০৩:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অমিত শাহের দাবি: প্রথম দফায় বিজেপি জিতবে ১১০টিরও বেশি আসন

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বললেন, ১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১১০টিরও বেশি আসনে জয়ী হবে। শুক্রবার নিউটাউনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি শুধু আসনসংখ্যা নয়, বরং ভোটের প্রকৃতি, উচ্চ ভোটহার, নিরাপত্তার পরিবেশ ও ইভিএম বিতর্ক নিয়ে দলের পরিষ্কার অবস্থান তুলে ধরেন।

ইকোনমিক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী প্রথম দফায় ভোটহার প্রায় ৯২.৭২ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন। বিজেপি এই বিপুল অংশগ্রহণকে বদলের লক্ষণ ও শাসকদলের বিরুদ্ধে জনগণের অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে। অমিত শাহ বলেন, “সারারাত বিজেপি প্রথম দফার ভোট বিশ্লেষণ করেছে” এবং সেই বিশ্লেষণেই দল এই আত্মবিশ্বাস পায় যে তারা ১৫২টির মধ্যে ১১০টিরও বেশি আসনে জিতছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, “এবার বাংলায় শুধু ভোট হয়নি, ভয়ের জায়গা থেকে ভরসার দিকে মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে।”

অমিত শাহ প্রথম দফার পরিবেশকে ‘শান্তিপূর্ণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের ভূমিকাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বহু বছর পর পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এমন পরিবেশ দেখা গিয়েছে যাতে ভোটাররা ভয়মুক্তভাবে নিজের ভোটব্যবহার করতে পেরেছেন। প্রথম দফারে কোনো প্রাণহানির খবর না থাকাকেই তিনি বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে উদ্‌ঘোষিত করেন।

বৃহৎ ভোটাংশকে তিনি ‘সুনামি’ বলতে চাইছেন—যা শাসকদলের বিরুদ্ধে জমে থাকা ঘরোয়া ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। অমিত শাহ বলেন, “বিজেপি সরকার বানায় না, সরকার বানায় জনগণ।” ইভিএম নিয়ে raised অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিজেপির প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরিবর্তনের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, এটি কেবল এক বা দুই বিধায়ক বদলানো নয়—পরিবর্তন মানে দুর্নীতি দূর করা, সিন্ডিকেট রাজ লোপ করা এবং প্রশাসনের উপর থেকে রাজনৈতিক প্রভাব অপসারণ।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রার্থীর বিষয়ে তৃণমূলের ‘বহিরাগত’ অভিযোগকে পাল্টা জবাবে অমিত শাহ বলেন, “৫ তারিখের পর বাংলায় জন্ম নেওয়া, বাংলা মাধ্যমেই পড়াশোনা করা একজন বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন।” তিনি মধ্যমগ্রামের এক সভায় দেখা বিশাল ভিড়ের কথাও স্মরণ করে বলেন, সেই অভিজ্ঞতা তার ব্যক্তিগত জীবনে শক্তি জোগায় এবং বিরোধীদের আক্রমণ যেন আর প্রভাব ফেলে না।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ঝালমুড়ি’ খাওয়া নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ঝালমুড়ি খান, তাহলে মোদি খেলে আপত্তি কোথায়?”

অমিত শাহ দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ (২৯ এপ্রিল) নিয়েও বিশেষ বার্তা দেন—প্রথম দফায় যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, দ্বিতীয় দফার ভোটাররা তা পূর্ণ করবেন বলে তাঁর আশা। গতকাল রাতেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের প্রশংসা করে শান্তিপূর্ণ ভোটগণনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ছিলেন।

উল্লেখ্য, এই বিধানসভা নির্বাচনে মোট ২৯৪টি আসন রয়েছে এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে। দ্বিতীয় দফায় কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ১৪২টি আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

অমিত শাহের দাবি: প্রথম দফায় বিজেপি জিতবে ১১০টিরও বেশি আসন

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বললেন, ১৫২টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১১০টিরও বেশি আসনে জয়ী হবে। শুক্রবার নিউটাউনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি শুধু আসনসংখ্যা নয়, বরং ভোটের প্রকৃতি, উচ্চ ভোটহার, নিরাপত্তার পরিবেশ ও ইভিএম বিতর্ক নিয়ে দলের পরিষ্কার অবস্থান তুলে ধরেন।

ইকোনমিক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী প্রথম দফায় ভোটহার প্রায় ৯২.৭২ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন। বিজেপি এই বিপুল অংশগ্রহণকে বদলের লক্ষণ ও শাসকদলের বিরুদ্ধে জনগণের অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে। অমিত শাহ বলেন, “সারারাত বিজেপি প্রথম দফার ভোট বিশ্লেষণ করেছে” এবং সেই বিশ্লেষণেই দল এই আত্মবিশ্বাস পায় যে তারা ১৫২টির মধ্যে ১১০টিরও বেশি আসনে জিতছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, “এবার বাংলায় শুধু ভোট হয়নি, ভয়ের জায়গা থেকে ভরসার দিকে মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে।”

অমিত শাহ প্রথম দফার পরিবেশকে ‘শান্তিপূর্ণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের ভূমিকাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বহু বছর পর পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এমন পরিবেশ দেখা গিয়েছে যাতে ভোটাররা ভয়মুক্তভাবে নিজের ভোটব্যবহার করতে পেরেছেন। প্রথম দফারে কোনো প্রাণহানির খবর না থাকাকেই তিনি বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে উদ্‌ঘোষিত করেন।

বৃহৎ ভোটাংশকে তিনি ‘সুনামি’ বলতে চাইছেন—যা শাসকদলের বিরুদ্ধে জমে থাকা ঘরোয়া ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। অমিত শাহ বলেন, “বিজেপি সরকার বানায় না, সরকার বানায় জনগণ।” ইভিএম নিয়ে raised অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিজেপির প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরিবর্তনের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, এটি কেবল এক বা দুই বিধায়ক বদলানো নয়—পরিবর্তন মানে দুর্নীতি দূর করা, সিন্ডিকেট রাজ লোপ করা এবং প্রশাসনের উপর থেকে রাজনৈতিক প্রভাব অপসারণ।

মুখ্যমন্ত্রীর প্রার্থীর বিষয়ে তৃণমূলের ‘বহিরাগত’ অভিযোগকে পাল্টা জবাবে অমিত শাহ বলেন, “৫ তারিখের পর বাংলায় জন্ম নেওয়া, বাংলা মাধ্যমেই পড়াশোনা করা একজন বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন।” তিনি মধ্যমগ্রামের এক সভায় দেখা বিশাল ভিড়ের কথাও স্মরণ করে বলেন, সেই অভিজ্ঞতা তার ব্যক্তিগত জীবনে শক্তি জোগায় এবং বিরোধীদের আক্রমণ যেন আর প্রভাব ফেলে না।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ঝালমুড়ি’ খাওয়া নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ঝালমুড়ি খান, তাহলে মোদি খেলে আপত্তি কোথায়?”

অমিত শাহ দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ (২৯ এপ্রিল) নিয়েও বিশেষ বার্তা দেন—প্রথম দফায় যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, দ্বিতীয় দফার ভোটাররা তা পূর্ণ করবেন বলে তাঁর আশা। গতকাল রাতেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের প্রশংসা করে শান্তিপূর্ণ ভোটগণনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ছিলেন।

উল্লেখ্য, এই বিধানসভা নির্বাচনে মোট ২৯৪টি আসন রয়েছে এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে। দ্বিতীয় দফায় কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ১৪২টি আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।