১০:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

৫০ ওভারে ৮২২ ও দফায় ২৮ রানে অলআউট — স্করপিয়ন্সের অবিশ্বাস্য জয়

জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া ক্রিকেটে গত কিছুকাল ধরে দেখা হয়নি এমন এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য। মিথেন লায়ন্সের বিরুদ্ধে ৫০ ওভারের ম্যাচে স্করপিয়ন্স ক্রিকেট ক্লাব এক ইনিংসে ৮২২ রানের পাহাড় গড়লে প্রতিপক্ষ দলের সংগ্রহ মাত্র ২৮ রানে থেমে যায়। ম্যাচটি লিস্ট ‘এ’ বা আন্তর্জাতিক মর্যাদাপ্রাপ্ত টুর্নামেন্ট নয়, তবু এক দিনে এত বেশি রান ও এত বড় ব্যবধানের জয় ক্রিকেটবিশ্বে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। জানা গেছে, লিস্ট ‘এ’ পর্যায়ের ধারণামতে এর আগে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ হিসেবে ৫৭৪ রানের উল্লেখ পাওয়া যায়।

স্করপিয়ন্সের এই রেকর্ড সংগ্রহের পৃষ্টপোষক ছিলেন দুই ওপেনার— তাকুন্ডা মাদেম্বো ও উইনফেড মাতেন্ডে। ইনিংস শুরুর মুহূর্ত থেকেই তারা বোলারদের ওপর আক্রমণ চালান। মাদেম্বো ১৪৩ বল খেলে ৩০২ রানের আলোড়ন তুলে ধরেন; তাঁর ইনিংসে ছিল ৫০টি চার ও ৭টি ছক্কা। অন্যদিকে মাতেন্ডে মাত্র ৭৫ বল হাতে রেখে ২০৩ রান করে দলকে বিপুল সুবিধা এনে দেন, তাঁর ইনিংসে ২৩টি চার ও ১৩টি ছক্কার দেখা মিলেছিল। একক ব্যাটিংয়ে এত বড় স্কোর দেখা টপ অর্ডারের ক্রীড়াসংস্কৃতিতেও বিরল ঘটনা।

ওপেনারদের চলে যাবার পরও মধ্যপরিসরের ব্যাটাররা ধীরগতিতে ফিরে না এসে ঝড় তুলেন। তিন নম্বরে নেমে ভিনসেন্টে মোয়ো মাত্র ৩৯ বল খেলে ৭৮ রানের দ্রুত ইনিংস খেলেন। ইনিংসের শেষ দিকে গ্যাব্রিয়েল জায়া অপরাজিত থেকে ৪৯ বলে ১১০ রান করে টর্চার প্রভাব ধরে রাখেন। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে স্করপিয়ন্সের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৮২২। পুরো ইনিংসে ব্যাটারদের আগ্রাসী শাটিং দেখে বোঝাই যাচ্ছিল উইকেটটি ব্যাটিং-বান্ধব ছিল।

কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। সকালে বোলারদের জন্য সহজ মনে হওয়া পিচটি সন্ধ্যায় বোলারদের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়ায় না—বরং মিথেন লায়ন্সের ব্যাটারদের জন্য কাঁধে বোঝার মত ভূমিকা নেয়। একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে এবং দলটি মাত্র ২৮ রানে অলআউট হয়ে যায়। স্করপিয়ন্সের বোলাররা ধারাবাহিকভাবে সফল হয়ে প্রতিপক্ষকে বিধ্বস্ত করে তুলেন।

শেষভাগে স্করপিয়ন্স ৭৯৪ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় উৎসব করে। ক্রিকেটের স্বীকৃত কোনো সংস্করণেই এমন বিরল ব্যবধানে জয় বারবার দেখা যায় না। যদিও ম্যাচটি আন্তর্জাতিক মর্যাদার ছিল না, তবু একই দিনে ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি, ডাবল সেঞ্চুরি, একটি ট্রিপল সেঞ্চুরি ও দলীয় আতংকজনক সংগ্রহ—এই সব মিলিয়ে ম্যাচটি সারাবিশ্বে ক্রিকেটভক্তদের মধ্যে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনা মনে করিয়ে দিল যে ক্রিকেটে, বিশেষত ঘরোয়া বা কম পরিচিত সংস্করণে, কোনোদিনই বড় রেকর্ড ভাঙা বা নতুন রেকর্ড গড়া সম্ভব।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

