১১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

টপকানো রেকর্ডে ধূমকেতু: ২৬৬ তাড়া করে বিশ্বরেকর্ড করে ওয়াশিংটন ফ্রিডম

মেজর লিগ ক্রিকেটের প্রথম এলিমিনেটর ম্যাচে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে চমকপ্রদ এক জয় ও নতুন রেকর্ড গড়েছে ওয়াশিংটন ফ্রিডম। ওকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী লড়াইয়ে এমআই নিউইয়র্ক নির্ধারিত ২০ ওভারে করেছে ২৬৬ রান। সেই পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়াশিংটন মাত্র ৮ বল বাকি রেখে ৪ উইকেটে ২৭০ রানে পৌঁছে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয়—টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় রান তাড়া করা জয়। একই সঙ্গে এক ম্যাচে মিলিয়ে ৫১টি ছক্কার রেকর্ড গড়ে এই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বাধিক ছক্কার ম্যাচ হিসেবে যুক্ত হলো, এবং আইপিএলে পাঞ্জাব কিংসের দিল্লির বিরুদ্ধে ২৬৪ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডও ভেঙে গেল।

টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করে এমআই নিউইয়র্ক সংগ্রহ করে ২৬৬ রানের বিশাল ইনিংস, যা মেজর লিগ ক্রিকেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। ওপেনার মোনাঙ্ক প্যাটেল দ্রুততর বিদায় নিলেও দ্বিতীয় উইকেটে কুইন্টন ডি কক ও নিকোলাস পুরানের ৪২ বলে ১১৮ রানের জুটি দলের টপ-স্কোর গড়ে তোলে। ডি কক ২৪ বলে ৫১ করে ফিরলেও পুরান একদম ঝড়ো নৈপুণ্যে নামেন—মাত্র ১৪ বলে ফিফটি করা এই ব্যাটসম্যান শেষ পর্যন্ত ৩৩ বলে ১০৬ রান করে। তার ইনিংসে ১৩টি ছক্কা ঝড়ে খেলেছে এবং এমএলসিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরি হিসেবেও এটি চিহ্নিত হলো।

এরপর কাইরন পোলার্ড আক্রমণাত্মক ভূমিকা থেকে ১৭ বলে ফিফটির পরে ২৫ বলে ৬৪ রান করে দলের সংগ্রহকে আরও সুদৃঢ় করে। ট্রেন্ট বোল্টের শেষ ওভারগুলোতে ১০ বলে ২২ রানের অনুষঙ্গ যোগ করে নিউইয়র্ক একটি বিপুল লক্ষ্য দাঁড় করায়। যদিও রানের জোয়ারে ওয়াশিংটনের বোলিং বিভাগে চোখে পড়ে রাচিন রাভিন্দ্রারার কৃতিত্ব—অষ্টম বোলারের দায়িত্বে এসে তিনি ৪ ওভারে মাত্র ২৯ রান দিতেই ৪ উইকেট শিকার করেন।

টিপ-টপ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়াশিংটন শুরুতেই বড় ধাক্কা খায়। ম্যাচের প্রথম ও দ্বিতীয় ওভারেই নিউইয়র্কের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান দুইটি দ্রুত উইকেট এনে তাদের ১০ রানে ২ উইকেটে পৌঁছে দেন। তবু এরপর যা হলো—তা টুকু ক্রিকেট দুনিয়াকে বাকরুদ্ধ করে দিল।

