১২:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ইপিআই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল সিদ্ধান্তে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী গাবতলী হাট পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী: সড়কে কোনো চাঁদাবাজি হবে না প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা ১৭ মন্ত্রণালয়ের ৩৮টি অডিট রিপোর্ট, সংসদে উপস্থাপন করা হবে স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা নয়, মৌলিক অধিকার: ডা. জুবাইদা বিনিয়োগ বাড়াতে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নবনির্বাচিত সংরক্ষিত নারী এমপিরা জিয়া ও খালেদার সমাধিতে শ্রদ্ধা বন্ধ বস্ত্র ও পাট কারখানা পুনরুজ্জীবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সাক্ষাৎ ১৬ ডিআইজি ও একজন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে মনিরা শারমিনের আবেদন: নুসরাত তাবাসসুমের এমপি গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখার অনুরোধ

খুলনাঞ্চলে আমের বাম্পার ফলন, আয়ের লক্ষ্য ৫৬৩ কোটি টাকার ওপর

চলতি ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে খুলনা বিভাগের চার জেলায় আমের চাষে ব্যাপক সাফল্য দেখা যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী এই বছর মোট ৭৭৫৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ করা হয়েছে এবং প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে সম্ভাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছে ১১৩,০০০ টনের কাছাকাছি — প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী এ উৎপাদিত আম বাজারজাত করলে আয় হবে ৫৬৩ কোটি ৫০ লাখ ১৫ হাজার টাকার ওপর; এখানে গড় মূল্য হিসেবে প্রতি কেজি ৫০ টাকা ধরা হয়েছে। এছাড়া দেশের চাহিদা মেটানোর পর অন্তত ১০০ মেট্রিক টন আম আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনাও আছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।

আমের গুণগতমান বজায় রাখতে ও অপরিপক্ক আম অকাল সংগ্রহ রোধে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন একটি নির্দিষ্ট সংগ্রহ ক্যালেন্ডার ঘোষণা করেছে। কৃষি বিভাগ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিলে নির্ধারিত সময়ের আগে গাছ থেকে আম কাটতে দিলে তা প্রতিরোধে তৎপর নজরদারি চালাচ্ছে। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ ৫ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই ও গোলাপখাসসহ বিভিন্ন বৈশাখী জাতের আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে। জনপ্রিয় হিমসাগর জাতের আমের পাড়া শুরু হবে ১৫ মে থেকে, ল্যাংড়া ২৭ মে এবং আম্রপালি ৫ জুন থেকে বাজারজাত করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

জেলাভিত্তিক পারফরম্যান্সে দেখা গেছে—সাতক্ষীরা জেলায় ৪১৪০ হেক্টর জমিতে চাষ করে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ৭০,৯৬৫ মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৫৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা। নড়াইল জেলায় ৫৪২ হেক্টর জমিতে ৭০৬০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ কোটি ৩০ লাখ টাকার ব্যবসার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে খুলনা অঞ্চলের চাষিরা দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, চলতি অর্থবছরে খুলনাঞ্চলে মোট ৭৭৫৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষাবাদ করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য উৎপাদন এক লাখ উনিশ হাজারের কাছাকাছি ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, বড় ধরনের শিলা বা অন্যান্য দুর্যোগ না হলে এই আম দেশের মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করবে এবং রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারবে।

ফসলের গুণমান ও বাজারজাতকরণের ওপর নজর রাখার মাধ্যমে আশা করা যাচ্ছে এই অঞ্চলের আম চাষিরা সচ্ছল আয় অর্জন করবেন এবং অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

গাবতলী হাট পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী: সড়কে কোনো চাঁদাবাজি হবে না

খুলনাঞ্চলে আমের বাম্পার ফলন, আয়ের লক্ষ্য ৫৬৩ কোটি টাকার ওপর

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

চলতি ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে খুলনা বিভাগের চার জেলায় আমের চাষে ব্যাপক সাফল্য দেখা যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী এই বছর মোট ৭৭৫৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ করা হয়েছে এবং প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে সম্ভাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছে ১১৩,০০০ টনের কাছাকাছি — প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী এ উৎপাদিত আম বাজারজাত করলে আয় হবে ৫৬৩ কোটি ৫০ লাখ ১৫ হাজার টাকার ওপর; এখানে গড় মূল্য হিসেবে প্রতি কেজি ৫০ টাকা ধরা হয়েছে। এছাড়া দেশের চাহিদা মেটানোর পর অন্তত ১০০ মেট্রিক টন আম আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনাও আছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।

আমের গুণগতমান বজায় রাখতে ও অপরিপক্ক আম অকাল সংগ্রহ রোধে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন একটি নির্দিষ্ট সংগ্রহ ক্যালেন্ডার ঘোষণা করেছে। কৃষি বিভাগ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিলে নির্ধারিত সময়ের আগে গাছ থেকে আম কাটতে দিলে তা প্রতিরোধে তৎপর নজরদারি চালাচ্ছে। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ ৫ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই ও গোলাপখাসসহ বিভিন্ন বৈশাখী জাতের আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে। জনপ্রিয় হিমসাগর জাতের আমের পাড়া শুরু হবে ১৫ মে থেকে, ল্যাংড়া ২৭ মে এবং আম্রপালি ৫ জুন থেকে বাজারজাত করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

জেলাভিত্তিক পারফরম্যান্সে দেখা গেছে—সাতক্ষীরা জেলায় ৪১৪০ হেক্টর জমিতে চাষ করে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ৭০,৯৬৫ মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৫৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা। নড়াইল জেলায় ৫৪২ হেক্টর জমিতে ৭০৬০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ কোটি ৩০ লাখ টাকার ব্যবসার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে খুলনা অঞ্চলের চাষিরা দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, চলতি অর্থবছরে খুলনাঞ্চলে মোট ৭৭৫৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষাবাদ করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য উৎপাদন এক লাখ উনিশ হাজারের কাছাকাছি ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, বড় ধরনের শিলা বা অন্যান্য দুর্যোগ না হলে এই আম দেশের মানুষের পুষ্টি নিশ্চিত করবে এবং রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারবে।

ফসলের গুণমান ও বাজারজাতকরণের ওপর নজর রাখার মাধ্যমে আশা করা যাচ্ছে এই অঞ্চলের আম চাষিরা সচ্ছল আয় অর্জন করবেন এবং অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।