০৫:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
প্রধানমন্ত্রীর πολιটিক্যাল ও কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি জ্বালানির দর বাড়লেই নিত্যপণ্যের দাম সামঞ্জস্য করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা কারিগরি ত্রুটিতে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, দক্ষিণ ঢাকাসহ গ্যাস সংকট বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থি: অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধ হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ণ করবে। তিনি সতর্ক করেন যে এই চুক্তি কেবল বাণিজ্য নয়, ওপর থেকে নীতিনির্ধারণে এশিয়ার ছোট দেশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের একটি পথে পরিনত হতে পারে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির উদ্যোগে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সভা মাহতাবউদ্দিন আহমেদ সঞ্চালনা করেন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ সভার সভাপতিত্ব করেন। এতে ময়মনসিংহ জেলার প্রতিনিধি আবুল কালাম আল আজাদ, শিক্ষক ও গবেষক মাহা মির্জা এবং ডা. হারুন-অর-রশীদসহ অন্যান্য কণ্ঠও বক্তৃতা দেন।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ জানান, এই ধরনের চুক্তির ফলে বাংলাদেশে মার্কিন কিংবা নির্দিষ্ট উৎস থেকে নির্দিষ্ট পণ্যের আমদানির চাপ তৈরি হবে—যেগুলো বাস্তবে দেশের প্রয়োজন নয়। এমন চুক্তি হলে আমরা হয়তো বাইরে থেকে কিছু পণ্য কম দামে কেনার সুযোগ হারাব এবং নির্দিষ্ট উৎস থেকে বেশি দামে আমদানি করতে বাধ্য হব, যা বাড়তি ব্যয় ও বাজারবিকৃতি ডেকে আনবে।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হচ্ছে স্বাধীন নীতিনির্ধারণের সংকোচ। কোন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করবে, কোথা থেকে প্রতিরক্ষা সামগ্রী কিনবে—এসব সিদ্ধান্ত যদি চুক্তির শর্তে বাঁধা পড়ে তাহলে দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ডা. হারুন-অর-রশীদ বলেন, এই চুক্তি দেশের ওষুধ শিল্পের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনে যে সক্ষমতা বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে তা অনেকটাই নমনীয় পেটেন্ট নীতির ফল। চুক্তির মাধ্যমে কঠোর মেধাস্বত্ব নিয়ম আরোপ এলে দেশীয় কোম্পানিগুলো সহজে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন করতে পারবে না এবং ওষুধের মূল্য বাড়তে পারে।

গবেষক মাহা মির্জা বলেন, চুক্তিটি স্থানীয় শিল্প ও ক্ষুদ্র ও কুটির খাতকে মারাত্মকভাবে আঘাত করবে। বিশেষ করে পোল্ট্রি ও অন্যান্য স্থানীয় শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং গরিব মানুষের রুটিজীবিকা বিপন্ন হবে। তিনি যোগ করেন, জনস্বার্থবিরোধী চুক্তির মাধ্যমে কোনও সরকার দীর্ঘদিন জনগণের আস্থা রেখে টিকে থাকতে পারবে না।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিরোধী দলগুলোরকেও এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে দেশের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা না করে প্রবাসী ও বিদেশী আদেশ মেনে চললে দেশের সার্বভৌমতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারই ক্ষয় হবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

আইএফআইসি নেতৃত্বে পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ সম্প্রসারণ কর্মসূচি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থি: অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ

প্রকাশিতঃ ০২:২৭:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধ হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ণ করবে। তিনি সতর্ক করেন যে এই চুক্তি কেবল বাণিজ্য নয়, ওপর থেকে নীতিনির্ধারণে এশিয়ার ছোট দেশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের একটি পথে পরিনত হতে পারে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির উদ্যোগে মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিলের দাবিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সভা মাহতাবউদ্দিন আহমেদ সঞ্চালনা করেন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ সভার সভাপতিত্ব করেন। এতে ময়মনসিংহ জেলার প্রতিনিধি আবুল কালাম আল আজাদ, শিক্ষক ও গবেষক মাহা মির্জা এবং ডা. হারুন-অর-রশীদসহ অন্যান্য কণ্ঠও বক্তৃতা দেন।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ জানান, এই ধরনের চুক্তির ফলে বাংলাদেশে মার্কিন কিংবা নির্দিষ্ট উৎস থেকে নির্দিষ্ট পণ্যের আমদানির চাপ তৈরি হবে—যেগুলো বাস্তবে দেশের প্রয়োজন নয়। এমন চুক্তি হলে আমরা হয়তো বাইরে থেকে কিছু পণ্য কম দামে কেনার সুযোগ হারাব এবং নির্দিষ্ট উৎস থেকে বেশি দামে আমদানি করতে বাধ্য হব, যা বাড়তি ব্যয় ও বাজারবিকৃতি ডেকে আনবে।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হচ্ছে স্বাধীন নীতিনির্ধারণের সংকোচ। কোন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করবে, কোথা থেকে প্রতিরক্ষা সামগ্রী কিনবে—এসব সিদ্ধান্ত যদি চুক্তির শর্তে বাঁধা পড়ে তাহলে দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ডা. হারুন-অর-রশীদ বলেন, এই চুক্তি দেশের ওষুধ শিল্পের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনে যে সক্ষমতা বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে তা অনেকটাই নমনীয় পেটেন্ট নীতির ফল। চুক্তির মাধ্যমে কঠোর মেধাস্বত্ব নিয়ম আরোপ এলে দেশীয় কোম্পানিগুলো সহজে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন করতে পারবে না এবং ওষুধের মূল্য বাড়তে পারে।

গবেষক মাহা মির্জা বলেন, চুক্তিটি স্থানীয় শিল্প ও ক্ষুদ্র ও কুটির খাতকে মারাত্মকভাবে আঘাত করবে। বিশেষ করে পোল্ট্রি ও অন্যান্য স্থানীয় শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং গরিব মানুষের রুটিজীবিকা বিপন্ন হবে। তিনি যোগ করেন, জনস্বার্থবিরোধী চুক্তির মাধ্যমে কোনও সরকার দীর্ঘদিন জনগণের আস্থা রেখে টিকে থাকতে পারবে না।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিরোধী দলগুলোরকেও এই বাস্তবতা উপলব্ধি করে দেশের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা না করে প্রবাসী ও বিদেশী আদেশ মেনে চললে দেশের সার্বভৌমতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারই ক্ষয় হবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।