১২:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন

আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে স্থিতিশীল হতে পারে

ব্রাজিলভিত্তিক খনি কোম্পানি ভেল বলছে, চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে স্থিতিশীল থাকতে পারে। কোম্পানিটির সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে; বিষয়টি Hellenic Shipping News-এও প্রকাশিত হয়েছে।

ভেলের বিশ্লেষকদের মতে বিশ্ববাজারে সরবরাহ বাড়ার সাথেই চাহিদা কিছুটা ঝড়ে আসায় দাম কিছুটা সীমাবদ্ধ হচ্ছে। গিনির সিমান্ডু খনি থেকে উৎপাদন শুরু হওয়া ও কয়েকটি বড় খেলোয়ারের সরবরাহ বৃদ্ধি মূলতই এই প্রভাব সৃষ্টি করেছে। একই সময়ে চীনে চাহিদা ধীরে ধীরে কমায় বাজারে মূল্য উর্ধগতি সীমিত হচ্ছে।

গুস্তাভো পিমেন্টা, ভেলের প্রধান নির্বাহী, জানান যে খনি খাত এখন বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পুরনো খনিগুলোতে আকরিক উত্তোলন অনেকটাই খরচসাপেক্ষ হয়ে উঠেছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই মজুদ কমে আসায় কোম্পানিগুলোকে নিম্নমানের আকরিক উত্তোলনের দিকে যেতে হচ্ছে। এ কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি মূল্য অনুমান টনপ্রতি ৯০ ডলার থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১০০ ডলারে নেয়া হয়েছে।

রোজারিও নগুয়েরা, ভেলের বাণিজ্যিক ও উন্নয়ন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট, বলেন যে প্রাকৃতিক ক্ষয় ও মজুদ হ্রাসের কারণে প্রত বছর বিশ্বজুড়ে খনিগুলো থেকে আনুমানিক পাঁচ থেকে ছয় কোটি টন উৎপাদন সক্ষমতা হারানো হচ্ছে। এই অনুসন্ধানে এমন একটি ভারসাম্য তৈরি হয়েছে যে ১০০ ডলারের নিচে বিক্রি করলে উৎপাদন আর লাভজনক থাকে না — যা এখন শিল্পের কার্যত ‘ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরিবর্তিত বাজার বাস্তবতায় ভেল তাদের কৌশলেও পরিবর্তন এনেছে। সাধারণ মানের আকরিকের পরিবর্তে তারা এখন উচ্চমানের বা প্রিমিয়াম গ্রেডের আকরিক উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কোম্পানিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সাল নাগাদ তাদের উৎপাদনের বড় অংশ হবে উন্নতমানের ‘পেলেট ফিড’ ও ‘কারাজাস’ ব্র্যান্ডের আকরিক, যা পরিবেশবান্ধব ইস্পাত উৎপাদনে বেশি ব্যবহার করা হয়।

চীনে চাহিদা কিছুটা কমলেও ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশে ইস্পাত খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় ভেল আশা করে যে ঐ অঞ্চলের বাড়তি চাহিদা আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক বাজারে আকরিক লোহার দামের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে কোম্পানিটি ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন এবং লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করারও পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

সংক্ষেপে, সরবরাহ বাড়ার মধ্যেই চাহিদার ধীরগতি এবং খনি খাতে কষ্টসাধ্য পরিবর্তনের কারণে আকরিক লোহার দাম এ বছরে টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি স্থির থাকতে পারে—এটি বর্তমান শিল্প পরিস্থিতির একটি প্রতিফলন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে স্থিতিশীল হতে পারে

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

ব্রাজিলভিত্তিক খনি কোম্পানি ভেল বলছে, চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে স্থিতিশীল থাকতে পারে। কোম্পানিটির সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে; বিষয়টি Hellenic Shipping News-এও প্রকাশিত হয়েছে।

ভেলের বিশ্লেষকদের মতে বিশ্ববাজারে সরবরাহ বাড়ার সাথেই চাহিদা কিছুটা ঝড়ে আসায় দাম কিছুটা সীমাবদ্ধ হচ্ছে। গিনির সিমান্ডু খনি থেকে উৎপাদন শুরু হওয়া ও কয়েকটি বড় খেলোয়ারের সরবরাহ বৃদ্ধি মূলতই এই প্রভাব সৃষ্টি করেছে। একই সময়ে চীনে চাহিদা ধীরে ধীরে কমায় বাজারে মূল্য উর্ধগতি সীমিত হচ্ছে।

গুস্তাভো পিমেন্টা, ভেলের প্রধান নির্বাহী, জানান যে খনি খাত এখন বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পুরনো খনিগুলোতে আকরিক উত্তোলন অনেকটাই খরচসাপেক্ষ হয়ে উঠেছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই মজুদ কমে আসায় কোম্পানিগুলোকে নিম্নমানের আকরিক উত্তোলনের দিকে যেতে হচ্ছে। এ কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি মূল্য অনুমান টনপ্রতি ৯০ ডলার থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১০০ ডলারে নেয়া হয়েছে।

রোজারিও নগুয়েরা, ভেলের বাণিজ্যিক ও উন্নয়ন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট, বলেন যে প্রাকৃতিক ক্ষয় ও মজুদ হ্রাসের কারণে প্রত বছর বিশ্বজুড়ে খনিগুলো থেকে আনুমানিক পাঁচ থেকে ছয় কোটি টন উৎপাদন সক্ষমতা হারানো হচ্ছে। এই অনুসন্ধানে এমন একটি ভারসাম্য তৈরি হয়েছে যে ১০০ ডলারের নিচে বিক্রি করলে উৎপাদন আর লাভজনক থাকে না — যা এখন শিল্পের কার্যত ‘ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরিবর্তিত বাজার বাস্তবতায় ভেল তাদের কৌশলেও পরিবর্তন এনেছে। সাধারণ মানের আকরিকের পরিবর্তে তারা এখন উচ্চমানের বা প্রিমিয়াম গ্রেডের আকরিক উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কোম্পানিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সাল নাগাদ তাদের উৎপাদনের বড় অংশ হবে উন্নতমানের ‘পেলেট ফিড’ ও ‘কারাজাস’ ব্র্যান্ডের আকরিক, যা পরিবেশবান্ধব ইস্পাত উৎপাদনে বেশি ব্যবহার করা হয়।

চীনে চাহিদা কিছুটা কমলেও ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশে ইস্পাত খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় ভেল আশা করে যে ঐ অঞ্চলের বাড়তি চাহিদা আগামী কয়েক বছরে বৈশ্বিক বাজারে আকরিক লোহার দামের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে কোম্পানিটি ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন এবং লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করারও পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

সংক্ষেপে, সরবরাহ বাড়ার মধ্যেই চাহিদার ধীরগতি এবং খনি খাতে কষ্টসাধ্য পরিবর্তনের কারণে আকরিক লোহার দাম এ বছরে টনপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি স্থির থাকতে পারে—এটি বর্তমান শিল্প পরিস্থিতির একটি প্রতিফলন।