১২:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
শুধু রাজনীতি নয়, অর্থনীতিতেও গণতন্ত্র প্রয়োজন: অর্থমন্ত্রী ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ’ প্রতিপাদ্যে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিকল্পনা কমিশন অনুমোদন দিল ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি শিল্পমন্ত্রী: বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল দ্রুত পুনঃচালুর দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হাম ও উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু জুলাই হত্যাযজ্ঞের বিচারে কোনো আপস থাকবে না — চিফ প্রসিকিউটর চার অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া—নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত কোটি কর্মসংস্থান গড়তে বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ তথ্যমন্ত্রী স্বপন: তথ্যপ্রযুক্তির যুগে রাষ্ট্র আর গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না টিকাদান সত্ত্বেও হামজনিত শিশুমৃত্যু থামছে না

যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে বাংলাদেশ দ্বিতীয় শীর্ষে

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক বাজারে সাম্প্রতিক কাঠামোগত পরিবর্তন ও শুল্ক নীতির অস্থিরতার সুযোগে বাংলাদেশ এখন দেশটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পোশাক রপ্তানিকারক হিসেবে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের অফিস অফ টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা)–র সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

অটেক্সার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি–মার্চে বাংলাদেশ করেছে ২০৪ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি। যদিও এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮.৩৮ শতাংশ কম, তবু চীনের বাজার হারানোর তুলনায় বাংলাদেশ comparatively সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। একই সময়ে চীনের রপ্তানি প্রায় ১৭০ কোটি ডলারে নেমেছে, যা গত বছরের ৩৬১ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় ৫৩ শতাংশ সংকোচন। যখন ভিয়েতনাম শীর্ষে থেকে ৩৯৮ কোটি ডলারের রপ্তানিতে সামান্য—প্রায় পৌনে ৩ শতাংশ—বৃদ্ধি করেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারের প্রায় ২২ শতাংশই ভিয়েতনামের দখলে, আর বাংলাদেশ সাড়ে ১১ শতাংশ ভাগ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের প্রধান প্রেক্ষাপট হলো ট্রাম্প প্রশাসনের আগে ঘোষিত ‘‘পাল্টা শুল্ক’’ নীতি। গত বছরের এপ্রিল মাসে বিশ্বিৃস্তরজুড়ে ১৫৭টি দেশের পণ্যে বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুরুতে বাংলাদেশি পণ্যে সর্বোচ্চ ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসার কথা থাকলেও বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও আমদানির প্রতিশ্রুতির পটভূমিতে তা বর্তমানে ২০ শতাংশের নিচে নামিয়েছে। অন্যদিকে চীন ও ভারতের মতো বড় রপ্তানিকারক দেশগুলোকে তুলনামূলকভাবে উচ্চ শুল্ক ভোগ করতে হচ্ছে, যার ফলে বাংলাদেশকে একটি পরোক্ষ সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ভারতের রপ্তানি গত বছরে ২৭ শতাংশ কমে প্রায় ১১০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

নেয়ার নীতি ও আদালতের সিদ্ধান্তও পরিস্থিতিকে অস্থির করেছে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট আগে ঘোষিত পাল্টা শুল্কনীতিকে অবৈধ বলার পর ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন প্রয়োগ করে ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেন, যা ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। সাম্প্রতিক কালে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ওই শুল্কের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে। অটেক্সার তথ্যে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট তৈরি পোশাক আমদানি ১১.৬০ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৭৩ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।

রপ্তানিকারক ও উদ্যোক্তারা বলছেন, শুল্কের কারণে শুরুতে বাংলাদেশ সুবিধা পেলেও এখন পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। অতিরিক্ত শুল্ক উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্য বাড়িয়েছে, ফলে প্রতিযোগিতা ও মার্জিন উভয়ই চাপের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, যা আমেরিকান ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং নতুন অর্ডারের পরিমাণ কমার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

