০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ঈদের আগেই পাইলট শুরু: ইমাম-পুরোহিতরা পাচ্ছেন মাসিক সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা বাজারে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট: ভোক্তারা দিচ্ছেন বেশি দাম তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এখনও করা হয়নি: জ্বালানিমন্ত্রী ঢাকা ওয়াসার এমডি আব্দুস সালাম ব্যাপারী অপসারণ, এক ঘণ্টার মধ্যে সিআইডি’র অর্থপাচার তদন্ত শুরু সোমবার ফ্যামিলি কার্ডের সংবাদ সম্মেলন, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী আগামী ১৬ মার্চ দেশের খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন ঈদের ছুটির মাঝে ১৮ মার্চেও সরকারি ছুটি ঘোষণা হাইকোর্টে চার মামলায় জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক খালেদা জিয়া পেলেন ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা, জাইমা রহমান গ্রহণ করলেন খালেদা জিয়াকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা, পুরস্কার গ্রহণ করেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

হাইকোর্টে চার মামলায় জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

জুলাই মাসে আন্দোলন চলাকালে যুবদল কর্মী হত্যাকা- ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত রায়ের জালিয়াতি ও পরিবর্তনের অভিযোগে দায়ের করা চারটি মামলার জন্য উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। রবিবার (৮ মার্চ) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। তবে এই চার মামলায় জামিন পেলেও এক্ষণে তাঁর কারামুক্তি ঘটছে না বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন। তিনি এখনো কারাগারে রয়েছেন, কারণ এই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য একটি মামলায় দণ্ডের জন্য আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকছেন।

আদালত ও মামলার বিবরণে জানা গেছে, সাবেক এই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বর্তমানে বেশ কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জটিল ও আলোচিত হলো গত বছরের জুলাইয়ে যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদের হত্যাকাণ্ডের একটি মামলা, যেখানে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর পাশপাশি আরও তিনটি মামলা রয়েছে, যা মূলত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় জালিয়াতি, পরিবর্তন ও সংশোধনী সংক্রান্ত। এই মামলাগুলোর বেশিরভাগের জামিন আবেদন নিম্ন আদালতে নামঞ্জুর হওয়ার পর তিনি উচ্চ আদালত থেকে আইনি স্বস্তি পেলেন।

সুনানির সময় সাবেক প্রধান বিচারপতির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এক ঝাঁক উল্লেখযোগ্য আইনজীবী, যেগুলোর মধ্যে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও সাঈদ আহমেদ রাজাসহ আরও অনেকেই। অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল ইসলাম সুমন। আইনজীবীদের মত, যদিও তিনি চার মামলায় জামিন পেলেন, তবে প্লট জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা অন্য একটি মামলায় এখনও জামিন পাননি। ফলে আইনি বিধি-নিষেধের কারণে তিনি এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির নিজ বাসভবন থেকে বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এই ধরনের গুরুতর অভিযোগ ও একাধিক মামলার ঘটনা নজিরবিহীন, যা রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। আজকের এই আদেশের মাধ্যমে তিনি কিছুটা আইনি স্বস্তি পেলেও, চূড়ান্ত মুক্তির জন্য তাঁর অন্যান্য মামলার নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকতে হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ঈদের আগেই পাইলট শুরু: ইমাম-পুরোহিতরা পাচ্ছেন মাসিক সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা

হাইকোর্টে চার মামলায় জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

প্রকাশিতঃ ১১:৪৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

জুলাই মাসে আন্দোলন চলাকালে যুবদল কর্মী হত্যাকা- ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত রায়ের জালিয়াতি ও পরিবর্তনের অভিযোগে দায়ের করা চারটি মামলার জন্য উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। রবিবার (৮ মার্চ) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। তবে এই চার মামলায় জামিন পেলেও এক্ষণে তাঁর কারামুক্তি ঘটছে না বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন। তিনি এখনো কারাগারে রয়েছেন, কারণ এই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য একটি মামলায় দণ্ডের জন্য আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকছেন।

আদালত ও মামলার বিবরণে জানা গেছে, সাবেক এই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বর্তমানে বেশ কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জটিল ও আলোচিত হলো গত বছরের জুলাইয়ে যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদের হত্যাকাণ্ডের একটি মামলা, যেখানে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর পাশপাশি আরও তিনটি মামলা রয়েছে, যা মূলত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় জালিয়াতি, পরিবর্তন ও সংশোধনী সংক্রান্ত। এই মামলাগুলোর বেশিরভাগের জামিন আবেদন নিম্ন আদালতে নামঞ্জুর হওয়ার পর তিনি উচ্চ আদালত থেকে আইনি স্বস্তি পেলেন।

সুনানির সময় সাবেক প্রধান বিচারপতির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এক ঝাঁক উল্লেখযোগ্য আইনজীবী, যেগুলোর মধ্যে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার সারা হোসেন ও সাঈদ আহমেদ রাজাসহ আরও অনেকেই। অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল ইসলাম সুমন। আইনজীবীদের মত, যদিও তিনি চার মামলায় জামিন পেলেন, তবে প্লট জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা অন্য একটি মামলায় এখনও জামিন পাননি। ফলে আইনি বিধি-নিষেধের কারণে তিনি এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির নিজ বাসভবন থেকে বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। দেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এই ধরনের গুরুতর অভিযোগ ও একাধিক মামলার ঘটনা নজিরবিহীন, যা রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। আজকের এই আদেশের মাধ্যমে তিনি কিছুটা আইনি স্বস্তি পেলেও, চূড়ান্ত মুক্তির জন্য তাঁর অন্যান্য মামলার নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকতে হবে।