স্টিভেন স্মিথ ও আন্দ্রিয়েস হাউস মিলে বিপর্যয় কাটিয়ে তুলে বসেন এক দৃষ্টিনন্দন পাল্টা আক্রমণ। তৃতীয় উইকেটে এই যুগল গড়ে তোলে ৮৯ বলে ২৪১ রানের একটি ঐতিহাসিক জুটি, যা টি-টোয়েন্টিতে যেকোনো উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং তৃতীয় উইকেটে বিশ্বরেকর্ড হিসেবে রেকর্ডে উঠে আসে। হাউস মাত্র ১১ বলের ব্যবধানে ফিফটি থেকে সেঞ্চুরিতে পৌঁছে ৫১ বলে শতরান পূর্ণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত ১২টি ছক্কা ও ১০টি চারের সাহায্যে ১৩২ রানের ক্যারিয়ার বেস্ট ইনিংস খেলেন—এটি এমএলসিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরি। স্মিথ অবশ্য অস্ট্রেলিয়ান স্বভাবেই ঝড়ো ব্যাটিং করে অপরাজিত থেকে যান; মাত্র ৪০ বলে ১১০ রানে তিনি ৯টি ছক্কা হাঁকান।

মাঠের অনড় পরিস্থিতি বদলে দেওয়া এই দু’জনে পর পর হামলা চালিয়ে ১২ ওভার শেষে ১৪৪ রানের অবস্থান থেকে পরবর্তী তিন ওভারেই ৮১ রান যোগ করে সমীকরণ একেবারেই সহজ করে দেন। শেষের দিকে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলই ম্যাচটির পয়েন্টারে সিল মেরে দেন—তার এক ছক্কায় ম্যাচ শেষ হয়ে যায় এবং ওয়াশিংটন ৪ উইকেটে ২৭০ রান তুলেই জয় ছিনিয়ে নেয়।

এই নাটকীয় জয়ে ওয়াশিংটন ফ্রিডম কেবল ফাইনালে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জনই করেনি, তারা টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে একটি লেজেন্ডারি মুহূর্তও তৈরি করেছে—সবচেয়ে বড় তাড়া, সবচেয়ে ছক্কাবহ ম্যাচ এবং দ্রুততম সেঞ্চুরি-মুহূর্তগুলো এক মাঠেই জমায়েত হয়েছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা দীর্ঘদিন এই ম্যাচটি মনে রাখবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

টপকানো রেকর্ডে ধূমকেতু: ২৬৬ তাড়া করে বিশ্বরেকর্ড করে ওয়াশিংটন ফ্রিডম

প্রকাশিতঃ ০৭:২২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

মেজর লিগ ক্রিকেটের প্রথম এলিমিনেটর ম্যাচে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে চমকপ্রদ এক জয় ও নতুন রেকর্ড গড়েছে ওয়াশিংটন ফ্রিডম। ওকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী লড়াইয়ে এমআই নিউইয়র্ক নির্ধারিত ২০ ওভারে করেছে ২৬৬ রান। সেই পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়াশিংটন মাত্র ৮ বল বাকি রেখে ৪ উইকেটে ২৭০ রানে পৌঁছে অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয়—টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় রান তাড়া করা জয়। একই সঙ্গে এক ম্যাচে মিলিয়ে ৫১টি ছক্কার রেকর্ড গড়ে এই ম্যাচ টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বাধিক ছক্কার ম্যাচ হিসেবে যুক্ত হলো, এবং আইপিএলে পাঞ্জাব কিংসের দিল্লির বিরুদ্ধে ২৬৪ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডও ভেঙে গেল।

টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করে এমআই নিউইয়র্ক সংগ্রহ করে ২৬৬ রানের বিশাল ইনিংস, যা মেজর লিগ ক্রিকেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। ওপেনার মোনাঙ্ক প্যাটেল দ্রুততর বিদায় নিলেও দ্বিতীয় উইকেটে কুইন্টন ডি কক ও নিকোলাস পুরানের ৪২ বলে ১১৮ রানের জুটি দলের টপ-স্কোর গড়ে তোলে। ডি কক ২৪ বলে ৫১ করে ফিরলেও পুরান একদম ঝড়ো নৈপুণ্যে নামেন—মাত্র ১৪ বলে ফিফটি করা এই ব্যাটসম্যান শেষ পর্যন্ত ৩৩ বলে ১০৬ রান করে। তার ইনিংসে ১৩টি ছক্কা ঝড়ে খেলেছে এবং এমএলসিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরি হিসেবেও এটি চিহ্নিত হলো।

