জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার নতুন অফিস সময়সূচি এবং ব্যাংক ও শেয়ারবাজারের লেনদেন সময় বদলানোর পর থেকেই রবিবার (৫ এপ্রিল) দেশের পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম উভয় বিনিময়ে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমে সূচকগুলি বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করেছে এবং লেনদেনও সংকুচিত হয়েছে।
লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বাজারে ব্যাপক চাপ পড়ে। সুবিধাজনক মার্জিন না পাওয়ার আশঙ্কায় বেশির ভাগ শেয়ারের দর নেমে আসে এবং সূচক দ্রুত ঋণাত্মক রূপ নেয়। দিনের পর্দা নামা পর্যন্ত পতনের ধারা অব্যাহত থাকে এবং শেষ পর্যায়ে তা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
ডিএসইতে দিনের শেষে মাত্র ২৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ে, বিপরীতে ৩৫৪টির দাম কমে এবং ১১টির দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। লভ্যাংশভিত্তিক শ্রেণীকরণেও ক্ষতিই বেশি—ভালো লভ্যাংশ প্রদানের তালিকার ১৭টির দাম বাড়লেও ১৭৮টির দাম কমেছে এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি লভ্যাংশ দেওয়ার কোম্পানির মধ্যে ৪টির দাম বাড়ায়, ৭৫টির কমে এবং ১টির অপরিবর্তিত থাকে। ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪টির দাম বাড়লেও ১০১টির কমেছে এবং ২টির দামে পরিবর্তন হয়নি। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১টির দাম বেড়েছে, ৩০টির কমেছে এবং ৩টি অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাজারের উল্লেখযোগ্য পতনের কারণে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০৭ পয়েন্ট কমে ৫,১১২ পয়েন্টে নেমে আসে। শরিয়াহ ভিত্তিক সূচক ১৮ পয়েন্ট কমে ১,০৪১ পয়েন্টে দাঁড়ায় এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩৫ পয়েন্ট পড়ে ১,৯৪৫ পয়েন্টে নেমে আসে।
লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন ছিল ৫১১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় প্রায় ১১৪ কোটি টাকা কম। লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষে ছিল এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ (১৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা), এরপর অবস্থান নিয়েছে একমি পেস্টিসাইড ও সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট। শীর্ষ লেনদেন তালিকায় আরও ছিল ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, ওরিয়ন ইনফিউশন, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, জনতা ইন্স্যুরেন্স, ফাইন ফুডস এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধরনের ঝ_shutdown: সিএএসপিআই সূচক ২২৮ পয়েন্ট কমেছে। মার্কেটে তালিকাভুক্ত ১৯০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৩টির দাম বেড়েছে, ১৪৮টির কমেছে এবং ৯টির দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। চট্টগ্রামে মোট লেনদেন হয়েছে ৪৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারে এই নেতিবাচক মনোভাবের পেছনে সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে ব্যবসার গতিবিধি ও তরলতা অনিশ্চিত হওয়া একটি কারণ। বিনিয়োগকারীরা আপাতত বাজার পরিস্থিতি লক্ষ্য রেখে সূচক ও কোম্পানির চলমান খতিয়ান পর্যালোচনা করছেন।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























