০৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

আইইএ’র সতর্কবার্তা: বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি

ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে অন্তত নয়টি দেশে ৪০টির বেশি জ্বালানি সংশ্লিষ্ট স্থাপনা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার আশঙ্কা বেড়েছে। সংস্থাটি মনে করছে, সংঘাত থামলেও ক্ষতিগ্রস্ত তেলক্ষেত্র, শোধনাগার ও পাইপলাইনগুলো আবার পুরোপুরি চালু হতে সময় লাগবে এবং সেই সময়ে বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেন, এই লড়াই মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ‘ওলটপালট’ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘ক্ষতিগ্রস্ত তেলক্ষেত্র, শোধনাগার ও পাইপলাইন পুনরায় চালু করতে বেশ সময় লাগবে। বিশেষ করে মার্চের শুরু থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার ফলে পরিস্থিতি এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’

বিরোল এই সংকটকে অতীতের বড় জ্বালানি সঙ্কটের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি ১৯৭০-এর দশকের দুটি বড় তেলের শক এবং ২০২২ সালের প্রাকৃতিক গ্যাস সংকটের সম্মিশ্র প্রভাবের মতো। তিনি যোগ করেন, এখন শুধু তেল বা গ্যাসই নয় — বিশ্ব অর্থনীতির ধমনি হিসেবে গণ্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটও আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ায় ক্ষতির পরিধি আরও বাড়ছে।

আইইএ এশিয়ার দেশগুলোর ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিরোল বলেন, ‘‘দেশগুলো প্রথমে নিজের স্বার্থকেই দেখবে। কিন্তু যৌক্তিক কারণ ছাড়া রফতানিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করলে তা বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও অস্থির করে তুলবে।’’

সংকট মোকাবিলায় আইইএ জরুরি রিজার্ভ থেকে ৪০ কোটি (৪০০ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সংস্থাটি অতিরিক্ত মজুদ থেকেও সরবরাহ বাড়ানোর কথা ভাবতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার ওপর জোর দিয়ে বলা হয়েছে, এটি দ্রুত সুস্থির করতে আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।

কৌশলগত দিক থেকে দেখা গেলে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অনেক বড়: প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল এই রুটেই পরিবাহিত হয়। মার্চের শুরু থেকে রুটের কার্যত অচল হয়ে পড়ায় জাহাজ চলাচলের খরচ বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে উদ্ভূত ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এই সংকটকে তীব্র করেছে।

আইইএর বার্তা স্পষ্ট: বাজার স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত সংঘাত প্রশমন, হরমুজ রুট পুনরায় সচলকরণ এবং আন্তর্জাতিক সমন্বিত প্রতিক্রিয়া জরুরি। না হলে জ্বালানি সরবরাহের ছেঁড়া ছেঁড়া ভাঁজ বিশ্ব অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ রাখবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

আইইএ’র সতর্কবার্তা: বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে অন্তত নয়টি দেশে ৪০টির বেশি জ্বালানি সংশ্লিষ্ট স্থাপনা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার আশঙ্কা বেড়েছে। সংস্থাটি মনে করছে, সংঘাত থামলেও ক্ষতিগ্রস্ত তেলক্ষেত্র, শোধনাগার ও পাইপলাইনগুলো আবার পুরোপুরি চালু হতে সময় লাগবে এবং সেই সময়ে বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেন, এই লড়াই মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ‘ওলটপালট’ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘ক্ষতিগ্রস্ত তেলক্ষেত্র, শোধনাগার ও পাইপলাইন পুনরায় চালু করতে বেশ সময় লাগবে। বিশেষ করে মার্চের শুরু থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার ফলে পরিস্থিতি এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’

বিরোল এই সংকটকে অতীতের বড় জ্বালানি সঙ্কটের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি ১৯৭০-এর দশকের দুটি বড় তেলের শক এবং ২০২২ সালের প্রাকৃতিক গ্যাস সংকটের সম্মিশ্র প্রভাবের মতো। তিনি যোগ করেন, এখন শুধু তেল বা গ্যাসই নয় — বিশ্ব অর্থনীতির ধমনি হিসেবে গণ্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটও আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ায় ক্ষতির পরিধি আরও বাড়ছে।

আইইএ এশিয়ার দেশগুলোর ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিরোল বলেন, ‘‘দেশগুলো প্রথমে নিজের স্বার্থকেই দেখবে। কিন্তু যৌক্তিক কারণ ছাড়া রফতানিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করলে তা বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও অস্থির করে তুলবে।’’

সংকট মোকাবিলায় আইইএ জরুরি রিজার্ভ থেকে ৪০ কোটি (৪০০ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সংস্থাটি অতিরিক্ত মজুদ থেকেও সরবরাহ বাড়ানোর কথা ভাবতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার ওপর জোর দিয়ে বলা হয়েছে, এটি দ্রুত সুস্থির করতে আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি।

কৌশলগত দিক থেকে দেখা গেলে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অনেক বড়: প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল এই রুটেই পরিবাহিত হয়। মার্চের শুরু থেকে রুটের কার্যত অচল হয়ে পড়ায় জাহাজ চলাচলের খরচ বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে উদ্ভূত ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এই সংকটকে তীব্র করেছে।

আইইএর বার্তা স্পষ্ট: বাজার স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত সংঘাত প্রশমন, হরমুজ রুট পুনরায় সচলকরণ এবং আন্তর্জাতিক সমন্বিত প্রতিক্রিয়া জরুরি। না হলে জ্বালানি সরবরাহের ছেঁড়া ছেঁড়া ভাঁজ বিশ্ব অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ রাখবে।