১১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মালদ্বীপ প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু বাংলাদেশের ৫৫তম স্বাধীনতা দিবসে শুভেচ্ছা দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবি: উদ্ধার ২৬, নিখোঁজদের খোঁজ চলছে হোয়াইট হাউজে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ সামিটে ডা. জুবাইদা রহমান দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: ২৬ মরদেহ উদ্ধার ডেপুটি স্পিকার ও চিফ হুইপ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা স্বাধীনতা দিবসে শি জিনপিংয়ের অভিনন্দন — বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক রাষ্ট্র-রাষ্ট্র মডেলের উদাহরণ স্বাধীনতা দিবসে ভারতের রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী: স্বাধীনতা দিবস আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমকে উজ্জীবিত করে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায়, উদ্ধারকাজ চলছে আঞ্চলিক কার্যালয়েও বায়োমেট্রিক যাচাই শুরু

সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় এশিয়া-প্রশান্তে আর্থিক সহায়তা দেবে এডিবি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও চাপ মোকাবিলায় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য একটি সমন্বিত আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

সংস্থার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অঞ্চলজুড়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এডিবি দ্রুত, কার্যকর ও নমনীয়ভাবে সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজন হলে জরুরি সহায়তা বাড়ানোর সক্ষমতা সংস্থার আছে এবং বিদ্যমান ও পরিকল্পিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল রয়েছে।

এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্ডা জানান, তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক চাপ নিয়ন্ত্রণে এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা জোরদার করতে তারা বিভিন্ন ধরনের অর্থায়ন প্রদান করবে। এর মধ্যে রয়েছে দ্রুত ছাড়যোগ্য বাজেট সহায়তা, বাণিজ্য ও সরবরাহ-শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) অর্থায়ন এবং অন্যান্য সম্প্রসারণ-যোগ্য ফ্যাসিলিটি, যাতে প্রয়োজনীয় পণ্য—বিশেষত জ্বালানি তেল—আমদানি অব্যাহত রাখা যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিশেষ করে জ্বালানির মূল্য ওঠানামা, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে সৃষ্ট চাপ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এডিবি। পরিস্থিতি খারাপ হলে অর্থনৈতিক পরিবেশ কড়া হতে পারে, যা মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধিসহ মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও পুঁজি প্রবাহ বিনিময়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সংস্থার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জাহাজ চলাচলের রুটে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় পরিবহন ব্যয় ও সময় দুটোই বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে পেট্রোকেমিক্যাল, সারসহ গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহ ঝুঁকি বাড়ায় কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনেও চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব কারণে পর্যটন ও প্রবাসী আয়ভিত্তিক অর্থনীতিগুলো বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছে।

এডিবি জানিয়েছে, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সময়োপযোগী আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত। সহায়তার পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে কাউন্টার-সাইক্লিক্যাল ঋণ সুবিধাসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক উপকরণ ব্যবহার করা। এসব সুবিধা অর্থনৈতিক মন্দার সময় দ্রুত বাজেট খরচ সমর্থন করা ও পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করবে।

প্রাথমিকভাবে আর্থিক সংকটে থাকা দেশের জন্য দ্রুত ছাড়যোগ্য বাজেট সহায়তা প্রদান করার কথা বলা হয়েছে। বেসরকারি খাতকে সহায়তা দিয়ে বাণিজ্য ও সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে জ্বালানি ও খাদ্যসহ জরুরি পণ্য আমদানি সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এডিবি সীমিত সময়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় তেল আমদানিতে সহায়তা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ বিঘ্নের প্রভাব কমানো যায়। সংস্থা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে এবং সরকার, উন্নয়ন অংশীদার ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে কাজ করছে।

উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বর্তমানে ৬৯টি সদস্য দেশ আছে, যার মধ্যে ৫০টি দেশ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের। সংস্থাটি টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

মালদ্বীপ প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু বাংলাদেশের ৫৫তম স্বাধীনতা দিবসে শুভেচ্ছা

সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় এশিয়া-প্রশান্তে আর্থিক সহায়তা দেবে এডিবি

প্রকাশিতঃ ০৭:২৫:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও চাপ মোকাবিলায় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য একটি সমন্বিত আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

সংস্থার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অঞ্চলজুড়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এডিবি দ্রুত, কার্যকর ও নমনীয়ভাবে সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজন হলে জরুরি সহায়তা বাড়ানোর সক্ষমতা সংস্থার আছে এবং বিদ্যমান ও পরিকল্পিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল রয়েছে।

এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্ডা জানান, তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক চাপ নিয়ন্ত্রণে এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা জোরদার করতে তারা বিভিন্ন ধরনের অর্থায়ন প্রদান করবে। এর মধ্যে রয়েছে দ্রুত ছাড়যোগ্য বাজেট সহায়তা, বাণিজ্য ও সরবরাহ-শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) অর্থায়ন এবং অন্যান্য সম্প্রসারণ-যোগ্য ফ্যাসিলিটি, যাতে প্রয়োজনীয় পণ্য—বিশেষত জ্বালানি তেল—আমদানি অব্যাহত রাখা যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিশেষ করে জ্বালানির মূল্য ওঠানামা, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে সৃষ্ট চাপ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এডিবি। পরিস্থিতি খারাপ হলে অর্থনৈতিক পরিবেশ কড়া হতে পারে, যা মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধিসহ মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও পুঁজি প্রবাহ বিনিময়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সংস্থার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জাহাজ চলাচলের রুটে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় পরিবহন ব্যয় ও সময় দুটোই বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে পেট্রোকেমিক্যাল, সারসহ গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহ ঝুঁকি বাড়ায় কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনেও চাপ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব কারণে পর্যটন ও প্রবাসী আয়ভিত্তিক অর্থনীতিগুলো বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছে।

এডিবি জানিয়েছে, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সময়োপযোগী আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত। সহায়তার পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে কাউন্টার-সাইক্লিক্যাল ঋণ সুবিধাসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক উপকরণ ব্যবহার করা। এসব সুবিধা অর্থনৈতিক মন্দার সময় দ্রুত বাজেট খরচ সমর্থন করা ও পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করবে।

প্রাথমিকভাবে আর্থিক সংকটে থাকা দেশের জন্য দ্রুত ছাড়যোগ্য বাজেট সহায়তা প্রদান করার কথা বলা হয়েছে। বেসরকারি খাতকে সহায়তা দিয়ে বাণিজ্য ও সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে জ্বালানি ও খাদ্যসহ জরুরি পণ্য আমদানি সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এডিবি সীমিত সময়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় তেল আমদানিতে সহায়তা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ বিঘ্নের প্রভাব কমানো যায়। সংস্থা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে এবং সরকার, উন্নয়ন অংশীদার ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে কাজ করছে।

উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বর্তমানে ৬৯টি সদস্য দেশ আছে, যার মধ্যে ৫০টি দেশ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের। সংস্থাটি টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে।