০৬:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
তিন বাহিনীর বঞ্চিত ১৫০ কর্মকর্তাকে পুনর্বাসন ও বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপ মেনে নেব না: চিফ হুইপ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়: চিফ হুইপ প্রবাসী আয়ে রিজার্ভে সুর ফেরেছে: রিজার্ভ পুনরায় ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ওপরে প্রবাসী আয়ের জোয়ারে রিজার্ভে ফের প্রাণ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশীদের নাক গলানো গ্রহণযোগ্য নয়: চিফ হুইপ আগামী ১০ জুলাই ঢামেক পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুদকের মহাপরিচালক পদে রদবদল: মো. মনিরুল ইসলাম নিয়োগ দুদকের শীর্ষপদে রদবদল: মনিরুল ইসলাম নতুন মহাপরিচালক আগামী ১০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী ঢামেক পরিদর্শনে যাচ্ছেন

অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়: চিফ হুইপ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, বাংলাদেশের মাটি কোনো প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে ব্যবহার হোক—we সেভাবে চান না, আর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশীদের নাক গলানোও গ্রহণযোগ্য নয়। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটকে ঘিরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

চিফ হুইপ বলেন, পাশের দেশে মসজিদ ভাঙার মতো ঘটনার যে পরিমাণ ঘটছে, সেটি দেখলে আমাদের অবস্থান সম্পর্কে অনুধাবন করা যায়। তিনি আরও বলেন, বিএনপির স্থায়ী নেতা তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে ভারত কীভাবে দেখছে, তাদের কর্মকাণ্ড থেকে তা সহজেই বোঝা যায়।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি দেশের জন্য জীবনরক্ষাকারী একটি প্রকল্প। উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় পানি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন—এটাই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য।

বাজেট নিয়ে মনি বলেন, সরকার ঘোষিত বাজেটটি বিরোধীদলও গ্রহণ করেছে, তাই বাস্তবায়নে সকল রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে—স্বাধীনতার পর এতোটুকু জনকল্যাণমুখী ও জীবনঘনিষ্ঠ বাজেট আগে দেখা যায়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

চিফ হুইপ বলেন, এই বাজেট জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এটিকে ‘মানুষের বাজেট’ ও ‘জনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মনি বলেন, আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি—একদিনে ডলারের দাম সাত টাকা বেড়েছে, কয়েকটি ব্যাংক মারাত্মক সংকটে পড়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে হাজার হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করে সংকট সামলাতে হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতের অনিয়ম, আর্থিক বিশৃঙ্খলা ও মেগা প্রকল্পের নামে দুর্নীতির ছাপ এখনও অর্থনীতিতে বিরাজ করছে। এজন্য সরকার কেবল অবকাঠামো নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নয়, দীর্ঘমেয়াদি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পেও জোর দিচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রদর্শনমুখী মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে জীবনমুখী পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এসব ব্যারেজের লক্ষ্য শুষ্ক মৌসুমে কৃষিতে পানির নিশ্চয়তা ও দেশের পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন—এগুলো কেবল প্রদর্শনের জন্য নয়, মানুষের বাস্তব চাহিদা মেটানোর প্রকল্প।

চিফ হুইপ আরও জানান, পরিবেশ ও জনকল্যাণে ২৫ কোটি গাছ রোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, কৃষক কার্ড, পরিবার কার্ড, নারীদের জন্য বিশেষ কার্ড, প্রবাসী সেবা সম্প্রসারণ এবং স্বাস্থ্যখাতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসবের মূল লক্ষ্য—কোনো মানুষ যেন অন্নহীন না থাকে, মানুষের জীবনমান উন্নত হয় এবং তারা স্বাবলম্বী হতে পারে।

নূরুল ইসলাম মনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো বিরোধী দল বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আগেভাগে অংশগ্রহণ করেছে। বিরোধী দলকে মোট ২৬ শতাংশ সময় বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সরকার সময় বাড়িয়ে তাদের প্রায় ৩১ শতাংশ সময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিরোধী দলের নেতার অনুরোধের পরে প্রধানমন্ত্রী সাইকেলের ওপর প্রস্তাবিত কর প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন—এটি সরকারের ও বিরোধীদলের সম্মিলিতভাবে দেশ গড়ার আন্তরিকতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়া কিছু উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মনি বলেন, প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ৬৩টি আইটেমে কোনো কর বৃদ্ধি করা হয়নি। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় প্রায় ৫০ লাখ পরিবার কার্ডের মাধ্যমে মায়েদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ জানান, যে কোনো সার্বিক সংস্কার আনতে সংবিধান সংশোধন এখন অপরিহার্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবাই মিলেই এই সংশোধনী আনতে পারবে।

