০৬:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
তিন বাহিনীর বঞ্চিত ১৫০ কর্মকর্তাকে পুনর্বাসন ও বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপ মেনে নেব না: চিফ হুইপ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়: চিফ হুইপ প্রবাসী আয়ে রিজার্ভে সুর ফেরেছে: রিজার্ভ পুনরায় ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ওপরে প্রবাসী আয়ের জোয়ারে রিজার্ভে ফের প্রাণ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশীদের নাক গলানো গ্রহণযোগ্য নয়: চিফ হুইপ আগামী ১০ জুলাই ঢামেক পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুদকের মহাপরিচালক পদে রদবদল: মো. মনিরুল ইসলাম নিয়োগ দুদকের শীর্ষপদে রদবদল: মনিরুল ইসলাম নতুন মহাপরিচালক আগামী ১০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী ঢামেক পরিদর্শনে যাচ্ছেন

প্রবাসী আয়ে রিজার্ভে সুর ফেরেছে: রিজার্ভ পুনরায় ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ওপরে

বাংলাদেশে প্রবাসী রেমিট্যান্স বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায় যে সরকার বদলের পর টানা ৪৫ মাস পর মোট (গ্রস) রিজার্ভ আবার ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ এখন প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার, যা অর্থনীতির জন্য স্বস্তির ইঙ্গিত দেয়।

পটভূমি স্পষ্ট—২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। পরে অনিয়ন্ত্রিত টাকা পাচার ও হুন্ডি কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ায় রিজার্ভ ধীরেধীরে কমতে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় মোট রিজার্ভ নামতে নামতে ২৫.৯২ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাব অনুযায়ী তা ছিল ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলার।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রিজার্ভ কিছুটা শক্ত করা হয় এবং প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারের ঘর রেখে পরবর্তী কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা, আমদানি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা ও প্রবাসী আয় বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়ার ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে থাকে। এর ফলেই বর্তমানে রিজার্ভ পুনরায় ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ওপর চলে এসেছে।

গত ১২ মাসে প্রবাসীরা প্রায় ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এই প্রবাহ রিজার্ভ বাড়াতে সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ জানানো মতে মোট (গ্রস) রিজার্ভ ৩৭.০৫ বিলিয়ন ডলার আর আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভ ৩২.৪৮০ বিলিয়ন (৩২,৪৭৯.৮৮ মিলিয়ন) ডলার।

চলতি মাসের শুরুতে—১ জুন—মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪.৭৬ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩০.১০ বিলিয়ন ডলার। এক মাসের মধ্যে মোট রিজার্ভ বাড়েছে প্রায় ২.৩ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী বেড়েছে প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার।

রেমিট্যান্স বৈধ চ্যানেলে আনার জন্য সরকার ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। এই প্রণোদনার উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ বৈধ পথে দেশে আসা নিশ্চিত করা, মনিলন্ডারিং প্রতিরোধ করা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধারনীয় করা ও দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, হুন্ডি ও অবৈধ চ্যানেলে টাকা পাচার নিয়ন্ত্রণে রাখলে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আরও বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল থাকবে।

অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, প্রবাসী আয় বাড়ার মূল কারণ হচ্ছে হুंडी কমে যাওয়া, অবৈধ ও বৈধ পথে ডলারের মূল্যের পার্থক্য কমে আসা এবং বৈধ চ্যানেলে পাঠানো ও গ্রহণ সহজ করার উদ্যোগ। এই ধারা রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং টেকসই অর্থনীতি গঠনে সহায়ক হবে।

অন্যদিকে অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনও বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়া রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ডলার ঘাটতির সময় ব্যাংকগুলোর এলসি খোলার যে সমস্যা দেখা দিয়েছিল, তা এখন ধীরে ধীরে কাটছে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল হচ্ছে।

সংক্ষেপে, প্রবাসী আয় বেড়ে এবং টাকা পাচার রোধে নেওয়া পদক্ষেপগুলো রিজার্ভ পুনর্গঠনে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। এই রিজার্ভ দেশের টেকসই অর্থনীতি ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ পুনরায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপ মেনে নেব না: চিফ হুইপ

প্রবাসী আয়ে রিজার্ভে সুর ফেরেছে: রিজার্ভ পুনরায় ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ওপরে

প্রকাশিতঃ ১০:৪১:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশে প্রবাসী রেমিট্যান্স বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায় যে সরকার বদলের পর টানা ৪৫ মাস পর মোট (গ্রস) রিজার্ভ আবার ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ এখন প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার, যা অর্থনীতির জন্য স্বস্তির ইঙ্গিত দেয়।

পটভূমি স্পষ্ট—২০২১ সালের আগস্টে দেশের রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। পরে অনিয়ন্ত্রিত টাকা পাচার ও হুন্ডি কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ায় রিজার্ভ ধীরেধীরে কমতে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় মোট রিজার্ভ নামতে নামতে ২৫.৯২ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফের বিপিএম-৬ হিসাব অনুযায়ী তা ছিল ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলার।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রিজার্ভ কিছুটা শক্ত করা হয় এবং প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারের ঘর রেখে পরবর্তী কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ডলারের বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা, আমদানি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা ও প্রবাসী আয় বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়ার ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে থাকে। এর ফলেই বর্তমানে রিজার্ভ পুনরায় ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ওপর চলে এসেছে।

গত ১২ মাসে প্রবাসীরা প্রায় ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এই প্রবাহ রিজার্ভ বাড়াতে সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ জানানো মতে মোট (গ্রস) রিজার্ভ ৩৭.০৫ বিলিয়ন ডলার আর আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভ ৩২.৪৮০ বিলিয়ন (৩২,৪৭৯.৮৮ মিলিয়ন) ডলার।

চলতি মাসের শুরুতে—১ জুন—মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪.৭৬ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩০.১০ বিলিয়ন ডলার। এক মাসের মধ্যে মোট রিজার্ভ বাড়েছে প্রায় ২.৩ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী বেড়েছে প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার।

রেমিট্যান্স বৈধ চ্যানেলে আনার জন্য সরকার ২.৫ শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। এই প্রণোদনার উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ বৈধ পথে দেশে আসা নিশ্চিত করা, মনিলন্ডারিং প্রতিরোধ করা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধারনীয় করা ও দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, হুন্ডি ও অবৈধ চ্যানেলে টাকা পাচার নিয়ন্ত্রণে রাখলে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আরও বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল থাকবে।

অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, প্রবাসী আয় বাড়ার মূল কারণ হচ্ছে হুंडी কমে যাওয়া, অবৈধ ও বৈধ পথে ডলারের মূল্যের পার্থক্য কমে আসা এবং বৈধ চ্যানেলে পাঠানো ও গ্রহণ সহজ করার উদ্যোগ। এই ধারা রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং টেকসই অর্থনীতি গঠনে সহায়ক হবে।

অন্যদিকে অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনও বলেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়া রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ডলার ঘাটতির সময় ব্যাংকগুলোর এলসি খোলার যে সমস্যা দেখা দিয়েছিল, তা এখন ধীরে ধীরে কাটছে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল হচ্ছে।

সংক্ষেপে, প্রবাসী আয় বেড়ে এবং টাকা পাচার রোধে নেওয়া পদক্ষেপগুলো রিজার্ভ পুনর্গঠনে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। এই রিজার্ভ দেশের টেকসই অর্থনীতি ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ পুনরায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে।