকার খুলতেই সমস্ত স্বর্ণালঙ্কার নেই—লকার সম্পূর্ণ খালি ছিল। আমি সাথে সাথে পুলিশকে খবর দিয়েছি, তারা তদন্ত করছে।”

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর লকার ব্যবহারকারী আরও অনেকে ব্যাংকে ছুটে এসে নিজেদের লকার খুলে যাচাই করেন। ব্যাংক কর্মকর্তারা ও পুলিশ আলাদা আলাদা গ্রাহকদের লকার পরিদর্শন ও রেকর্ড মিলিয়ে দেখছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম হোসেন বলেন, “লকার থেকে স্বর্ণালঙ্কার নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আমরা বিস্তারিতভাবে তদন্ত করছি; লকারটি নিরাপদ অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। কীভাবে এত বড় পরিমাণে অলঙ্কার গায়েব হল তা ক্রমে পরিষ্কার হবে।”

এদিকে ব্যাংক ও পুলিশ দুপক্ষই তদন্ত চলছে বলে জানিয়ে কড়া ভাবে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায় স্বীকারের বিষয়ে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।