০২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ইরান সংঘাতে এখনও পর্যন্ত ৬ প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর, শাস্তির বিধান যোগের প্রস্তুতি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত: বিশ্বজুড়ে খাদ্যদামের উত্থান অপতথ্য রোধে পুরোনো কাঠামোতে আমূল সংস্কার জরুরি: তথ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথমবারের বৈঠক—গঠিত হচ্ছে ‘বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদ’ জ্বালানি সংকটে অফিসঘণ্টা বদল, সন্ধ্যা ৬টার পর মার্কেট বন্ধের নির্দেশ ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জে অর্থনীতি: জ্বালানি, মূল্যস্ফীতি ও ডলারের চাপ জ্বালানি সঙ্কটে অফিস সময় বদল — সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা জ্বালানি সাশ্রয়ে রাত ৮টার মধ্যে দোকান-শপিংমল বন্ধের ঘোষণা হরমুজ এড়িয়ে ইয়ানবু থেকে বিকল্প পথে ১ লক্ষ টন তেল চট্টগ্রামে আসছে

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এক মাসে: পেন্টাগন জানিয়েছে ১৩ নিহত, ৩৬৫ আহত

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত এক মাসে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন শুক্রবার তাদের সর্বশেষ ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে; সেখানে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সৈন্য নিহত এবং মোট ৩৬৫ জন আহত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাও এই তথ্যের স্বপক্ষে প্রতিবেদন করেছে।

পেন্টাগনের দেওয়া বিস্তারিত সংখ্যাগোষ্ঠী অনুযায়ী আহত ৩৬৫ জনের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ সেনা বাহিনীর। তালিকায় রয়েছে মার্কিন স্থলবাহিনীর ২৪৭ জন, নৌবাহিনীর ৬৩ জন, বিমান বাহিনীর ৩৬ জন এবং মেরিন কোরের ১৯ জন সদস্য। আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও ব্যাপক সামরিক উপস্থিতির পরও এত উচ্চমাত্রার হতাহতের খবর পেন্টাগনের কৌশল ও পরিচালনায় নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ হলো—গতকালই ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তারা দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তবে পেন্টাগন এখনও এ ঘটনায় পাইলট বা ক্রু সদস্যদের নিহত বা আহত হওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি। বিমান বিধ্বংসে যারা লিপ্ত ছিলেন তাদের উদ্ধারপ্রক্রিয়া বা তাদের বর্তমান অবস্থাও রিপোর্টে নির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি, ফলে বাস্তব ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মূল্যায়ন করছেন।

সংঘাতটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে এখন দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। ইরানের মূল ভূখণ্ডে আঘাত ও তাতে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মেলবন্ধন—বিশেষত ড্রোন হামলা—যুক্তরাষ্ট্রি বাহিনীর ওপর ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি তৈরি করছে।

ওয়াশিংটনেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার ঘোষণা দিচ্ছেন, তখন মাঠপর্যায় থেকে আসা এই হতাহতের খবর প্রশাসনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। সামরিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে আগামী দিনগুলোতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পেন্টাগন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো থেকে আসা এ তথ্যের আরও যাচাই-বাছাই চলমান; পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে, তাই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষাই আছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইরান দাবি: তেল আবিবে মোসাদের সদরদপ্তরে সুনির্দিষ্ট হামলা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এক মাসে: পেন্টাগন জানিয়েছে ১৩ নিহত, ৩৬৫ আহত

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত এক মাসে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন শুক্রবার তাদের সর্বশেষ ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে; সেখানে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন মার্কিন সৈন্য নিহত এবং মোট ৩৬৫ জন আহত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাও এই তথ্যের স্বপক্ষে প্রতিবেদন করেছে।

পেন্টাগনের দেওয়া বিস্তারিত সংখ্যাগোষ্ঠী অনুযায়ী আহত ৩৬৫ জনের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ সেনা বাহিনীর। তালিকায় রয়েছে মার্কিন স্থলবাহিনীর ২৪৭ জন, নৌবাহিনীর ৬৩ জন, বিমান বাহিনীর ৩৬ জন এবং মেরিন কোরের ১৯ জন সদস্য। আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও ব্যাপক সামরিক উপস্থিতির পরও এত উচ্চমাত্রার হতাহতের খবর পেন্টাগনের কৌশল ও পরিচালনায় নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ হলো—গতকালই ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তারা দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তবে পেন্টাগন এখনও এ ঘটনায় পাইলট বা ক্রু সদস্যদের নিহত বা আহত হওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি। বিমান বিধ্বংসে যারা লিপ্ত ছিলেন তাদের উদ্ধারপ্রক্রিয়া বা তাদের বর্তমান অবস্থাও রিপোর্টে নির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি, ফলে বাস্তব ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মূল্যায়ন করছেন।

সংঘাতটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে এখন দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। ইরানের মূল ভূখণ্ডে আঘাত ও তাতে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মেলবন্ধন—বিশেষত ড্রোন হামলা—যুক্তরাষ্ট্রি বাহিনীর ওপর ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি তৈরি করছে।

ওয়াশিংটনেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার ঘোষণা দিচ্ছেন, তখন মাঠপর্যায় থেকে আসা এই হতাহতের খবর প্রশাসনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। সামরিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে আগামী দিনগুলোতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পেন্টাগন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো থেকে আসা এ তথ্যের আরও যাচাই-বাছাই চলমান; পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে, তাই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষাই আছে।