০১:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েক জেলায় বন্যার শঙ্কা রোসাটম মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ১ মে থেকে সারাদেশে মাদক, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি: জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন অপরিহার্য ময়মনসিংহ-সিলেটে রাত ১টার মধ্যে ঘণ্টায় ৬০–৮০ কিমিতে ঝড়ো হাওয়ার সতর্কতা সংরক্ষিত নারী আসনে ৪৯ জন প্রার্থীর বৈধতা ঘোষণা, তালিকা প্রকাশ নিপীড়িতদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন আইনমন্ত্রী অপতথ্য প্রতিরোধে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ উদ্যোগ: তথ্যমন্ত্রী হামের উপসর্গে ৮ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে একদিনে রেকর্ড ১,৫৬৪ ভর্তি একদিনে ১৫ প্রতিষ্ঠানেই নতুন চেয়ারম্যান ও মহাপরিচালক নিয়োগ

ইসরায়েল নির্দেশ দিলো: দক্ষিণ লেবানন খালি করুন

মধ্যস্থতায় ঘোষিত এক যুক্তরাষ্ট্রীয় যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল এবং লেবাননের শিয়ারাস্থ হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত ‘বাফার জোন’-এর বাইরে অবস্থানকারী সাতটি গুরুত্বপূর্ন শহরের বাসিন্দাদের তাদের এলাকা খালি করে নিরাপদ স্থানে সরার জন্য নতুন করে উচ্ছেদ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

ইসরায়েলের সামরিক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ বারবার যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে এবং এর জবাব দিতে ইসরায়েল প্রয়োজনীয় সামরিক ব্যবস্থা নেবে। উচ্ছেদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব শহরের বাসিন্দাদের লিতানি নদীর উত্তরে থাকা এলাকাগুলো ছাড়িয়ে উত্তর ও পশ্চিমদিকে সরে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত ও ৩৭ জন আহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুজন নারী ও দুই শিশু রয়েছেন। হামলার পর ইস্রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তাদের সেনাবাহিনী বর্তমানে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যস্থলগুলোতে জোরালো আঘাত হানছে।

সংঘাতের এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের দায় দুপক্ষই একে অপরের ওপর চাপাচ্ছে। হিজবুল্লাহ এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে বলেছে, তাদের চালানো আক্রমণগুলো মূলত শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া — অর্থাৎ যৌক্তিক ও নিয়ন্ত্রিত জবাব। ইরান-সমর্থিত এই সংগঠনটি টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছে যে, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে যে যুদ্ধবিরতিটিকে মেনে নেননি, সেই চুক্তির শর্তের সঙ্গে তাদের যুক্ত করা উচিত নয়। সংগঠনটি মনে করে তাদের উপর এই চুক্তির কোনো বাধ্যবাধকতা নেই এবং ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখা তাদের অধিকার।

হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতা নাইম কাসেম সম্প্রতি এক ভাষণে সরাসরি ইসরায়েলের সঙ্গে কোনোরকম আলোচনা করার সম্ভাবনাকেই ‘গুরুতর পাপ’ বলে অভিহিত করেছেন। কাসেমের মতে, সরাসরি সংলাপ লেবাননের অভ্যন্তরীন স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হবে। তার এই অনড় অবস্থার ফলে কূটনৈতিক মাধ্যমে সংকট নিরসনের চেষ্টা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাফার জোনটি সীমান্ত থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। তবু সাম্প্রতিক উচ্ছেদ বিজ্ঞপ্তি এবং লিতানি নদীর উত্তরে জোনের বাইরে হামলার লক্ষ্যবস্তুর কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতিকর সঙ্কট তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজের বাড়ী ত্যাগ করে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে যাচ্ছেন, এবং অঞ্চলটি আবারও বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকিতে পড়ে গেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েক জেলায় বন্যার শঙ্কা

ইসরায়েল নির্দেশ দিলো: দক্ষিণ লেবানন খালি করুন

প্রকাশিতঃ ১০:৪০:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যস্থতায় ঘোষিত এক যুক্তরাষ্ট্রীয় যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল এবং লেবাননের শিয়ারাস্থ হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত ‘বাফার জোন’-এর বাইরে অবস্থানকারী সাতটি গুরুত্বপূর্ন শহরের বাসিন্দাদের তাদের এলাকা খালি করে নিরাপদ স্থানে সরার জন্য নতুন করে উচ্ছেদ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

ইসরায়েলের সামরিক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ বারবার যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে এবং এর জবাব দিতে ইসরায়েল প্রয়োজনীয় সামরিক ব্যবস্থা নেবে। উচ্ছেদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব শহরের বাসিন্দাদের লিতানি নদীর উত্তরে থাকা এলাকাগুলো ছাড়িয়ে উত্তর ও পশ্চিমদিকে সরে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত ও ৩৭ জন আহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুজন নারী ও দুই শিশু রয়েছেন। হামলার পর ইস্রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, তাদের সেনাবাহিনী বর্তমানে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যস্থলগুলোতে জোরালো আঘাত হানছে।

সংঘাতের এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের দায় দুপক্ষই একে অপরের ওপর চাপাচ্ছে। হিজবুল্লাহ এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে বলেছে, তাদের চালানো আক্রমণগুলো মূলত শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া — অর্থাৎ যৌক্তিক ও নিয়ন্ত্রিত জবাব। ইরান-সমর্থিত এই সংগঠনটি টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছে যে, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে যে যুদ্ধবিরতিটিকে মেনে নেননি, সেই চুক্তির শর্তের সঙ্গে তাদের যুক্ত করা উচিত নয়। সংগঠনটি মনে করে তাদের উপর এই চুক্তির কোনো বাধ্যবাধকতা নেই এবং ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখা তাদের অধিকার।

হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতা নাইম কাসেম সম্প্রতি এক ভাষণে সরাসরি ইসরায়েলের সঙ্গে কোনোরকম আলোচনা করার সম্ভাবনাকেই ‘গুরুতর পাপ’ বলে অভিহিত করেছেন। কাসেমের মতে, সরাসরি সংলাপ লেবাননের অভ্যন্তরীন স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হবে। তার এই অনড় অবস্থার ফলে কূটনৈতিক মাধ্যমে সংকট নিরসনের চেষ্টা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাফার জোনটি সীমান্ত থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। তবু সাম্প্রতিক উচ্ছেদ বিজ্ঞপ্তি এবং লিতানি নদীর উত্তরে জোনের বাইরে হামলার লক্ষ্যবস্তুর কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতিকর সঙ্কট তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজের বাড়ী ত্যাগ করে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে যাচ্ছেন, এবং অঞ্চলটি আবারও বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকিতে পড়ে গেছে।