১২:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী হামে আরও চার শিশুর মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১১৫ থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র–সরঞ্জাম ব্যবহার করে ডাকাতি: র‍্যাব দুই গ্রেপ্তার মিরপুরের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে রহস্যময় আগুন; ৮৩টি ল্যাপটপ অনুপস্থিত ৩ মে থেকে চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন দিগন্তে প্রথম ধাক্কা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করলেন ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ ঢাকা-সহ দেশের সব থানাকে দালালমুক্ত করার নির্দেশ দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিএমপি: শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে মে দিবস: নয়াপল্টনে শ্রমিক দলের সমাবেশে তারেক রহমান ষড়যন্ত্রকারীদের মোক্ষম জবাব দেওয়ার আহ্বান

এক সপ্তাহে ভারতের বৈদেশিক রিজার্ভ প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার কমল

ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সাম্প্রতিক সপ্তাহে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। রিজার্ভ মাত্র এক সপ্তাহে ৪.৮২ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৮২ কোটি মার্কিন ডলার) কমে গেছে বলে শুক্রবার (১ মে) রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে। এ পতনের পর মোট মজুত বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৬৯৮.৪৯ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬৯ হাজার ৮৪৯ কোটি ডলার), যা সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ন্যূনতম পর্যায়ে নামলো।

আরবিআইয়ের জানানো অনুযায়ী, রিজার্ভের অধিকাংশ খাতেই এই পতনের ছাপ রয়েছে। বিদেশি মুদ্রা সম্পদ (FCA) সবচেয়ে বেশি কমেছে—২.৮৪ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়ে এখন তা ৫৫৪.৬২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এ ছাড়া সোনার মজুত ১.৯০ বিলিয়ন ডলার কমে ১২০.২৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (SDR) ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) কাছে রক্ষিত রিজার্ভের পরিমাণও গত এক সপ্তাহে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

উল্লেখ্য, এর ঠিক আগের সপ্তাহে—১৭ এপ্রিল শেষ হওয়া সাত দিনে—রিজার্ভে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখেছিল এবং মজুত ২.৩০ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ৭০৩.৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। এছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষে রিজার্ভ তার সর্বোচ্চ স্তর ৭২৮.৪৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তবে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক পতন বাজার বিশ্লেষকদের মতে দেশীয় অর্থনীতিতে সাময়িক চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের বিনিময়মূল্যে ওঠানামা এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে। তাছাড়া ভারতীয় রুপির মজবুতি রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে খোলা বাজারে ডলার বিক্রি করে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হওয়ায় রিজার্ভে চাপ পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়া এবং আমদানি-চাহিদায় ডলারের বৃদ্ধি পাওয়া চাপও রিজার্ভ কমার গতিকে ত্বরান্বিত করেছে।

আরবিআই জানিয়েছে যে তারা চলতি বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং বিনিময়হার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। নীতিনির্ধারকরা বলছেন, বর্তমান মজুত এখনও আপাতত যোগ্যমানভাবে শক্তিশালী এবং তা জরুরি পরিস্থিতি বা দীর্ঘমেয়াদী আমদানির ব্যয় মেটাতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নীতির সমন্বয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগের পুনরায় প্রবাহ শুরু হলে দ্রুতই এই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

এক সপ্তাহে ভারতের বৈদেশিক রিজার্ভ প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার কমল

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সাম্প্রতিক সপ্তাহে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। রিজার্ভ মাত্র এক সপ্তাহে ৪.৮২ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৮২ কোটি মার্কিন ডলার) কমে গেছে বলে শুক্রবার (১ মে) রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে। এ পতনের পর মোট মজুত বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৬৯৮.৪৯ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬৯ হাজার ৮৪৯ কোটি ডলার), যা সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ন্যূনতম পর্যায়ে নামলো।

আরবিআইয়ের জানানো অনুযায়ী, রিজার্ভের অধিকাংশ খাতেই এই পতনের ছাপ রয়েছে। বিদেশি মুদ্রা সম্পদ (FCA) সবচেয়ে বেশি কমেছে—২.৮৪ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়ে এখন তা ৫৫৪.৬২ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এ ছাড়া সোনার মজুত ১.৯০ বিলিয়ন ডলার কমে ১২০.২৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (SDR) ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) কাছে রক্ষিত রিজার্ভের পরিমাণও গত এক সপ্তাহে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

উল্লেখ্য, এর ঠিক আগের সপ্তাহে—১৭ এপ্রিল শেষ হওয়া সাত দিনে—রিজার্ভে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখেছিল এবং মজুত ২.৩০ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ৭০৩.৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। এছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষে রিজার্ভ তার সর্বোচ্চ স্তর ৭২৮.৪৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তবে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক পতন বাজার বিশ্লেষকদের মতে দেশীয় অর্থনীতিতে সাময়িক চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের বিনিময়মূল্যে ওঠানামা এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে। তাছাড়া ভারতীয় রুপির মজবুতি রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে খোলা বাজারে ডলার বিক্রি করে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হওয়ায় রিজার্ভে চাপ পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়া এবং আমদানি-চাহিদায় ডলারের বৃদ্ধি পাওয়া চাপও রিজার্ভ কমার গতিকে ত্বরান্বিত করেছে।

আরবিআই জানিয়েছে যে তারা চলতি বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং বিনিময়হার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। নীতিনির্ধারকরা বলছেন, বর্তমান মজুত এখনও আপাতত যোগ্যমানভাবে শক্তিশালী এবং তা জরুরি পরিস্থিতি বা দীর্ঘমেয়াদী আমদানির ব্যয় মেটাতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নীতির সমন্বয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগের পুনরায় প্রবাহ শুরু হলে দ্রুতই এই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।