৫০ ওভারে ৮২২ ও দফায় ২৮ রানে অলআউট — স্করপিয়ন্সের অবিশ্বাস্য জয়

প্রকাশিতঃ ০২:২২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া ক্রিকেটে গত কিছুকাল ধরে দেখা হয়নি এমন এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য। মিথেন লায়ন্সের বিরুদ্ধে ৫০ ওভারের ম্যাচে স্করপিয়ন্স ক্রিকেট ক্লাব এক ইনিংসে ৮২২ রানের পাহাড় গড়লে প্রতিপক্ষ দলের সংগ্রহ মাত্র ২৮ রানে থেমে যায়। ম্যাচটি লিস্ট ‘এ’ বা আন্তর্জাতিক মর্যাদাপ্রাপ্ত টুর্নামেন্ট নয়, তবু এক দিনে এত বেশি রান ও এত বড় ব্যবধানের জয় ক্রিকেটবিশ্বে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। জানা গেছে, লিস্ট ‘এ’ পর্যায়ের ধারণামতে এর আগে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ হিসেবে ৫৭৪ রানের উল্লেখ পাওয়া যায়।

স্করপিয়ন্সের এই রেকর্ড সংগ্রহের পৃষ্টপোষক ছিলেন দুই ওপেনার— তাকুন্ডা মাদেম্বো ও উইনফেড মাতেন্ডে। ইনিংস শুরুর মুহূর্ত থেকেই তারা বোলারদের ওপর আক্রমণ চালান। মাদেম্বো ১৪৩ বল খেলে ৩০২ রানের আলোড়ন তুলে ধরেন; তাঁর ইনিংসে ছিল ৫০টি চার ও ৭টি ছক্কা। অন্যদিকে মাতেন্ডে মাত্র ৭৫ বল হাতে রেখে ২০৩ রান করে দলকে বিপুল সুবিধা এনে দেন, তাঁর ইনিংসে ২৩টি চার ও ১৩টি ছক্কার দেখা মিলেছিল। একক ব্যাটিংয়ে এত বড় স্কোর দেখা টপ অর্ডারের ক্রীড়াসংস্কৃতিতেও বিরল ঘটনা।

ওপেনারদের চলে যাবার পরও মধ্যপরিসরের ব্যাটাররা ধীরগতিতে ফিরে না এসে ঝড় তুলেন। তিন নম্বরে নেমে ভিনসেন্টে মোয়ো মাত্র ৩৯ বল খেলে ৭৮ রানের দ্রুত ইনিংস খেলেন। ইনিংসের শেষ দিকে গ্যাব্রিয়েল জায়া অপরাজিত থেকে ৪৯ বলে ১১০ রান করে টর্চার প্রভাব ধরে রাখেন। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে স্করপিয়ন্সের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৮২২। পুরো ইনিংসে ব্যাটারদের আগ্রাসী শাটিং দেখে বোঝাই যাচ্ছিল উইকেটটি ব্যাটিং-বান্ধব ছিল।

কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। সকালে বোলারদের জন্য সহজ মনে হওয়া পিচটি সন্ধ্যায় বোলারদের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়ায় না—বরং মিথেন লায়ন্সের ব্যাটারদের জন্য কাঁধে বোঝার মত ভূমিকা নেয়। একের পর এক উইকেট পড়তে থাকে এবং দলটি মাত্র ২৮ রানে অলআউট হয়ে যায়। স্করপিয়ন্সের বোলাররা ধারাবাহিকভাবে সফল হয়ে প্রতিপক্ষকে বিধ্বস্ত করে তুলেন।

শেষভাগে স্করপিয়ন্স ৭৯৪ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় উৎসব করে। ক্রিকেটের স্বীকৃত কোনো সংস্করণেই এমন বিরল ব্যবধানে জয় বারবার দেখা যায় না। যদিও ম্যাচটি আন্তর্জাতিক মর্যাদার ছিল না, তবু একই দিনে ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি, ডাবল সেঞ্চুরি, একটি ট্রিপল সেঞ্চুরি ও দলীয় আতংকজনক সংগ্রহ—এই সব মিলিয়ে ম্যাচটি সারাবিশ্বে ক্রিকেটভক্তদের মধ্যে আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনা মনে করিয়ে দিল যে ক্রিকেটে, বিশেষত ঘরোয়া বা কম পরিচিত সংস্করণে, কোনোদিনই বড় রেকর্ড ভাঙা বা নতুন রেকর্ড গড়া সম্ভব।