১১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত: বিশ্বজুড়ে খাদ্যদামের উত্থান অপতথ্য রোধে পুরোনো কাঠামোতে আমূল সংস্কার জরুরি: তথ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথমবারের বৈঠক—গঠিত হচ্ছে ‘বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদ’ জ্বালানি সংকটে অফিসঘণ্টা বদল, সন্ধ্যা ৬টার পর মার্কেট বন্ধের নির্দেশ ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জে অর্থনীতি: জ্বালানি, মূল্যস্ফীতি ও ডলারের চাপ জ্বালানি সঙ্কটে অফিস সময় বদল — সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা জ্বালানি সাশ্রয়ে রাত ৮টার মধ্যে দোকান-শপিংমল বন্ধের ঘোষণা হরমুজ এড়িয়ে ইয়ানবু থেকে বিকল্প পথে ১ লক্ষ টন তেল চট্টগ্রামে আসছে সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী নিযুক্ত দেশে ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র, মোট ক্ষমতা ২৮,৯১৯ মেগাওয়াট: বিদ্যুৎমন্ত্রী

তামাক কর কাঠামো সংস্কারে জোর—টেকসই, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতির দাবি

তামাক খাতে করনীতি সহজ, স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন। তাদের মতে, এমন একটি বাস্তবসম্মত কর কাঠামো দরকার যা রাজস্ব আয়ের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা ও সামগ্রিক অর্থনীতিকেও সহায়তা করবে।

বুধবার (০১ মার্চ) রাজধানীর বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) কার্যালয়ে ‘তামাক কর: স্বল্পমেয়াদি রাজস্ব বনাম দীর্ঘমেয়াদি টেকসইতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে। অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের একজন প্রতিনিধি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন পিআরআইর গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার এবং আলোচনা সঞ্চালনা করেন পিআরআইর মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান।

প্রতিবেদন থেকে জানানো হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে তামাক পণ্যের ওপর কর ও মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও রাজস্বের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি তেমন বেড়ে ওঠেনি। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুন ও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কর ও মূল্যবৃদ্ধির পর বাজারে সিগারেট বিক্রি কমে যায় এবং এর প্রভাবেই রাজস্ব বৃদ্ধির সীমাবদ্ধতা দেখা গেছে।

তথ্যে বলা হয়, দেশে তামাকের ওপর করের হার প্রায় ৮৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যা বিশ্বমানের তুলনায় অত্যন্ত উচ্চ। এই অবস্থায় শুধুমাত্র কর বাড়িয়ে আর্থিক সংগ্রহ বাড়ানোর সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। পাশাপাশি আকস্মিক কর ও দাম পরিবর্তন বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং অবৈধ বাণিজ্যকে বাড়াচ্ছে।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা দ্রæত পরিবর্তনশীল নীতির বদলে একটি কাঠামোগত ও পূর্বানুমানযোগ্য করনীতি গড়ে তোলার পরামর্শ দেন, যাতে রাজস্ব আহরণ ও বাজার স্থিতিশীলতার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় থাকে। তারা বলেন, ঘন ঘন কর ও মূল্য পরিবর্তন ভোক্তাদের সস্তা বিকল্পের দিকে ঠেলে দেয় এবং ব্যবসায়ীদের জন্য অনিশ্চয়তা বাড়ায়। বহুতল বা জটিল কর কাঠামোর কারণে রাজস্ব পূর্বাভাস করা দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়ে।

বক্তারা সুপারিশ করেন ধাপে ধাপে মূল্যভিত্তিক (অ্যাড ভ্যালোরেম) কর থেকে সুনির্দিষ্ট (পার-ইউনিট) কর পদ্ধতিতে রূপান্তর ঘটাতে, কারণ সুনির্দিষ্ট কর বাস্তবায়নে সহজ এবং রাজস্ব আদায়ে সহায়ক। তাছাড়া অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো, বাজার তদারকি জোরদার করা এবং উৎপাদন পর্যায়ে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। তারা সতর্ক করেন যে বর্তমান কাঠামোর ফলে বৈধ উৎপাদকদের মুনাফা কমে যাওয়ায় অবৈধ কর্মকাণ্ড তুলনামূলকভাবে লাভজনক হয়ে উঠছে।

