১০:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

কর্মজীবনের মানসিক ও সামাজিক ঝুঁকি বছরে ৮ লাখ ৪০ হাজার অকাল মৃত্যুর কারণ: আইএলও রিপোর্ট

কর্মক্ষেত্রের মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক ঝুঁকির কারণে প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার মানুষ অকাল মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন — এমনই সতর্কতা দিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং কর্মস্থলে হয়রানি—এসবই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। এসব ঝুঁকির ফলে হৃদরোগ, আত্মহত্যা ও বিভিন্ন মানসিক রোগের মাত্রা বেড়ে চলেছে এবং প্রতিবছর মোটামুটি ৪৫ মিলিয়ন ‘সুস্থ জীবনকাল’ (DALYs) লস্ট হচ্ছে।

আইএলও এই বিশ্লেষণটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ‘গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজ’ (GBD) গবেষণার সাম্প্রতিক ডেটার সঙ্গে মিলিয়ে করেছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, এসব মানসিক ও সামাজিক ঝুঁকির ফলে বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ১.৩৭ শতাংশ এবং অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হচ্ছে।

গবেষকরা কর্মপরিবেশকে তিনটি আন্তঃসংযুক্ত দিক থেকে বিশ্লেষণ করেছেন এবং বলেছে যে অনেক ঝুঁকি দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান। তবে সম্প্রতি কর্মজগতের ধরন বদলায়—ডিজিটালাইজেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), দূরবর্তী কাজ ও নতুন কর্মবিন্যাস—এসব পরিবর্তন ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত না হলে বিদ্যমান ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং নতুন ঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে।

আইএলও-র পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের নীতি বিভাগীয় প্রধান মানাল আজ্জি বলেন, “আধুনিক কর্মজগতে মানসিক ও সামাজিক ঝুঁকি এখন পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের বড় চ্যালেঞ্জ। কর্মপরিবেশের এই দিকগুলো উন্নত করা কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্যই নয়, արտադրিকতা, প্রতিষ্ঠানগত কর্মদক্ষতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য।”

প্রতিবেদনটি বলছে এসব ঝুঁকির মূল কারণ সনাক্ত করে কার্যকর উদ্যোগ নিলে বহু অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। বিশেষ করে পেশাগত নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে ‘মনো-সামাজিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা’ (psychosocial risk management) একীভূত করা জরুরি।

গবেষকরা সরকার, নিয়োগকর্তা ও শ্রমিকদের মধ্যে গঠনমূলক সামাজিক সংলাপের ওপর জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি নিয়মিত ঝুঁকি মূল্যায়ন, কাজের সময় ও চাপ নিয়ন্ত্রণ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং কাজের নতুন প্রযুক্তি ও বিন্যাস গ্রহণে নীতিমালা তৈরির পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। এসব পদক্ষেপ শুধু মানুষের জীবন রক্ষা করবে না, বরং কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিকেও টেকসই করবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

কর্মজীবনের মানসিক ও সামাজিক ঝুঁকি বছরে ৮ লাখ ৪০ হাজার অকাল মৃত্যুর কারণ: আইএলও রিপোর্ট

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

কর্মক্ষেত্রের মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক ঝুঁকির কারণে প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার মানুষ অকাল মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন — এমনই সতর্কতা দিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং কর্মস্থলে হয়রানি—এসবই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। এসব ঝুঁকির ফলে হৃদরোগ, আত্মহত্যা ও বিভিন্ন মানসিক রোগের মাত্রা বেড়ে চলেছে এবং প্রতিবছর মোটামুটি ৪৫ মিলিয়ন ‘সুস্থ জীবনকাল’ (DALYs) লস্ট হচ্ছে।

আইএলও এই বিশ্লেষণটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ‘গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজ’ (GBD) গবেষণার সাম্প্রতিক ডেটার সঙ্গে মিলিয়ে করেছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, এসব মানসিক ও সামাজিক ঝুঁকির ফলে বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ১.৩৭ শতাংশ এবং অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হচ্ছে।

গবেষকরা কর্মপরিবেশকে তিনটি আন্তঃসংযুক্ত দিক থেকে বিশ্লেষণ করেছেন এবং বলেছে যে অনেক ঝুঁকি দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান। তবে সম্প্রতি কর্মজগতের ধরন বদলায়—ডিজিটালাইজেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), দূরবর্তী কাজ ও নতুন কর্মবিন্যাস—এসব পরিবর্তন ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত না হলে বিদ্যমান ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং নতুন ঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে।

আইএলও-র পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের নীতি বিভাগীয় প্রধান মানাল আজ্জি বলেন, “আধুনিক কর্মজগতে মানসিক ও সামাজিক ঝুঁকি এখন পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের বড় চ্যালেঞ্জ। কর্মপরিবেশের এই দিকগুলো উন্নত করা কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্যই নয়, արտադրিকতা, প্রতিষ্ঠানগত কর্মদক্ষতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য।”

প্রতিবেদনটি বলছে এসব ঝুঁকির মূল কারণ সনাক্ত করে কার্যকর উদ্যোগ নিলে বহু অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। বিশেষ করে পেশাগত নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে ‘মনো-সামাজিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা’ (psychosocial risk management) একীভূত করা জরুরি।

গবেষকরা সরকার, নিয়োগকর্তা ও শ্রমিকদের মধ্যে গঠনমূলক সামাজিক সংলাপের ওপর জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি নিয়মিত ঝুঁকি মূল্যায়ন, কাজের সময় ও চাপ নিয়ন্ত্রণ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং কাজের নতুন প্রযুক্তি ও বিন্যাস গ্রহণে নীতিমালা তৈরির পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। এসব পদক্ষেপ শুধু মানুষের জীবন রক্ষা করবে না, বরং কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিকেও টেকসই করবে।