০১:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
চলতি ১০ মাসে রাজস্ব ঘাটতি ছাড়ালো ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা সেবা দেওয়া করুণা নয়, সরকারের মৌলিক দায়িত্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ে টাইগারদের অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী সেবা জনগণের প্রতি করুণা নয়, সরকারের দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাকিস্তানকে হারিয়ে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জেতায় টাইগারদের অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান চিফ হুইপ: গণতন্ত্র ছাড়া কোনও উন্নয়ন সম্ভব নয় তথ্যমন্ত্রী: গণমাধ্যম কমিশন গঠনে সরকার এগোচ্ছে, জুনে পরামর্শক কমিটি মিরানা মাহরুখকে বিদ্যুৎ বিভাগের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ বেবিচকে আইকাও প্রশিক্ষক কোর্সের সনদ বিতরণ শামা ওবায়েদ: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদার হচ্ছে

কঙ্গোয় ইবোলা: ১৩১ জনের মৃত্যু, ৫১৩+ সন্দেহভাজন; উগান্ডায়ও আক্রান্ত

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাবে ফলস্বরূপ এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩১ জন মারা গেছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং বিবিসির তথ্য অনুযায়ী সেখানে ৫১৩ জনেরও বেশি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। কঙ্গো সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সংক্রমণটি এখন আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।

মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, প্রতিবেশী উগান্ডায়ও দুইজন নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়েছেন এবং একজন মারা গেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এইবারের ক্ষেত্রে ভাইরাসের ধরন হিসেবে শনাক্ত হয়েছে বুন্ডিবুগ্যো স্ট্রেইন।

যদিও ইবোলার বিস্তার বেড়ে যায়, কঙ্গো সরকার সাধারণ জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং জানিয়েছে তাদের টিমগুলো সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার জন্য কাজ করছে। তবু নিয়াকুন্ডে, বুটেম্বো ও গোماর মতো নতুন এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

সিডিসি জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে ডিআর কঙ্গোতে কর্মরত একজন মার্কিন চিকিৎসক রয়েছেন। ওই চিকিৎসককে চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে নেওয়া হবে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানায়; সিডিসি তার নাম প্রকাশ করেনি। তবে মিশনারি সংগঠন ‘সার্জ’ তাদের চিকিৎসক পিটার স্ট্যাফোর্ডের ইবোলা পজিটিভ হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে।

সংস্থাটি জানায়, স্ট্যাফোর্ডের স্ত্রী রেবেকা ও আরও একজন চিকিৎসক রোগসেবার সময় ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন, কিন্তু তাদের মধ্যে এখনো কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি; তারা বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। সিবিএস আরও জানিয়েছে, অন্তত ছয় জন আমেরিকান এই প্রাদুর্ভাবের সময় ইবোলার সংস্পর্শে এসেছেন; সিডিসি কয়েকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সহায়তা করছে যদিও মোট সংখ্যাটি স্পষ্ট করেনি।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার কঙ্গোয় থাকা কিছু আমেরিকান নাগরিককে নিরাপদ কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, তাদেরকে জার্মানিতে অবস্থিত একটি আমেরিকান সামরিক ঘাঁটিতে নেওয়া হতে পারে, যদিও তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সিডিসি গত রোববারের সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ের প্রশ্নের দিকে সরাসরি সাড়া দেননি।

যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রমণের ঝুঁকি আপাতত তুলনামূলকভাবে কম বলেও সিডিসি জানিয়েছে, তবুও তারা রোগটির দেশে প্রবেশ ঠেকাতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

ইতিহাসতেও ইবোলা ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। ২০১৪–২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় বড় প্রাদুর্ভাবে প্রায় ২৮ হাজার ৬০০ জন আক্রান্ত হয়ে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে মোট ১১ হাজার ৩২৫ জনেরও বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। ১৯৭৬ সালে ভাইরাসটি আবিষ্কৃত হওয়ার পর এটিই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব।

আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের প্রধান জিন কাসেয়া সতর্ক করে বলেছেন, টিকা বা কার্যকর ওষুধের অভাবে জনস্বাস্থ্যগত নিয়মগুলো অনুসরণ করা সবচেয়ে জরুরি—বিশেষত মৃতদেহের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। এক দশক আগের মহামারিতে স্বজনদের মরদেহ ধৌত করার মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়ানোয়ের ঘটনা ঘটেছিল।

ডব্লিউএইচও কঙ্গো ও উগান্ডাকে সীমান্ত এলাকায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোকে তাদের নজরদারি ও প্রস্তুতি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেশী রুয়ান্ডা জানিয়েছে তারা কঙ্গোর সীমান্তে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কড়াকড়ি করছে, আর নাইজেরিয়া পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

