০৭:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী

হাইকোর্টে চার মামলায় জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

জুলাই মাসে আন্দোলন চলাকালে যুবদল কর্মী হত্যাকা- ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত রায়ের জালিয়াতি ও পরিবর্তনের অভিযোগে দায়ের করা চারটি মামলার জন্য উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। রবিবার (৮ মার্চ) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। তবে এই চার মামলায় জামিন পেলেও এক্ষণে তাঁর কারামুক্তি ঘটছে না বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন। তিনি এখনো কারাগারে রয়েছেন, কারণ এই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য একটি মামলায় দণ্ডের জন্য আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকছেন।

আদালত ও মামলার বিবরণে জানা গেছে, সাবেক এই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বর্তমানে বেশ কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জটিল ও আলোচিত হলো গত বছরের জুলাইয়ে যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদের হত্যাকাণ্ডের একটি মামলা, যেখানে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর পাশপাশি আরও তিনটি মামলা রয়েছে, যা মূলত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় জালিয়াতি, পরিবর্তন ও সংশোধনী সংক্রান্ত। এই মামলাগুলোর বেশিরভাগের জামিন আবেদন নিম্ন আদালতে নামঞ্জুর হওয়ার পর তিনি উচ্চ আদালত থেকে আইনি স্বস্তি পেলেন।

সুনানির সময় সাবেক প্রধান বিচারপতির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এক ঝাঁক উল্লেখযোগ্য আইনজীবী, যেগুলোর মধ্যে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও সাঈদ আহমেদ রাজাসহ আরও অনেকেই। অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল ইসলাম সুমন। আইনজীবীদের মত, যদিও তিনি চার মামলায় জামিন পেলেন, তবে প্লট জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা অন্য একটি মামলায় এখনও জামিন পাননি। ফলে আইনি বিধি-নিষেধের কারণে তিনি এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির নিজ বাসভবন থেকে বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এই ধরনের গুরুতর অভিযোগ ও একাধিক মামলার ঘটনা নজিরবিহীন, যা রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। আজকের এই আদেশের মাধ্যমে তিনি কিছুটা আইনি স্বস্তি পেলেও, চূড়ান্ত মুক্তির জন্য তাঁর অন্যান্য মামলার নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকতে হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হাইকোর্টে চার মামলায় জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

প্রকাশিতঃ ১১:৪৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

জুলাই মাসে আন্দোলন চলাকালে যুবদল কর্মী হত্যাকা- ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত রায়ের জালিয়াতি ও পরিবর্তনের অভিযোগে দায়ের করা চারটি মামলার জন্য উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। রবিবার (৮ মার্চ) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। তবে এই চার মামলায় জামিন পেলেও এক্ষণে তাঁর কারামুক্তি ঘটছে না বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন। তিনি এখনো কারাগারে রয়েছেন, কারণ এই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য একটি মামলায় দণ্ডের জন্য আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকছেন।

আদালত ও মামলার বিবরণে জানা গেছে, সাবেক এই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বর্তমানে বেশ কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জটিল ও আলোচিত হলো গত বছরের জুলাইয়ে যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদের হত্যাকাণ্ডের একটি মামলা, যেখানে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর পাশপাশি আরও তিনটি মামলা রয়েছে, যা মূলত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় জালিয়াতি, পরিবর্তন ও সংশোধনী সংক্রান্ত। এই মামলাগুলোর বেশিরভাগের জামিন আবেদন নিম্ন আদালতে নামঞ্জুর হওয়ার পর তিনি উচ্চ আদালত থেকে আইনি স্বস্তি পেলেন।

সুনানির সময় সাবেক প্রধান বিচারপতির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এক ঝাঁক উল্লেখযোগ্য আইনজীবী, যেগুলোর মধ্যে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও সাঈদ আহমেদ রাজাসহ আরও অনেকেই। অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল ইসলাম সুমন। আইনজীবীদের মত, যদিও তিনি চার মামলায় জামিন পেলেন, তবে প্লট জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা অন্য একটি মামলায় এখনও জামিন পাননি। ফলে আইনি বিধি-নিষেধের কারণে তিনি এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির নিজ বাসভবন থেকে বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এই ধরনের গুরুতর অভিযোগ ও একাধিক মামলার ঘটনা নজিরবিহীন, যা রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। আজকের এই আদেশের মাধ্যমে তিনি কিছুটা আইনি স্বস্তি পেলেও, চূড়ান্ত মুক্তির জন্য তাঁর অন্যান্য মামলার নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকতে হবে।