১১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ

বিশ্বব্যাংক সতর্ক: বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক তরুণ বেকার

বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, বাংলাদেশের শ্রমবাজারে যোগ দেওয়া বিপুলসংখ্যক তরুণের বড় অংশই উপযুক্ত কর্মসংস্থান পাচ্ছে না। গত এক দশকে কাজে আসা তরুণদের প্রায় অর্ধেক এখনও চাকরি খুঁজে পায়নি এবং নারীদের মধ্যে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে আরও দুর্বল বলে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো একটি বিবৃতিতে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাট এই তথ্য তুলে ধরেন। তিন দিনের সফর শেষে তিনি একই দিনে ঢাকাটি ত্যাগ করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত দশ বছরে দেশের শ্রমবাজারে প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ তরুণ প্রবেশ করেছে। এর পরিবর্তে নতুনভাবে সৃষ্টি হওয়া কর্মসংস্থানের সংখ্যা প্রায় ৮৭ লাখে সীমাবদ্ধ থাকায় অনেকেই বেকার থেকে যাচ্ছেন। এই জব ফাঁকটি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিশ্বব্যাংক দেখায় যে কেবল প্রবৃদ্ধি রাখাই যথেষ্ট নয়—প্রবৃদ্ধির সুফল সরাসরি কর্মসংস্থানে পরিণত হতে হবে। সেজন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

ঢাকায় অবস্থানকালে জাট অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব আলোচনায় সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে মতবিনিময় হয়।

বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক উল্লেখ করেছে, সরকার বড় পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক সহযোগিতা জোরদার করবে—বিশেষ করে যুবক ও নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে।

একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার জন্য এবং বাজারে কর্মসংস্থান বাড়াতে কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মুলতুবি থাকা সামষ্টিক অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্বব্যাংকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সদস্য দেশগুলোতে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা হচ্ছে যেখানে বৃদ্ধির ফল সরাসরি কর্মসংস্থানে রূপ নেবে—এ জন্য তারা অবকাঠামো, বিনিয়োগ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বিভিন্ন সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ঈদে সুন্দরবন: চমকপ্রদ ভ্রমণগন্তব্য হতে যাচ্ছে

বিশ্বব্যাংক সতর্ক: বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক তরুণ বেকার

প্রকাশিতঃ ০৭:২৩:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, বাংলাদেশের শ্রমবাজারে যোগ দেওয়া বিপুলসংখ্যক তরুণের বড় অংশই উপযুক্ত কর্মসংস্থান পাচ্ছে না। গত এক দশকে কাজে আসা তরুণদের প্রায় অর্ধেক এখনও চাকরি খুঁজে পায়নি এবং নারীদের মধ্যে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে আরও দুর্বল বলে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো একটি বিবৃতিতে দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাট এই তথ্য তুলে ধরেন। তিন দিনের সফর শেষে তিনি একই দিনে ঢাকাটি ত্যাগ করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত দশ বছরে দেশের শ্রমবাজারে প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ তরুণ প্রবেশ করেছে। এর পরিবর্তে নতুনভাবে সৃষ্টি হওয়া কর্মসংস্থানের সংখ্যা প্রায় ৮৭ লাখে সীমাবদ্ধ থাকায় অনেকেই বেকার থেকে যাচ্ছেন। এই জব ফাঁকটি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিশ্বব্যাংক দেখায় যে কেবল প্রবৃদ্ধি রাখাই যথেষ্ট নয়—প্রবৃদ্ধির সুফল সরাসরি কর্মসংস্থানে পরিণত হতে হবে। সেজন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

ঢাকায় অবস্থানকালে জাট অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব আলোচনায় সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে মতবিনিময় হয়।

বিবৃতিতে বিশ্বব্যাংক উল্লেখ করেছে, সরকার বড় পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক সহযোগিতা জোরদার করবে—বিশেষ করে যুবক ও নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে।

একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার জন্য এবং বাজারে কর্মসংস্থান বাড়াতে কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মুলতুবি থাকা সামষ্টিক অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশ্বব্যাংকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সদস্য দেশগুলোতে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা হচ্ছে যেখানে বৃদ্ধির ফল সরাসরি কর্মসংস্থানে রূপ নেবে—এ জন্য তারা অবকাঠামো, বিনিয়োগ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বিভিন্ন সহায়তা অব্যাহত রাখবে।