তিনি জাতীয় গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপ মেনে নেব না: চিফ হুইপ

অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়: চিফ হুইপ

প্রকাশিতঃ ১০:৪১:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, বাংলাদেশের মাটি কোনো প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে ব্যবহার হোক—we সেভাবে চান না, আর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশীদের নাক গলানোও গ্রহণযোগ্য নয়। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটকে ঘিরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

চিফ হুইপ বলেন, পাশের দেশে মসজিদ ভাঙার মতো ঘটনার যে পরিমাণ ঘটছে, সেটি দেখলে আমাদের অবস্থান সম্পর্কে অনুধাবন করা যায়। তিনি আরও বলেন, বিএনপির স্থায়ী নেতা তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে ভারত কীভাবে দেখছে, তাদের কর্মকাণ্ড থেকে তা সহজেই বোঝা যায়।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি দেশের জন্য জীবনরক্ষাকারী একটি প্রকল্প। উত্তরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় পানি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন—এটাই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য।

বাজেট নিয়ে মনি বলেন, সরকার ঘোষিত বাজেটটি বিরোধীদলও গ্রহণ করেছে, তাই বাস্তবায়নে সকল রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে—স্বাধীনতার পর এতোটুকু জনকল্যাণমুখী ও জীবনঘনিষ্ঠ বাজেট আগে দেখা যায়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

চিফ হুইপ বলেন, এই বাজেট জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এটিকে ‘মানুষের বাজেট’ ও ‘জনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মনি বলেন, আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি—একদিনে ডলারের দাম সাত টাকা বেড়েছে, কয়েকটি ব্যাংক মারাত্মক সংকটে পড়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে হাজার হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করে সংকট সামলাতে হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতের অনিয়ম, আর্থিক বিশৃঙ্খলা ও মেগা প্রকল্পের নামে দুর্নীতির ছাপ এখনও অর্থনীতিতে বিরাজ করছে। এজন্য সরকার কেবল অবকাঠামো নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নয়, দীর্ঘমেয়াদি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পেও জোর দিচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রদর্শনমুখী মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে জীবনমুখী পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এসব ব্যারেজের লক্ষ্য শুষ্ক মৌসুমে কৃষিতে পানির নিশ্চয়তা ও দেশের পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন—এগুলো কেবল প্রদর্শনের জন্য নয়, মানুষের বাস্তব চাহিদা মেটানোর প্রকল্প।

চিফ হুইপ আরও জানান, পরিবেশ ও জনকল্যাণে ২৫ কোটি গাছ রোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, কৃষক কার্ড, পরিবার কার্ড, নারীদের জন্য বিশেষ কার্ড, প্রবাসী সেবা সম্প্রসারণ এবং স্বাস্থ্যখাতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসবের মূল লক্ষ্য—কোনো মানুষ যেন অন্নহীন না থাকে, মানুষের জীবনমান উন্নত হয় এবং তারা স্বাবলম্বী হতে পারে।

নূরুল ইসলাম মনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো বিরোধী দল বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আগেভাগে অংশগ্রহণ করেছে। বিরোধী দলকে মোট ২৬ শতাংশ সময় বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সরকার সময় বাড়িয়ে তাদের প্রায় ৩১ শতাংশ সময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিরোধী দলের নেতার অনুরোধের পরে প্রধানমন্ত্রী সাইকেলের ওপর প্রস্তাবিত কর প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন—এটি সরকারের ও বিরোধীদলের সম্মিলিতভাবে দেশ গড়ার আন্তরিকতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়া কিছু উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মনি বলেন, প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ৬৩টি আইটেমে কোনো কর বৃদ্ধি করা হয়নি। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় প্রায় ৫০ লাখ পরিবার কার্ডের মাধ্যমে মায়েদের আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ জানান, যে কোনো সার্বিক সংস্কার আনতে সংবিধান সংশোধন এখন অপরিহার্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবাই মিলেই এই সংশোধনী আনতে পারবে।

তিনি জাতীয় গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।