সবশেষে অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ সহায়তা এবং সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এখনই একটি ভারসাম্যপূর্ণ, স্বচ্ছ ও দূরদর্শী তামাক কর কাঠামো গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

অপতথ্য রোধে পুরোনো কাঠামোতে আমূল সংস্কার জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

তামাক কর কাঠামো সংস্কারে জোর—টেকসই, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতির দাবি

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

তামাক খাতে করনীতি সহজ, স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন। তাদের মতে, এমন একটি বাস্তবসম্মত কর কাঠামো দরকার যা রাজস্ব আয়ের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা ও সামগ্রিক অর্থনীতিকেও সহায়তা করবে।

বুধবার (০১ মার্চ) রাজধানীর বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) কার্যালয়ে ‘তামাক কর: স্বল্পমেয়াদি রাজস্ব বনাম দীর্ঘমেয়াদি টেকসইতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে। অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের একজন প্রতিনিধি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন পিআরআইর গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার এবং আলোচনা সঞ্চালনা করেন পিআরআইর মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান।

প্রতিবেদন থেকে জানানো হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে তামাক পণ্যের ওপর কর ও মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও রাজস্বের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি তেমন বেড়ে ওঠেনি। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুন ও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কর ও মূল্যবৃদ্ধির পর বাজারে সিগারেট বিক্রি কমে যায় এবং এর প্রভাবেই রাজস্ব বৃদ্ধির সীমাবদ্ধতা দেখা গেছে।

তথ্যে বলা হয়, দেশে তামাকের ওপর করের হার প্রায় ৮৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যা বিশ্বমানের তুলনায় অত্যন্ত উচ্চ। এই অবস্থায় শুধুমাত্র কর বাড়িয়ে আর্থিক সংগ্রহ বাড়ানোর সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। পাশাপাশি আকস্মিক কর ও দাম পরিবর্তন বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে এবং অবৈধ বাণিজ্যকে বাড়াচ্ছে।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা দ্রæত পরিবর্তনশীল নীতির বদলে একটি কাঠামোগত ও পূর্বানুমানযোগ্য করনীতি গড়ে তোলার পরামর্শ দেন, যাতে রাজস্ব আহরণ ও বাজার স্থিতিশীলতার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় থাকে। তারা বলেন, ঘন ঘন কর ও মূল্য পরিবর্তন ভোক্তাদের সস্তা বিকল্পের দিকে ঠেলে দেয় এবং ব্যবসায়ীদের জন্য অনিশ্চয়তা বাড়ায়। বহুতল বা জটিল কর কাঠামোর কারণে রাজস্ব পূর্বাভাস করা দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়ে।

বক্তারা সুপারিশ করেন ধাপে ধাপে মূল্যভিত্তিক (অ্যাড ভ্যালোরেম) কর থেকে সুনির্দিষ্ট (পার-ইউনিট) কর পদ্ধতিতে রূপান্তর ঘটাতে, কারণ সুনির্দিষ্ট কর বাস্তবায়নে সহজ এবং রাজস্ব আদায়ে সহায়ক। তাছাড়া অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো, বাজার তদারকি জোরদার করা এবং উৎপাদন পর্যায়ে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। তারা সতর্ক করেন যে বর্তমান কাঠামোর ফলে বৈধ উৎপাদকদের মুনাফা কমে যাওয়ায় অবৈধ কর্মকাণ্ড তুলনামূলকভাবে লাভজনক হয়ে উঠছে।

সবশেষে অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ সহায়তা এবং সামগ্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এখনই একটি ভারসাম্যপূর্ণ, স্বচ্ছ ও দূরদর্শী তামাক কর কাঠামো গ্রহণ করা প্রয়োজন।