১১:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হরমুজে যাত্রীবাহী নৌকায় মার্কিন হামলার অভিযোগ, নিহত ৫

ইরানের দাবি: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর অভিযানে পাঁচ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তেহরান অভিযোগ করেছে যে, ওয়াশিংটন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এর নৌযান লক্ষ্য করে হামলার কথা বললেও πραγμαতে তারা সাধারণ যাত্রীবাহী ছোট নৌকাকে আঘাত করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি সোমবার এক সামরিক কমান্ডারের বরাতে জানিয়েছে, ওমানের খাসাব উপকূল থেকে ইরানের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে দুটি ছোট নৌকায় হামলা চালানো হয়। সূত্রটি বলেছে ওই দুই নৌকাই পুরোপুরি ধ্বংস হয় এবং তাতে থাকা পাঁচ আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। তেহরান এই ঘটনার তদন্তের বরাতে এটিকে ‘‘অপরাধ’’ বলে অভিহিত করে বলেছে, এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিকভাবে জবাবদিহিতার মুখে আনা হবে।

মার্কিন পক্ষের বিবরণ এই দাবি থেকে আলাদা। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেন যে, হরমুজ প্রণালে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার উদ্দেশ্যে পরিচালিত ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযানের সময় আইআরজিসির ছয়টি নৌযান বাধা সৃষ্টি করছিল। তাঁর ভাষ্য, ওই নৌযানগুলোকে মার্কিন বাহিনী ধ্বংস করেছে। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধ্বংস হওয়া নৌযানের সংখ্যা সাতটি বলেও মন্তব্য করেছেন। এই পারস্পরিক দাবি–প্রতিদাবিতায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়েছে।

ইরানের সামরিক সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন দাবির পর তারা ঘনিষ্ঠভাবে একটি তদন্ত করেছে এবং সেই তদন্তে দেখা গেছে আইআরজিসির কোনো নৌযান এই অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়নি। বরং আহত বা নিহতরা সাধারণ যাত্রীবাহী নৌকার আরোহী ছিলেন, বলে তাদের তত্ত্ব। তেহরান ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিকভাবে দায়ী করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।

ঘটনাটি এমন সময় ঘটল যখন মার্কিন নৌবাহিনী ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ নামে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পারাপারে সহায়তা করছে। এ অভিযানের ফলে ইতোমধ্যে সবচেয়ে নাজুকা বৈরিতার সূচনাও দেখা দিয়েছে—গেল ৮ এপ্রিল ঢাকা যেভাবে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি টিকে আছে, তা এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বেসামরিক নাগরিকদের নিহত হওয়ার দাবিগুলো মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এই ঘটনার বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্ত ও পক্ষগুলোর বক্তব্য মিলছে না—তারফলেই পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ ও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

হরমুজে যাত্রীবাহী নৌকায় মার্কিন হামলার অভিযোগ, নিহত ৫

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

ইরানের দাবি: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর অভিযানে পাঁচ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তেহরান অভিযোগ করেছে যে, ওয়াশিংটন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এর নৌযান লক্ষ্য করে হামলার কথা বললেও πραγμαতে তারা সাধারণ যাত্রীবাহী ছোট নৌকাকে আঘাত করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি সোমবার এক সামরিক কমান্ডারের বরাতে জানিয়েছে, ওমানের খাসাব উপকূল থেকে ইরানের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে দুটি ছোট নৌকায় হামলা চালানো হয়। সূত্রটি বলেছে ওই দুই নৌকাই পুরোপুরি ধ্বংস হয় এবং তাতে থাকা পাঁচ আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। তেহরান এই ঘটনার তদন্তের বরাতে এটিকে ‘‘অপরাধ’’ বলে অভিহিত করে বলেছে, এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিকভাবে জবাবদিহিতার মুখে আনা হবে।

মার্কিন পক্ষের বিবরণ এই দাবি থেকে আলাদা। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেন যে, হরমুজ প্রণালে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার উদ্দেশ্যে পরিচালিত ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযানের সময় আইআরজিসির ছয়টি নৌযান বাধা সৃষ্টি করছিল। তাঁর ভাষ্য, ওই নৌযানগুলোকে মার্কিন বাহিনী ধ্বংস করেছে। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ধ্বংস হওয়া নৌযানের সংখ্যা সাতটি বলেও মন্তব্য করেছেন। এই পারস্পরিক দাবি–প্রতিদাবিতায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়েছে।

ইরানের সামরিক সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন দাবির পর তারা ঘনিষ্ঠভাবে একটি তদন্ত করেছে এবং সেই তদন্তে দেখা গেছে আইআরজিসির কোনো নৌযান এই অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়নি। বরং আহত বা নিহতরা সাধারণ যাত্রীবাহী নৌকার আরোহী ছিলেন, বলে তাদের তত্ত্ব। তেহরান ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিকভাবে দায়ী করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।

ঘটনাটি এমন সময় ঘটল যখন মার্কিন নৌবাহিনী ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ নামে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পারাপারে সহায়তা করছে। এ অভিযানের ফলে ইতোমধ্যে সবচেয়ে নাজুকা বৈরিতার সূচনাও দেখা দিয়েছে—গেল ৮ এপ্রিল ঢাকা যেভাবে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি টিকে আছে, তা এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বেসামরিক নাগরিকদের নিহত হওয়ার দাবিগুলো মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। এই ঘটনার বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্ত ও পক্ষগুলোর বক্তব্য মিলছে না—তারফলেই পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ ও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।