সর্বশেষ পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল; তাই স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্দেশনা মেনে চলা এবং ঝুঁকিভাগের তথ্যই সর্বোত্তম নির্দেশনা সরবরাহ করবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চলতি ১০ মাসে রাজস্ব ঘাটতি ছাড়ালো ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা

কঙ্গোয় ইবোলা: ১৩১ জনের মৃত্যু, ৫১৩+ সন্দেহভাজন; উগান্ডায়ও আক্রান্ত

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের নতুন প্রাদুর্ভাবে ফলস্বরূপ এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩১ জন মারা গেছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং বিবিসির তথ্য অনুযায়ী সেখানে ৫১৩ জনেরও বেশি সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। কঙ্গো সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সংক্রমণটি এখন আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।

মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, প্রতিবেশী উগান্ডায়ও দুইজন নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়েছেন এবং একজন মারা গেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এই প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এইবারের ক্ষেত্রে ভাইরাসের ধরন হিসেবে শনাক্ত হয়েছে বুন্ডিবুগ্যো স্ট্রেইন।

যদিও ইবোলার বিস্তার বেড়ে যায়, কঙ্গো সরকার সাধারণ জনগণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং জানিয়েছে তাদের টিমগুলো সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার জন্য কাজ করছে। তবু নিয়াকুন্ডে, বুটেম্বো ও গোماর মতো নতুন এলাকায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

সিডিসি জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে ডিআর কঙ্গোতে কর্মরত একজন মার্কিন চিকিৎসক রয়েছেন। ওই চিকিৎসককে চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে নেওয়া হবে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানায়; সিডিসি তার নাম প্রকাশ করেনি। তবে মিশনারি সংগঠন ‘সার্জ’ তাদের চিকিৎসক পিটার স্ট্যাফোর্ডের ইবোলা পজিটিভ হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে।

সংস্থাটি জানায়, স্ট্যাফোর্ডের স্ত্রী রেবেকা ও আরও একজন চিকিৎসক রোগসেবার সময় ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন, কিন্তু তাদের মধ্যে এখনো কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি; তারা বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। সিবিএস আরও জানিয়েছে, অন্তত ছয় জন আমেরিকান এই প্রাদুর্ভাবের সময় ইবোলার সংস্পর্শে এসেছেন; সিডিসি কয়েকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সহায়তা করছে যদিও মোট সংখ্যাটি স্পষ্ট করেনি।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার কঙ্গোয় থাকা কিছু আমেরিকান নাগরিককে নিরাপদ কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, তাদেরকে জার্মানিতে অবস্থিত একটি আমেরিকান সামরিক ঘাঁটিতে নেওয়া হতে পারে, যদিও তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সিডিসি গত রোববারের সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ের প্রশ্নের দিকে সরাসরি সাড়া দেননি।

যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রমণের ঝুঁকি আপাতত তুলনামূলকভাবে কম বলেও সিডিসি জানিয়েছে, তবুও তারা রোগটির দেশে প্রবেশ ঠেকাতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

ইতিহাসতেও ইবোলা ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। ২০১৪–২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় বড় প্রাদুর্ভাবে প্রায় ২৮ হাজার ৬০০ জন আক্রান্ত হয়ে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে মোট ১১ হাজার ৩২৫ জনেরও বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। ১৯৭৬ সালে ভাইরাসটি আবিষ্কৃত হওয়ার পর এটিই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব।

আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের প্রধান জিন কাসেয়া সতর্ক করে বলেছেন, টিকা বা কার্যকর ওষুধের অভাবে জনস্বাস্থ্যগত নিয়মগুলো অনুসরণ করা সবচেয়ে জরুরি—বিশেষত মৃতদেহের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার। এক দশক আগের মহামারিতে স্বজনদের মরদেহ ধৌত করার মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়ানোয়ের ঘটনা ঘটেছিল।

ডব্লিউএইচও কঙ্গো ও উগান্ডাকে সীমান্ত এলাকায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোকে তাদের নজরদারি ও প্রস্তুতি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেশী রুয়ান্ডা জানিয়েছে তারা কঙ্গোর সীমান্তে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কড়াকড়ি করছে, আর নাইজেরিয়া পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

সর্বশেষ পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল; তাই স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্দেশনা মেনে চলা এবং ঝুঁকিভাগের তথ্যই সর্বোত্তম নির্দেশনা সরবরাহ করবে।