০৩:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে, সরবরাহ সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা

ইসরায়েল ও লেবানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে বলে ঘোষণার মাঝেই বিশ্ববাজারে কাঁচা তেলের দাম বেড়ে গেছে। ছন্দপতনময় এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ শিগগিরি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালীতে চলমান অচলাবস্থা বিশ্ববাজারে ত্রাণহীনতা আরও গভীর করতে পারে বলে সতর্কতা রয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এশিয়ার বাজারে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৭ শতাংশ বাড়ে এবং ব্যারেল প্রতি ১০৫.৮০ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে মার্কিন অপরিশোধিত তেল (ওটিআই) শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বাড়ে এবং ব্যারেল প্রতি ৯৬.৫০ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছিল। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ও কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলেই যে পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়—বিশ্বের মোট সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ—তার চলাচল চলে গেলে গ্লোবাল সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।

ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি একটি সমন্বিত ও কার্যকর শান্তি প্রস্তাব না দেয়, ততক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখবে। দুই পক্ষের এই কড়া অবস্থান সমাধানকে কঠিন করে তুলছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা স্বস্তির জন্য নিজেদের মজুত থেকে রপ্তানি বাড়িয়েছে এবং রেকর্ড সংখ্যায় জ্বালানি সরবরাহ করেছে, তবে তা বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট নয়। এশিয়া ও ইউরোপের অনেক দেশ ইতোমধ্যেই জ্বালানি আমদানিতে সমস্যা সামাল দিতে শুরু করেছে। বাজারে চলমান অতিশয় অনিশ্চয়তা যদি দীর্ঘসময় স্থায়ী হয়, তাহলে তেলের দাম আরও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে পারে — যা শুধু জ্বালানি সেক্টরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; পরিবহন ও শিল্পোৎপাদন খরচ বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রাস্ফীতি আরও জোরালো করবে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।

সংক্ষেপে বলা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালীতে চলমান অচলাবস্থা বিশ্ববাজারে তেলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং ভবিষ্যতে সরবরাহ শৃঙ্খল পুনরায় স্থিতিশীল না হলে ভোগান্তি গভীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে, সরবরাহ সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা

প্রকাশিতঃ ০৭:২৫:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ইসরায়েল ও লেবানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে বলে ঘোষণার মাঝেই বিশ্ববাজারে কাঁচা তেলের দাম বেড়ে গেছে। ছন্দপতনময় এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ শিগগিরি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালীতে চলমান অচলাবস্থা বিশ্ববাজারে ত্রাণহীনতা আরও গভীর করতে পারে বলে সতর্কতা রয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এশিয়ার বাজারে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৭ শতাংশ বাড়ে এবং ব্যারেল প্রতি ১০৫.৮০ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে মার্কিন অপরিশোধিত তেল (ওটিআই) শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বাড়ে এবং ব্যারেল প্রতি ৯৬.৫০ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছিল। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ও কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলেই যে পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়—বিশ্বের মোট সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ—তার চলাচল চলে গেলে গ্লোবাল সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।

ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি একটি সমন্বিত ও কার্যকর শান্তি প্রস্তাব না দেয়, ততক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখবে। দুই পক্ষের এই কড়া অবস্থান সমাধানকে কঠিন করে তুলছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা স্বস্তির জন্য নিজেদের মজুত থেকে রপ্তানি বাড়িয়েছে এবং রেকর্ড সংখ্যায় জ্বালানি সরবরাহ করেছে, তবে তা বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট নয়। এশিয়া ও ইউরোপের অনেক দেশ ইতোমধ্যেই জ্বালানি আমদানিতে সমস্যা সামাল দিতে শুরু করেছে। বাজারে চলমান অতিশয় অনিশ্চয়তা যদি দীর্ঘসময় স্থায়ী হয়, তাহলে তেলের দাম আরও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে পারে — যা শুধু জ্বালানি সেক্টরেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; পরিবহন ও শিল্পোৎপাদন খরচ বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রাস্ফীতি আরও জোরালো করবে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।

সংক্ষেপে বলা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালীতে চলমান অচলাবস্থা বিশ্ববাজারে তেলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং ভবিষ্যতে সরবরাহ শৃঙ্খল পুনরায় স্থিতিশীল না হলে ভোগান্তি গভীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।