০৮:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাস: জ্বালানি দাম বাড়লেও পণ্যের মূল্য বেশি বাড়বে না তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থী: আনু মুহাম্মদ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্যচুক্তি প্রস্তাবনা চলছে তা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থের বিরোধী হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই চুক্তির ফলে দেশের সঙ্গে এমন কিছু দেশের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ লাভজনক ও প্রয়োজনীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে না। এরপর এটি আর কেবল একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়—এটি দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন নীতিনির্ধারণে সরাসরি হস্তক্ষেপের একটি মাধ্যম হয়ে দাঁড়াবে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর शाहবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির আয়োজনের সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অধিকারকর্মী মাহতাবউদ্দিন আহমেদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে ময়মনসিংহ জেলার প্রতিনিধি আবুল কালাম আল আজাদ, গবেষক ও শিক্ষক মাহা মির্জা এবং ডা. হারুন-অর-রশীদ বক্তব্য রাখেন। তারা একযোগে এই চুক্তির বিরোধিতা করেন এবং বাতিলের দাবি জানান।

আনু মুহাম্মদ বলেন, এই ধরনের চুক্তির ফলে দেশে অনাচ্ছাকৃত পণ্য আমদানি বাড়বে—অনেক পণ্যই বাস্তবে আমাদের প্রয়োজনীয় নয়। এমনকি আমরা অন্য কোথাও থেকেও সস্তায় পণ্য বা কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারলে তা থেকে বাধ্য হয়ে নির্দিষ্ট উৎস থেকে বেশি দামে নেওয়ার পৃষ্ঠপোষকতা করা হতে পারে। এতে ব্যয় বাড়বে, স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা বিকৃত হবে এবং দেশের অর্থনীতি অযৌক্তিক চাপের মুখে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল স্বাধীন বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সংকুচিত হওয়া। কোন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করা হবে বা কোথা থেকে প্রতিরক্ষাসামগ্রী কেনা হবে—এসব নীতিনির্ধারণ যে সব চুক্তির শর্তে বিদেশি স্বার্থের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে, তা দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর।

ডা. হারুন-অর-রশীদ সমাবেশে বলেন, এই চুক্তি দেশের ওষুধ শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি দাবি করে দিয়েছেন। বর্তমানে দেশে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পেটেন্ট নীতির নমনীয়তার কারণে হয়েছে। তবে কড়া মেধাস্বত্ত্ব সংক্রান্ত শর্ত আরোপ হলে দেশীয় কোম্পানিগুলো আর সহজে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন করতে পারবে না, যা জনগণের জন্য ওষুধের দাম বাড়িয়ে দেবে এবং স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

গবেষক মাহা মির্জা বলেন, এই চুক্তি স্থানীয় শিল্পখাত — বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প এবং সদ্য গড়ে ওঠা পোল্ট্রি শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। গরিব মানুষের রুটি-রুজির ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। তিনি যোগ করেন, জনস্বার্থবিরোধী চুক্তি করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন জনগণের সমর্থন ধরে রাখতে পারবে না এবং বিরোধী দলকেও এই বাস্তবতা মানতে হবে।

সমাবেশ থেকে দাবি করা হয় যে, দেশের সার্বভৌম অধিকার রক্ষা করে জনস্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখতে এমন বাণিজ্যচুক্তি প্রণয়ন নয় বরং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে পর্যালোচনা ও আলোচনার প্রয়োজন। বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন—জনস্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো চুক্তি করলে জনগণের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তারেক রহমান: জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করবো

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থী: আনু মুহাম্মদ

প্রকাশিতঃ ০৭:২৭:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্যচুক্তি প্রস্তাবনা চলছে তা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থের বিরোধী হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই চুক্তির ফলে দেশের সঙ্গে এমন কিছু দেশের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ লাভজনক ও প্রয়োজনীয় সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে না। এরপর এটি আর কেবল একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়—এটি দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন নীতিনির্ধারণে সরাসরি হস্তক্ষেপের একটি মাধ্যম হয়ে দাঁড়াবে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর शाहবাগে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির আয়োজনের সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অধিকারকর্মী মাহতাবউদ্দিন আহমেদ। সভায় সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে ময়মনসিংহ জেলার প্রতিনিধি আবুল কালাম আল আজাদ, গবেষক ও শিক্ষক মাহা মির্জা এবং ডা. হারুন-অর-রশীদ বক্তব্য রাখেন। তারা একযোগে এই চুক্তির বিরোধিতা করেন এবং বাতিলের দাবি জানান।

আনু মুহাম্মদ বলেন, এই ধরনের চুক্তির ফলে দেশে অনাচ্ছাকৃত পণ্য আমদানি বাড়বে—অনেক পণ্যই বাস্তবে আমাদের প্রয়োজনীয় নয়। এমনকি আমরা অন্য কোথাও থেকেও সস্তায় পণ্য বা কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারলে তা থেকে বাধ্য হয়ে নির্দিষ্ট উৎস থেকে বেশি দামে নেওয়ার পৃষ্ঠপোষকতা করা হতে পারে। এতে ব্যয় বাড়বে, স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা বিকৃত হবে এবং দেশের অর্থনীতি অযৌক্তিক চাপের মুখে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল স্বাধীন বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সংকুচিত হওয়া। কোন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য করা হবে বা কোথা থেকে প্রতিরক্ষাসামগ্রী কেনা হবে—এসব নীতিনির্ধারণ যে সব চুক্তির শর্তে বিদেশি স্বার্থের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে, তা দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর।

ডা. হারুন-অর-রশীদ সমাবেশে বলেন, এই চুক্তি দেশের ওষুধ শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি দাবি করে দিয়েছেন। বর্তমানে দেশে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পেটেন্ট নীতির নমনীয়তার কারণে হয়েছে। তবে কড়া মেধাস্বত্ত্ব সংক্রান্ত শর্ত আরোপ হলে দেশীয় কোম্পানিগুলো আর সহজে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন করতে পারবে না, যা জনগণের জন্য ওষুধের দাম বাড়িয়ে দেবে এবং স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

গবেষক মাহা মির্জা বলেন, এই চুক্তি স্থানীয় শিল্পখাত — বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প এবং সদ্য গড়ে ওঠা পোল্ট্রি শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। গরিব মানুষের রুটি-রুজির ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। তিনি যোগ করেন, জনস্বার্থবিরোধী চুক্তি করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন জনগণের সমর্থন ধরে রাখতে পারবে না এবং বিরোধী দলকেও এই বাস্তবতা মানতে হবে।

সমাবেশ থেকে দাবি করা হয় যে, দেশের সার্বভৌম অধিকার রক্ষা করে জনস্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখতে এমন বাণিজ্যচুক্তি প্রণয়ন নয় বরং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে পর্যালোচনা ও আলোচনার প্রয়োজন। বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন—জনস্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো চুক্তি করলে জনগণের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।