০৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শ্যাংজির লিউশেনিউ কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত ৯০, নিখোঁজ ৯

চীনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ শ্যাংজির লিউশেনিউ কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে, ঘটনায় কমপক্ষে ৯০ জন নিহত এবং ৯ জন নিখোঁজ। এ ঘটনায় শতাধিক মানুষ জখম হয়েছেন এবং উদ্ধারকর্মীরা এখনও মৃতদেহ ও জীবিতদের খুঁজছেন।

স্থানীয় সময় শুক্রবার ২২ মে সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিটে বিস্ফোরণটি ঘটে। তখন খনিতে কাজ করছিলেন মোট ২৪৭ জন শ্রমিক। চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার বরাতে বলা হয়েছে, এই দুর্ঘটনাটি গত ১৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় খনি দুর্ঘটনারূপে বিবেচিত হচ্ছে।

বিস্ফোরণের পর মুহূর্তের মধ্যে উদ্ধারকাজ শুরু করা হলে তা পরিচালনা করেন প্রায় ৩৫৪ জন উদ্ধারকর্মী। শনিবার ভোর থেকে ধীরে ধীরে খনির ভিতর থেকে শ্রমিকদের বাইরে আনা হয়; বর্তমানে ৯০ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৯ জনের সন্ধানে তৎপরতা চলমান। জীবিতদের মধ্যে অনেকে সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন, তাই নিহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কাও করছে কর্তৃপক্ষ।

চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের পর খনির ভেতরে ব্যাপক মাত্রায় বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ শুরু হয়, যা বহু প্রাণহানির প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও জীবিতদের ‘সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা’ প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। আহত ও নিহতদের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং খনিটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শ্যাংজি দেশটির সবচেয়ে দারিদ্র্যতাগ্রস্ত প্রদেশগুলোর একটি এবং এ অঞ্চলকে প্রায়শই ‘কয়লার রাজধানী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। যদিও সাম্প্রতিক দশকগুলোতে খনিশ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেকটাই উন্নত হয়েছে, তবু খনি দুর্ঘটনা এখানে বিরল নয় এবং মাঝে মাঝে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেই যায়।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে চীনের উত্তরাঞ্চলীয় হেইলংজিয়াং প্রদেশের একটি খনি বিস্ফোরণে ১০৮ জন নিহত হন; সেই ঘটনাটিকে চীনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় খনি দুর্ঘটনাগুলোর এক হিসেবে দেখা হয়। বর্তমানে উদ্ধার ও তদন্ত কাজ চলমান আছে এবং কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

শ্যাংজির লিউশেনিউ কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত ৯০, নিখোঁজ ৯

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

চীনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ শ্যাংজির লিউশেনিউ কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে, ঘটনায় কমপক্ষে ৯০ জন নিহত এবং ৯ জন নিখোঁজ। এ ঘটনায় শতাধিক মানুষ জখম হয়েছেন এবং উদ্ধারকর্মীরা এখনও মৃতদেহ ও জীবিতদের খুঁজছেন।

স্থানীয় সময় শুক্রবার ২২ মে সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিটে বিস্ফোরণটি ঘটে। তখন খনিতে কাজ করছিলেন মোট ২৪৭ জন শ্রমিক। চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার বরাতে বলা হয়েছে, এই দুর্ঘটনাটি গত ১৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় খনি দুর্ঘটনারূপে বিবেচিত হচ্ছে।

বিস্ফোরণের পর মুহূর্তের মধ্যে উদ্ধারকাজ শুরু করা হলে তা পরিচালনা করেন প্রায় ৩৫৪ জন উদ্ধারকর্মী। শনিবার ভোর থেকে ধীরে ধীরে খনির ভিতর থেকে শ্রমিকদের বাইরে আনা হয়; বর্তমানে ৯০ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৯ জনের সন্ধানে তৎপরতা চলমান। জীবিতদের মধ্যে অনেকে সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন, তাই নিহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কাও করছে কর্তৃপক্ষ।

চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের পর খনির ভেতরে ব্যাপক মাত্রায় বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ শুরু হয়, যা বহু প্রাণহানির প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও জীবিতদের ‘সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা’ প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। আহত ও নিহতদের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং খনিটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শ্যাংজি দেশটির সবচেয়ে দারিদ্র্যতাগ্রস্ত প্রদেশগুলোর একটি এবং এ অঞ্চলকে প্রায়শই ‘কয়লার রাজধানী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। যদিও সাম্প্রতিক দশকগুলোতে খনিশ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেকটাই উন্নত হয়েছে, তবু খনি দুর্ঘটনা এখানে বিরল নয় এবং মাঝে মাঝে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেই যায়।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে চীনের উত্তরাঞ্চলীয় হেইলংজিয়াং প্রদেশের একটি খনি বিস্ফোরণে ১০৮ জন নিহত হন; সেই ঘটনাটিকে চীনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় খনি দুর্ঘটনাগুলোর এক হিসেবে দেখা হয়। বর্তমানে উদ্ধার ও তদন্ত কাজ চলমান আছে এবং কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছে।