০৭:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘পশ্চিমবঙ্গে বুলডোজার রাজনীতি চলবে না’ — মমতা

পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সরকারের জয়ের পর রাজ্যজুড়ে যেসব ‘অবৈধ দখলদারিত্ব বিরোধী’ উচ্ছেদ অভিযান চালু হয়েছে, সেগুলোকে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর নিন্দা জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বুলডোজার রাজনীতি’কে চরমভাবে নিন্দা করেন।

বিবৃতিতে মমতা বলেন, ‘‘সংস্কৃতি, সহানুভূতি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকে এগিয়ে নিয়ে গড়ে ওঠা এ রাজ্যে বুলডোজার শাসনের কোনো জায়গা নেই। সাধারণ মানুষকে উচ্ছেদ করে, ভয় দেখিয়ে বা জোর করে কেউ এ ভূমিকে শাসন করতে পারবে না।’’

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি কলকাতার পার্ক সার্কাস ও তিলজলা এলাকায় রেলপথের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে শহরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পাশাপাশি হাওড়া স্টেশনের আশপাশেও ব্যাপক উচ্ছেদ চালানো হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর।

মমতা এসব ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘‘আজ আমরা যা দেখছি তা বাংলার মানুষের আত্মমর্যাদার ওপর একটি বড় আঘাত। দিনমজুর, হকার, ছোট দোকানদার ও সংগ্রামী পরিবারগুলো—যারা দিনরাত কষ্ট করে নিজেরা জীবিকা গড়ে তুলেছেন—তারা এই নয়া সরকারের নীতির কাছে নির্মমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’’

তিনি অভিযোগ করেন যে, এই উচ্ছেদ অভিযানগুলো কোনো পূর্বনোটিশ ছাড়াই করা হচ্ছে এবং পরে ভুক্তভোগীদের কথা শোনা হচ্ছে না। ‘‘একটি সভ্য সমাজে মানবতার চেয়ে প্রচারকে প্রাধান্য দিলে সেই সমাজ তার আসল চেতনা হারিয়ে ফেলে,’’ তিনি লেখেন। মমতা মনে করিয়ে দেন, একটি রাজ্যের উন্নতি মাপা হয় দুর্বল ও অসহায় নাগরিক কীভাবে রক্ষা পাচ্ছে তা দেখেই, তাদের দ্রুত উচ্ছেদ করে মুছে ফেলা দিয়ে নয়।

রাজ্যের প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ মমতার এই অভিযোগ নাকচ করে বলছে যে এসব উচ্ছেদ অভিযানের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই; এগুলো ‘‘নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান’’ এবং আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে তর্ক-তালঃ ঝগড়া চলছে।

উল্লেখ্য, গত ৪ মে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি রাজ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে (২০৭ আসন) নতুন সরকার গঠন করে। তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ওই নির্বাচনে নাটকীয়ভাবে নেমে আসে ৮০-এ। নতুন সরকার গঠনের দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযানের ফলে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষ তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই এবং একমাত্র জীবিকা হারিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝে নাগরিক অধিকার, মানবিক বিবেচনা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার দাবি আরও জোরাল হচ্ছে। মমতার কণ্ঠস্বর ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া—এই দুইয়ের লড়াই এখন রাজ্য রাজনীতিকে গলিত রাখছে, এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার প্রশ্নটি সামনে রেখে বিতর্ক চলছেই।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

‘পশ্চিমবঙ্গে বুলডোজার রাজনীতি চলবে না’ — মমতা

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সরকারের জয়ের পর রাজ্যজুড়ে যেসব ‘অবৈধ দখলদারিত্ব বিরোধী’ উচ্ছেদ অভিযান চালু হয়েছে, সেগুলোকে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর নিন্দা জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বুলডোজার রাজনীতি’কে চরমভাবে নিন্দা করেন।

বিবৃতিতে মমতা বলেন, ‘‘সংস্কৃতি, সহানুভূতি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকে এগিয়ে নিয়ে গড়ে ওঠা এ রাজ্যে বুলডোজার শাসনের কোনো জায়গা নেই। সাধারণ মানুষকে উচ্ছেদ করে, ভয় দেখিয়ে বা জোর করে কেউ এ ভূমিকে শাসন করতে পারবে না।’’

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি কলকাতার পার্ক সার্কাস ও তিলজলা এলাকায় রেলপথের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে শহরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পাশাপাশি হাওড়া স্টেশনের আশপাশেও ব্যাপক উচ্ছেদ চালানো হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর।

মমতা এসব ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘‘আজ আমরা যা দেখছি তা বাংলার মানুষের আত্মমর্যাদার ওপর একটি বড় আঘাত। দিনমজুর, হকার, ছোট দোকানদার ও সংগ্রামী পরিবারগুলো—যারা দিনরাত কষ্ট করে নিজেরা জীবিকা গড়ে তুলেছেন—তারা এই নয়া সরকারের নীতির কাছে নির্মমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’’

তিনি অভিযোগ করেন যে, এই উচ্ছেদ অভিযানগুলো কোনো পূর্বনোটিশ ছাড়াই করা হচ্ছে এবং পরে ভুক্তভোগীদের কথা শোনা হচ্ছে না। ‘‘একটি সভ্য সমাজে মানবতার চেয়ে প্রচারকে প্রাধান্য দিলে সেই সমাজ তার আসল চেতনা হারিয়ে ফেলে,’’ তিনি লেখেন। মমতা মনে করিয়ে দেন, একটি রাজ্যের উন্নতি মাপা হয় দুর্বল ও অসহায় নাগরিক কীভাবে রক্ষা পাচ্ছে তা দেখেই, তাদের দ্রুত উচ্ছেদ করে মুছে ফেলা দিয়ে নয়।

রাজ্যের প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ মমতার এই অভিযোগ নাকচ করে বলছে যে এসব উচ্ছেদ অভিযানের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই; এগুলো ‘‘নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান’’ এবং আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে তর্ক-তালঃ ঝগড়া চলছে।

উল্লেখ্য, গত ৪ মে ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি রাজ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে (২০৭ আসন) নতুন সরকার গঠন করে। তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ওই নির্বাচনে নাটকীয়ভাবে নেমে আসে ৮০-এ। নতুন সরকার গঠনের দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযানের ফলে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষ তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই এবং একমাত্র জীবিকা হারিয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝে নাগরিক অধিকার, মানবিক বিবেচনা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার দাবি আরও জোরাল হচ্ছে। মমতার কণ্ঠস্বর ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া—এই দুইয়ের লড়াই এখন রাজ্য রাজনীতিকে গলিত রাখছে, এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষার প্রশ্নটি সামনে রেখে বিতর্ক চলছেই।