সংক্ষেপে, মার্কিন শুল্কনীতি ও বৈশ্বিক অস্থিরতার মিশ্র প্রভাবে বাংলাদেশের জন্য নতুন বাজারগত সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু স্থায়ী উন্নতির জন্য উৎপাদন খরচ, প্রতিযোগী মূল্যনীতি ও বৈশ্বিক চাহিদার অনিশ্চয়তা মোকাবেলা করা আবশ্যক।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

‘আমার পুলিশ, আমার দেশ’ প্রতিপাদ্যে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারে বাংলাদেশ দ্বিতীয় শীর্ষে

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক বাজারে সাম্প্রতিক কাঠামোগত পরিবর্তন ও শুল্ক নীতির অস্থিরতার সুযোগে বাংলাদেশ এখন দেশটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পোশাক রপ্তানিকারক হিসেবে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের অফিস অফ টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা)–র সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

অটেক্সার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি–মার্চে বাংলাদেশ করেছে ২০৪ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি। যদিও এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮.৩৮ শতাংশ কম, তবু চীনের বাজার হারানোর তুলনায় বাংলাদেশ comparatively সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। একই সময়ে চীনের রপ্তানি প্রায় ১৭০ কোটি ডলারে নেমেছে, যা গত বছরের ৩৬১ কোটি ডলারের তুলনায় প্রায় ৫৩ শতাংশ সংকোচন। যখন ভিয়েতনাম শীর্ষে থেকে ৩৯৮ কোটি ডলারের রপ্তানিতে সামান্য—প্রায় পৌনে ৩ শতাংশ—বৃদ্ধি করেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক বাজারের প্রায় ২২ শতাংশই ভিয়েতনামের দখলে, আর বাংলাদেশ সাড়ে ১১ শতাংশ ভাগ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের প্রধান প্রেক্ষাপট হলো ট্রাম্প প্রশাসনের আগে ঘোষিত ‘‘পাল্টা শুল্ক’’ নীতি। গত বছরের এপ্রিল মাসে বিশ্বিৃস্তরজুড়ে ১৫৭টি দেশের পণ্যে বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুরুতে বাংলাদেশি পণ্যে সর্বোচ্চ ৩৭ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসার কথা থাকলেও বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও আমদানির প্রতিশ্রুতির পটভূমিতে তা বর্তমানে ২০ শতাংশের নিচে নামিয়েছে। অন্যদিকে চীন ও ভারতের মতো বড় রপ্তানিকারক দেশগুলোকে তুলনামূলকভাবে উচ্চ শুল্ক ভোগ করতে হচ্ছে, যার ফলে বাংলাদেশকে একটি পরোক্ষ সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ভারতের রপ্তানি গত বছরে ২৭ শতাংশ কমে প্রায় ১১০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

নেয়ার নীতি ও আদালতের সিদ্ধান্তও পরিস্থিতিকে অস্থির করেছে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট আগে ঘোষিত পাল্টা শুল্কনীতিকে অবৈধ বলার পর ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন প্রয়োগ করে ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক আরোপ করেন, যা ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। সাম্প্রতিক কালে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ওই শুল্কের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে। অটেক্সার তথ্যে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মোট তৈরি পোশাক আমদানি ১১.৬০ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৭৩ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।

রপ্তানিকারক ও উদ্যোক্তারা বলছেন, শুল্কের কারণে শুরুতে বাংলাদেশ সুবিধা পেলেও এখন পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। অতিরিক্ত শুল্ক উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্য বাড়িয়েছে, ফলে প্রতিযোগিতা ও মার্জিন উভয়ই চাপের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, যা আমেরিকান ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং নতুন অর্ডারের পরিমাণ কমার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

সংক্ষেপে, মার্কিন শুল্কনীতি ও বৈশ্বিক অস্থিরতার মিশ্র প্রভাবে বাংলাদেশের জন্য নতুন বাজারগত সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু স্থায়ী উন্নতির জন্য উৎপাদন খরচ, প্রতিযোগী মূল্যনীতি ও বৈশ্বিক চাহিদার অনিশ্চয়তা মোকাবেলা করা আবশ্যক।