এরপর কাইরন পোলার্ড আক্রমণাত্মক ভূমিকা থেকে ১৭ বলে ফিফটির পরে ২৫ বলে ৬৪ রান করে দলের সংগ্রহকে আরও সুদৃঢ় করে। ট্রেন্ট বোল্টের শেষ ওভারগুলোতে ১০ বলে ২২ রানের অনুষঙ্গ যোগ করে নিউইয়র্ক একটি বিপুল লক্ষ্য দাঁড় করায়। যদিও রানের জোয়ারে ওয়াশিংটনের বোলিং বিভাগে চোখে পড়ে রাচিন রাভিন্দ্রারার কৃতিত্ব—অষ্টম বোলারের দায়িত্বে এসে তিনি ৪ ওভারে মাত্র ২৯ রান দিতেই ৪ উইকেট শিকার করেন।

টিপ-টপ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়াশিংটন শুরুতেই বড় ধাক্কা খায়। ম্যাচের প্রথম ও দ্বিতীয় ওভারেই নিউইয়র্কের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান দুইটি দ্রুত উইকেট এনে তাদের ১০ রানে ২ উইকেটে পৌঁছে দেন। তবু এরপর যা হলো—তা টুকু ক্রিকেট দুনিয়াকে বাকরুদ্ধ করে দিল।

স্টিভেন স্মিথ ও আন্দ্রিয়েস হাউস মিলে বিপর্যয় কাটিয়ে তুলে বসেন এক দৃষ্টিনন্দন পাল্টা আক্রমণ। তৃতীয় উইকেটে এই যুগল গড়ে তোলে ৮৯ বলে ২৪১ রানের একটি ঐতিহাসিক জুটি, যা টি-টোয়েন্টিতে যেকোনো উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং তৃতীয় উইকেটে বিশ্বরেকর্ড হিসেবে রেকর্ডে উঠে আসে। হাউস মাত্র ১১ বলের ব্যবধানে ফিফটি থেকে সেঞ্চুরিতে পৌঁছে ৫১ বলে শতরান পূর্ণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত ১২টি ছক্কা ও ১০টি চারের সাহায্যে ১৩২ রানের ক্যারিয়ার বেস্ট ইনিংস খেলেন—এটি এমএলসিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও ব্যাটসম্যানের প্রথম সেঞ্চুরি। স্মিথ অবশ্য অস্ট্রেলিয়ান স্বভাবেই ঝড়ো ব্যাটিং করে অপরাজিত থেকে যান; মাত্র ৪০ বলে ১১০ রানে তিনি ৯টি ছক্কা হাঁকান।

মাঠের অনড় পরিস্থিতি বদলে দেওয়া এই দু’জনে পর পর হামলা চালিয়ে ১২ ওভার শেষে ১৪৪ রানের অবস্থান থেকে পরবর্তী তিন ওভারেই ৮১ রান যোগ করে সমীকরণ একেবারেই সহজ করে দেন। শেষের দিকে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলই ম্যাচটির পয়েন্টারে সিল মেরে দেন—তার এক ছক্কায় ম্যাচ শেষ হয়ে যায় এবং ওয়াশিংটন ৪ উইকেটে ২৭০ রান তুলেই জয় ছিনিয়ে নেয়।

এই নাটকীয় জয়ে ওয়াশিংটন ফ্রিডম কেবল ফাইনালে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জনই করেনি, তারা টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে একটি লেজেন্ডারি মুহূর্তও তৈরি করেছে—সবচেয়ে বড় তাড়া, সবচেয়ে ছক্কাবহ ম্যাচ এবং দ্রুততম সেঞ্চুরি-মুহূর্তগুলো এক মাঠেই জমায়েত হয়েছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা দীর্ঘদিন এই ম্যাচটি মনে রাখবে।