০৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
চলতি ও আগামী মাসে দেশে আসছে আরও ১৬ কার্গো এলএনজি ৭ নভেম্বর পুনরায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ঘোষণা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়ান ওয়াওয়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ টাইমের ‘বিশ্বের সেরা ১০০’ তালিকায় জায়গা পেয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন এপ্রিলেই ভারত থেকে আরও ১৭ হাজার টন ডিজেল আসছে অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বদলি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি এজেক প্লাস সম্মেলনে বক্তব্য রাখলেন কক্সবাজার থেকে শিগগিরই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু হবে: বিমানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা: ১ জুলাই থেকে পাঁচ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি শুরু প্রধানমন্ত্রী জানালেন: সরকারি ৫ লাখ কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত

জিলংয়ের ভিভা এনার্জি শোধনাগারে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড, জ্বালানি ব্যবস্থা উদ্বিগ্ন

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়েছে। মেলবোর্নের কাছাকাছি জিলংয়ের কোরিও এলাকায় অবস্থিত ভিভা এনার্জির একটি প্রধান তেল শোধনাগারে বুধবার মধ্যরাতের ঠিক আগে ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ড ও শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনা দেশটির অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থাকে নতুন করে কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলতে পারে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বুধবার রাতে এক কাপকর্ণকর বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মুহূর্তের মধ্যে শোধনাগারটিতে আগুন লেগে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত দমকল বাহিনী ও জরুরি সেবা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। লেলিহান শিখা এতটাই তীব্র ছিল যে তা নেভাতে বহুক্ষণ যুদ্ধ করে উদ্ধারকারীরা। টানা প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর—বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে—আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। বড় স্বস্তির বিষয় হলো, দুর্ঘটনার সময় শোধনাগারে কর্মরত সকলকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া গেছে এবং কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

এই শোধনাগারটি ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের জ্বালানি চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি মেটায় এবং জাতীয়ভাবে মোট জ্বালানির প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ করে, ফলে এর ভূমিকা অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন এক বিবৃতিতে বলেন যে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ফলে পেট্রোল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবুও দেশের বিমান চলাচল ও জরুরি পরিবহন সচল রাখতে ডিজেল ও জেট ফুয়েল সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

অর্থনৈতিক ও জ্বালানি বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন যে, বিশ্ববাজারে আগে থেকেই চলমান উত্তেজনা ও সরবরাহবাধার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনার প্রভাব বড়ভাবে পড়তে পারে। শোধনাগারটি অচল হলে দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট ও খুচরা বাজারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া সরকার জরুরি মজুদ ব্যবহার এবং বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। আপাতত শোধনাগার পুনর্সচল করতে কত দিন লাগবে সে বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি দেয়া হয়নি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

৭ নভেম্বর পুনরায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ঘোষণা

জিলংয়ের ভিভা এনার্জি শোধনাগারে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড, জ্বালানি ব্যবস্থা উদ্বিগ্ন

প্রকাশিতঃ ০২:২৬:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়ায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়েছে। মেলবোর্নের কাছাকাছি জিলংয়ের কোরিও এলাকায় অবস্থিত ভিভা এনার্জির একটি প্রধান তেল শোধনাগারে বুধবার মধ্যরাতের ঠিক আগে ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ড ও শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনা দেশটির অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থাকে নতুন করে কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলতে পারে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বুধবার রাতে এক কাপকর্ণকর বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মুহূর্তের মধ্যে শোধনাগারটিতে আগুন লেগে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত দমকল বাহিনী ও জরুরি সেবা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। লেলিহান শিখা এতটাই তীব্র ছিল যে তা নেভাতে বহুক্ষণ যুদ্ধ করে উদ্ধারকারীরা। টানা প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর—বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে—আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। বড় স্বস্তির বিষয় হলো, দুর্ঘটনার সময় শোধনাগারে কর্মরত সকলকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া গেছে এবং কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

এই শোধনাগারটি ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের জ্বালানি চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি মেটায় এবং জাতীয়ভাবে মোট জ্বালানির প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ করে, ফলে এর ভূমিকা অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন এক বিবৃতিতে বলেন যে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ফলে পেট্রোল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবুও দেশের বিমান চলাচল ও জরুরি পরিবহন সচল রাখতে ডিজেল ও জেট ফুয়েল সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

অর্থনৈতিক ও জ্বালানি বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন যে, বিশ্ববাজারে আগে থেকেই চলমান উত্তেজনা ও সরবরাহবাধার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনার প্রভাব বড়ভাবে পড়তে পারে। শোধনাগারটি অচল হলে দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট ও খুচরা বাজারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া সরকার জরুরি মজুদ ব্যবহার এবং বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। আপাতত শোধনাগার পুনর্সচল করতে কত দিন লাগবে সে বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি দেয়া হয়নি।