১০:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ইউরোপে সাফল্য: সান মারিনোকে হারিয়ে ইতিহাস রচনা করল বাংলাদেশ

শুক্রবার রাতে সান মারিনো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইউরোপীয় মাটিতে প্রথমবারের মতো জিতেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষের মাঠে জয় পাওয়া লাল-সবুজদের জন্য এক স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি করেছে।

ম্যাচের প্রথম দিকে কিছুটা দাপট দেখাল স্বাগতিকরা, কিন্তু ১৯ মিনিটে আলোর মুখ দেখল বাংলাদেশ। হামজা চৌধুরীর নিখুঁত ফ্রি-কিক থেকে শেখ মোরসালিন বল বাড়ালে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ চমৎকার হেডে বলটি জালে জড়ান। তবে ৩৩ মিনিটে তপুর একটি রক্ষণভাগীয় ভুল কাজে লাগিয়ে সান মারিনোর ফরোয়ার্ড নিকোলাস গোল করে ম্যাচ আবার সমতায় টেনে আনেন। গোলরক্ষক মিতুল মারমা ঝাঁপ দিয়েও বল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন এবং প্রথমার্ধ ১-১ দিয়ে শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে প্রধান কোচ থমাস ডুলি কৌশলী বদল আনেন। প্রবাসী ফুটবলার সামিত সোম ও জায়ান আহমেদ মাঠে নামার পর বাংলাদেশের আক্রমণ আরও ধারালো হয়। ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের শক্ত শট সাইড পোস্টে লেগে ফিরে গেলে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় টিম। পরের দিকে ডুলির সিদ্ধান্তে বিশ্বনাথ ঘোষকে রাইট উইংয়ে খেলানো হয়, যা আক্রমণে নতুন ভিন্নতা এনে দেয়।

ম্যাচের ৮৬ মিনিটে ফিরতি রুদ্ধশ্বাস দৃশ্য — হামজার ফ্রি-কিক ও বিশ্বনাথের ভলির পরে এসে তপু বর্মণের মাথায় লেগে বল জালে জড়িয়ে বাংলাদেশ আবার এগিয়ে যায়। শেষ মিনিটগুলোয় সান মারিনো বারবার আক্রমণ জোর করলে রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক মিতুল মারমা সক্রিয় থাকায় তারা সমতা এনে দিতে পারেনি; ইনজুরি টাইমে একবার বল প্রায় গোললাইন পেরিয়েছিল, কিন্তু মিতুলের তৎপরতায় সেটিও জালে যায়নি।

রোম, ভেনিসসহ ইতালির বিভিন্ন শহর থেকে আসা হাজার হাজার প্রবাসী দর্শকের উল্লাস আর উচ্ছ্বাস স্টেডিয়ামকে যেন বাংলার এক টুকরো করে তুলেছিল এবং খেলোয়াড়দের বাড়িতেই খেলছে এমন মানসিক শক্তি জুগিয়েছে।

এই জয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছরের অপেক্ষার পর ইউরোপীয় মাটিতে জয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করল টাইগাররা — যা কেবল একটি ম্যাচ জয় নয়, বরং দেশের ফুটবলের সক্ষমতা ও সম্ভাবনার শক্তিশালী সাক্ষ্য।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ইউরোপে সাফল্য: সান মারিনোকে হারিয়ে ইতিহাস রচনা করল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ ১০:৩৭:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

শুক্রবার রাতে সান মারিনো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইউরোপীয় মাটিতে প্রথমবারের মতো জিতেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষের মাঠে জয় পাওয়া লাল-সবুজদের জন্য এক স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি করেছে।

ম্যাচের প্রথম দিকে কিছুটা দাপট দেখাল স্বাগতিকরা, কিন্তু ১৯ মিনিটে আলোর মুখ দেখল বাংলাদেশ। হামজা চৌধুরীর নিখুঁত ফ্রি-কিক থেকে শেখ মোরসালিন বল বাড়ালে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ চমৎকার হেডে বলটি জালে জড়ান। তবে ৩৩ মিনিটে তপুর একটি রক্ষণভাগীয় ভুল কাজে লাগিয়ে সান মারিনোর ফরোয়ার্ড নিকোলাস গোল করে ম্যাচ আবার সমতায় টেনে আনেন। গোলরক্ষক মিতুল মারমা ঝাঁপ দিয়েও বল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হন এবং প্রথমার্ধ ১-১ দিয়ে শেষ হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে প্রধান কোচ থমাস ডুলি কৌশলী বদল আনেন। প্রবাসী ফুটবলার সামিত সোম ও জায়ান আহমেদ মাঠে নামার পর বাংলাদেশের আক্রমণ আরও ধারালো হয়। ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের শক্ত শট সাইড পোস্টে লেগে ফিরে গেলে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় টিম। পরের দিকে ডুলির সিদ্ধান্তে বিশ্বনাথ ঘোষকে রাইট উইংয়ে খেলানো হয়, যা আক্রমণে নতুন ভিন্নতা এনে দেয়।

ম্যাচের ৮৬ মিনিটে ফিরতি রুদ্ধশ্বাস দৃশ্য — হামজার ফ্রি-কিক ও বিশ্বনাথের ভলির পরে এসে তপু বর্মণের মাথায় লেগে বল জালে জড়িয়ে বাংলাদেশ আবার এগিয়ে যায়। শেষ মিনিটগুলোয় সান মারিনো বারবার আক্রমণ জোর করলে রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক মিতুল মারমা সক্রিয় থাকায় তারা সমতা এনে দিতে পারেনি; ইনজুরি টাইমে একবার বল প্রায় গোললাইন পেরিয়েছিল, কিন্তু মিতুলের তৎপরতায় সেটিও জালে যায়নি।

রোম, ভেনিসসহ ইতালির বিভিন্ন শহর থেকে আসা হাজার হাজার প্রবাসী দর্শকের উল্লাস আর উচ্ছ্বাস স্টেডিয়ামকে যেন বাংলার এক টুকরো করে তুলেছিল এবং খেলোয়াড়দের বাড়িতেই খেলছে এমন মানসিক শক্তি জুগিয়েছে।

এই জয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছরের অপেক্ষার পর ইউরোপীয় মাটিতে জয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করল টাইগাররা — যা কেবল একটি ম্যাচ জয় নয়, বরং দেশের ফুটবলের সক্ষমতা ও সম্ভাবনার শক্তিশালী সাক্ষ্য।