০৯:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের হাতে এখনও নীতিগত সুযোগ: সিপিডি আত্মসমর্পণকারী কিছু চরমপন্থি ফের সক্রিয় ঢাবিতে পিটিয়ে হত্যা: ২২ আসামিকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এক মাসের কম সময়ে জনগণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি নোয়াবের ঘোষণাঃ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সংবাদপত্রে ৫ দিন ছুটি জ্বালানিতে সংকট নেই, দাম বৃদ্ধির পরিকল্পনাও নেই: প্রতিমন্ত্রী ঈদে ডিএসসিসির বিশেষ উদ্যোগ: অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদ ও টার্মিনাল সংস্কার কঠোর নির্দেশনা নোয়াব ঘোষণা: সংবাদপত্রে পাঁচ দিনের ঈদুল ফিতরের ছুটি জ্বালানিতে সংকট নেই, দাম বাড়ানো হবে না: প্রতিমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে ১৩২৭ কোটি টাকার রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা: সিপিডির উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দেড় বছর পর ডলারের দামে ঊর্ধ্বগতি

প্রায় দেড় বছর স্থিতিশীল থাকার পর বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে আবারও ডলারের দাম বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, দেশের আমদানি হিসাবের চাপ এবং প্রবাসী আয় সংগ্রহের প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ার কারণে ডলারের মূল্য পুনরায় উপাংশে উঠেছে। এই পরিস্থিতির কারণে সোমবার থেকে ব্যাংকগুলো বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজ থেকে ডলার কিনতে নতুন দামে কেনাকাটা করছে। আগে যেখানে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ২৫ থেকে ৩৫ পয়সা দরে কেনা হতো, এখন তা বেড়ে সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আন্তঃব্যাংক বাজার ও খোলাবাজারেও ডলের দাম বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে জানানো হয়েছে, সোমবার আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের বিক্রি মূল্য দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৫৫ পয়সা, যা আগের দিন ছিল ১২২ টাকা ৩৭ পয়সা। দীর্ঘ সময় ধরে ডলারের দর ছিল ১২২ টাকা ৩০ থেকে ৪০ পয়সার মধ্যে। খোলাবাজারে ডলারের দাম আরও বেড়েছে এবং সেখানে নগদ ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা ৭০ থেকে ৮০ পয়সায়। গত সপ্তাহে যা ছিল ১২৪ টাকা ৫০ থেকে ৬০ পয়সা। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন বাজারে ডলার দামের ঊর্ধ্বগতির সূচনা হয়েছে। ডলারের দাম বাড়লে আমদানির ব্যয় বেড়ে যায়, যা অবশেষে পণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলে। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রবাসী আয় ক্রয় করতে ব্যাংকগুলো ডলারে সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত দাম দিচ্ছে, ফলে আমদানির জন্য ডলারের দাম প্রায় ১২৩ টাকার কাছাকাছি এসে পৌঁছেছে। এক সপ্তাহ আগে যেখানে ডলারের দাম ছিল প্রায় ১২২ টাকা ৫০ পয়সা, সেখানে এখন তা বাড়ছে। আমদানিকারকরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে ব্যাংকগুলো হঠাৎ করে ডলারের দাম প্রায় ৫০ পয়সা বাড়িয়েছে, যা আমদানির খরচ বাড়াচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের পণ্যের দামেও তার প্রভাব পড়বে। ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা হিসেবে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স হাউসগুলো ডলারের বিপরীতে বেশি দাম প্রস্তাব করছে। আগে যেখানে প্রবাসী আয়ের ডলার মোটামুটি ১২২ টাকায় কেনা যেত, এখন তা প্রায় ১২৩ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রা বিনিময় হার সম্পর্কিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের গড় দরও বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্চ মাসের ৩ তারিখে প্রতি ডলারের গড় মূল্য ছিল ১২২ টাকা ৩৩ পয়সা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৫৮ পয়সা। এই সব পরিস্থিতি ফেরি করে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার ছাপ ফেলছে এবং পণ্য ও পরিষেবার ক্রমিক মূল্যে প্রভাব পড়ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের হাতে এখনও নীতিগত সুযোগ: সিপিডি

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দেড় বছর পর ডলারের দামে ঊর্ধ্বগতি

প্রকাশিতঃ ০৩:৪৯:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

প্রায় দেড় বছর স্থিতিশীল থাকার পর বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে আবারও ডলারের দাম বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, দেশের আমদানি হিসাবের চাপ এবং প্রবাসী আয় সংগ্রহের প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ার কারণে ডলারের মূল্য পুনরায় উপাংশে উঠেছে। এই পরিস্থিতির কারণে সোমবার থেকে ব্যাংকগুলো বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজ থেকে ডলার কিনতে নতুন দামে কেনাকাটা করছে। আগে যেখানে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ২৫ থেকে ৩৫ পয়সা দরে কেনা হতো, এখন তা বেড়ে সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আন্তঃব্যাংক বাজার ও খোলাবাজারেও ডলের দাম বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে জানানো হয়েছে, সোমবার আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের বিক্রি মূল্য দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৫৫ পয়সা, যা আগের দিন ছিল ১২২ টাকা ৩৭ পয়সা। দীর্ঘ সময় ধরে ডলারের দর ছিল ১২২ টাকা ৩০ থেকে ৪০ পয়সার মধ্যে। খোলাবাজারে ডলারের দাম আরও বেড়েছে এবং সেখানে নগদ ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা ৭০ থেকে ৮০ পয়সায়। গত সপ্তাহে যা ছিল ১২৪ টাকা ৫০ থেকে ৬০ পয়সা। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন বাজারে ডলার দামের ঊর্ধ্বগতির সূচনা হয়েছে। ডলারের দাম বাড়লে আমদানির ব্যয় বেড়ে যায়, যা অবশেষে পণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলে। ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রবাসী আয় ক্রয় করতে ব্যাংকগুলো ডলারে সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত দাম দিচ্ছে, ফলে আমদানির জন্য ডলারের দাম প্রায় ১২৩ টাকার কাছাকাছি এসে পৌঁছেছে। এক সপ্তাহ আগে যেখানে ডলারের দাম ছিল প্রায় ১২২ টাকা ৫০ পয়সা, সেখানে এখন তা বাড়ছে। আমদানিকারকরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে ব্যাংকগুলো হঠাৎ করে ডলারের দাম প্রায় ৫০ পয়সা বাড়িয়েছে, যা আমদানির খরচ বাড়াচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের পণ্যের দামেও তার প্রভাব পড়বে। ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা হিসেবে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স হাউসগুলো ডলারের বিপরীতে বেশি দাম প্রস্তাব করছে। আগে যেখানে প্রবাসী আয়ের ডলার মোটামুটি ১২২ টাকায় কেনা যেত, এখন তা প্রায় ১২৩ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রা বিনিময় হার সম্পর্কিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের গড় দরও বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্চ মাসের ৩ তারিখে প্রতি ডলারের গড় মূল্য ছিল ১২২ টাকা ৩৩ পয়সা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৫৮ পয়সা। এই সব পরিস্থিতি ফেরি করে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার ছাপ ফেলছে এবং পণ্য ও পরিষেবার ক্রমিক মূল্যে প্রভাব পড়ছে।