০২:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন

উদ্বোধন হলো দেশের প্রথম বেসরকারি কনটেইনার বন্দর এমজিএইচ টার্মিনাল

দেশের প্রথম বেসরকারি কনটেইনার বন্দর ‘এমজিএইচ টার্মিনাল’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। এমজিএইচ শিপিং কোম্পানির উদ্যোগে নির্মিত এই টার্মিনালটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) বোর্ডরুমে আয়োজন করা এক রঙিন অনুষ্ঠানে চুক্তিসহ উদ্বোধন করা হয়, যেখানে বন্দর ও সংশ্লিষ্ট খাতের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে চবকের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান ও এমজিএইচ গ্রুপের সিইও আনিস আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন। কর্মকর্তারা জানায়, সাত একর জমির ওপর নির্মিত এই আধুনিক টার্মিনালে ২৫০ মিটার দীর্ঘ একটি জেটি রয়েছে। টার্মিনালের এককালীন ধারণক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টিইইউএস, আর মাসিক হ্যান্ডলিং লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টিইইউএস। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার খালাস ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং প্রতি মাসে প্রায় ১০২টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এমজিএইচ টার্মিনালকে দেশের প্রথম ‘গ্রিন পোর্ট’ বা পরিবেশবান্ধব বন্দর হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। টার্মিনালটি জিরো-এমিশন নীতিতে পরিচালিত হবে—কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সব সরঞ্জাম ও প্রাইম মুভারগুলো সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত। সোলার রোড প্যানেল ও সোলার ফেন্সিংয়ের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থা থাকায় বছরের আনুমানিক ২ হাজার ৭০০ টন কার্বন নির্গমন কমানো সম্ভব হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

অবস্থানগত সুবিধার কারণে মোহনাগামী জাহাজগুলো টার্মিনালে পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট সময় লাগবে, যেখানে মূল চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ভিড়তে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নেয়। ফলে প্রতিটি জাহাজে অন্তত দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত সময় সাশ্রয় হবে, যা জাহাজপ্রতি প্রায় ০.৬ থেকে ১.৩ টন জ্বালানি সাশ্রয়ের সমতুল্য হবে। এ সুবিধা আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য শিল্পগত ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এমজিএইচ গ্রুপের সিইও আনিস আহমেদ জানান, সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এই টার্মিনাল নির্মাণে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। তিনি বলেন, লক্ষ্য সর্বোচ্চ দক্ষতা নিশ্চিত করে দেশের লজিস্টিকস খাতকে আধুনিক ও গতিশীল করা। চবকের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান উল্লেখ করেন যে, বেসরকারি খাতের দক্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সংযুক্তি বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমজিএইচ গ্রুপের এই বিনিয়োগ সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, লজিস্টিকস দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে টার্মিনালটি বাংলাদেশের সবুজ অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির লক্ষ্যের সঙ্গে খাপ খাবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট

উদ্বোধন হলো দেশের প্রথম বেসরকারি কনটেইনার বন্দর এমজিএইচ টার্মিনাল

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

দেশের প্রথম বেসরকারি কনটেইনার বন্দর ‘এমজিএইচ টার্মিনাল’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। এমজিএইচ শিপিং কোম্পানির উদ্যোগে নির্মিত এই টার্মিনালটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) বোর্ডরুমে আয়োজন করা এক রঙিন অনুষ্ঠানে চুক্তিসহ উদ্বোধন করা হয়, যেখানে বন্দর ও সংশ্লিষ্ট খাতের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে চবকের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান ও এমজিএইচ গ্রুপের সিইও আনিস আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন। কর্মকর্তারা জানায়, সাত একর জমির ওপর নির্মিত এই আধুনিক টার্মিনালে ২৫০ মিটার দীর্ঘ একটি জেটি রয়েছে। টার্মিনালের এককালীন ধারণক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টিইইউএস, আর মাসিক হ্যান্ডলিং লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টিইইউএস। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার খালাস ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং প্রতি মাসে প্রায় ১০২টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এমজিএইচ টার্মিনালকে দেশের প্রথম ‘গ্রিন পোর্ট’ বা পরিবেশবান্ধব বন্দর হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। টার্মিনালটি জিরো-এমিশন নীতিতে পরিচালিত হবে—কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সব সরঞ্জাম ও প্রাইম মুভারগুলো সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত। সোলার রোড প্যানেল ও সোলার ফেন্সিংয়ের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থা থাকায় বছরের আনুমানিক ২ হাজার ৭০০ টন কার্বন নির্গমন কমানো সম্ভব হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

অবস্থানগত সুবিধার কারণে মোহনাগামী জাহাজগুলো টার্মিনালে পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট সময় লাগবে, যেখানে মূল চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ভিড়তে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নেয়। ফলে প্রতিটি জাহাজে অন্তত দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত সময় সাশ্রয় হবে, যা জাহাজপ্রতি প্রায় ০.৬ থেকে ১.৩ টন জ্বালানি সাশ্রয়ের সমতুল্য হবে। এ সুবিধা আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য শিল্পগত ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এমজিএইচ গ্রুপের সিইও আনিস আহমেদ জানান, সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এই টার্মিনাল নির্মাণে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। তিনি বলেন, লক্ষ্য সর্বোচ্চ দক্ষতা নিশ্চিত করে দেশের লজিস্টিকস খাতকে আধুনিক ও গতিশীল করা। চবকের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মনিরুজ্জামান উল্লেখ করেন যে, বেসরকারি খাতের দক্ষতা ও আধুনিক প্রযুক্তির সংযুক্তি বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমজিএইচ গ্রুপের এই বিনিয়োগ সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, লজিস্টিকস দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে টার্মিনালটি বাংলাদেশের সবুজ অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির লক্ষ্যের সঙ্গে খাপ খাবে।