০৮:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ভ্যাট রিটার্নে বড় পরিবর্তন: মাসিক নয়, ত্রৈমাসিক দাখিল

সরকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ভোগান্তি কমিয়ে ব্যবসা সহজীকরণের লক্ষ্যে ভ্যাট রিটার্ন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে ভ্যাট নিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের জন্য মাসিক বাধ্যতামূলক রিটার্ন দাখিলের নিয়মটি তুলে নিয়ে ত্রৈমাসিক (প্রতি তিন মাস অন্তর) রিটার্ন গ্রহণের প্রস্তাব দিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

নতুন নিয়মে বছরের মধ্যে মাত্র চারবার রিটার্ন দাখিল করতে হবে, যা ব্যবসায়ীদের প্রশাসনিক কাজ ও কাগজপত্র সংক্রান্ত ঝামেলা কমাবে। এনবিআর বলেছে পুরো ভ্যাট ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে শতভাগ স্বয়ংক্রিয় করা হবে। ফলে করদাতাদের আর কাগজপত্র নিয়ে অফিস-আদালতে ঘোরাঘুরি করতে হবে না এবং অডিটও ডিজিটালভাবে সম্পন্ন হবে—বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান ইআরপি সফটওয়্যার ব্যবহার করে তাদের লেনদেন অনলাইনে থাকলে। এর ফলে মাঠপর্যায়ের ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের প্রয়োজন অনেকাংশে শূন্যের কাছাকাছি চলে আসবে।

বর্তমান ভ্যাট আইনে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে অনলাইনে মূসক-৯.১ ফরমে রিটার্ন জমা দিতে হয়। নির্ধারিত সময়ের সামান্য বিলম্বেও জরিমানা ও অতিরিক্ত সুদ গুণতে হয়। বহু ছোট ব্যবসায়ী এই মাসিক রিটার্ন ব্যবস্থাকে বড় বোঝা হিসেবে দেখতেন; এ কারণেই অনেকে ভ্যাট নিবন্ধন এড়িয়ে চলতেন। এনবিআর আশা করছে ত্রৈমাসিক পদ্ধতি চালু হলে করদানের প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং কর ফাঁকির প্রবণতাও কমবে।

সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৭৫ হাজার। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রেকর্ড ১ লাখ ৩১ হাজার নতুন প্রতিষ্ঠান ভ্যাটভুক্ত করা হয়েছিল। এনবিআরের লক্ষ্য এই সহজ ও ব্যবসাবান্ধব ত্রৈমাসিক রিটার্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে আগামী অর্থবছরে ভ্যাট নিবন্ধনের সংখ্যা ২০ লাখে উন্নীত করা।

এই পরিবর্তন কবে থেকে কার্যকর হবে এবং রূপায়ণের আরও কোন পর্যায়গুলো রয়েছে—এসব বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা বাজেট ঘোষণার পর জানানো হবে। তবু ব্যবসায়ীরা আশা করছেন যে নতুন নিয়মে প্রশাসনিক বোঝা কমে কাজকর্মে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প-উদ্যোগে সহায়তা মিলবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ভ্যাট রিটার্নে বড় পরিবর্তন: মাসিক নয়, ত্রৈমাসিক দাখিল

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

সরকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ভোগান্তি কমিয়ে ব্যবসা সহজীকরণের লক্ষ্যে ভ্যাট রিটার্ন পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে ভ্যাট নিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের জন্য মাসিক বাধ্যতামূলক রিটার্ন দাখিলের নিয়মটি তুলে নিয়ে ত্রৈমাসিক (প্রতি তিন মাস অন্তর) রিটার্ন গ্রহণের প্রস্তাব দিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

নতুন নিয়মে বছরের মধ্যে মাত্র চারবার রিটার্ন দাখিল করতে হবে, যা ব্যবসায়ীদের প্রশাসনিক কাজ ও কাগজপত্র সংক্রান্ত ঝামেলা কমাবে। এনবিআর বলেছে পুরো ভ্যাট ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে শতভাগ স্বয়ংক্রিয় করা হবে। ফলে করদাতাদের আর কাগজপত্র নিয়ে অফিস-আদালতে ঘোরাঘুরি করতে হবে না এবং অডিটও ডিজিটালভাবে সম্পন্ন হবে—বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান ইআরপি সফটওয়্যার ব্যবহার করে তাদের লেনদেন অনলাইনে থাকলে। এর ফলে মাঠপর্যায়ের ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের প্রয়োজন অনেকাংশে শূন্যের কাছাকাছি চলে আসবে।

বর্তমান ভ্যাট আইনে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে অনলাইনে মূসক-৯.১ ফরমে রিটার্ন জমা দিতে হয়। নির্ধারিত সময়ের সামান্য বিলম্বেও জরিমানা ও অতিরিক্ত সুদ গুণতে হয়। বহু ছোট ব্যবসায়ী এই মাসিক রিটার্ন ব্যবস্থাকে বড় বোঝা হিসেবে দেখতেন; এ কারণেই অনেকে ভ্যাট নিবন্ধন এড়িয়ে চলতেন। এনবিআর আশা করছে ত্রৈমাসিক পদ্ধতি চালু হলে করদানের প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং কর ফাঁকির প্রবণতাও কমবে।

সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ ৭৫ হাজার। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে একটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রেকর্ড ১ লাখ ৩১ হাজার নতুন প্রতিষ্ঠান ভ্যাটভুক্ত করা হয়েছিল। এনবিআরের লক্ষ্য এই সহজ ও ব্যবসাবান্ধব ত্রৈমাসিক রিটার্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে আগামী অর্থবছরে ভ্যাট নিবন্ধনের সংখ্যা ২০ লাখে উন্নীত করা।

এই পরিবর্তন কবে থেকে কার্যকর হবে এবং রূপায়ণের আরও কোন পর্যায়গুলো রয়েছে—এসব বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা বাজেট ঘোষণার পর জানানো হবে। তবু ব্যবসায়ীরা আশা করছেন যে নতুন নিয়মে প্রশাসনিক বোঝা কমে কাজকর্মে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প-উদ্যোগে সহায়তা মিলবে।