বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও সাহসী থাকলে সমৃদ্ধ ও কার্যকর গণতন্ত্র গড়ে ওঠে। শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন।
মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘সত্যনিষ্ঠ হওয়ার সাহসিই সাংবাদিকতার প্রাণ। সাদা সাদাই বলার এবং কালো কালই চিহ্নিত করার শক্তিই গণমাধ্যমের মূল ক্ষমতা।’’ তিনি আরও বলেন, ভালো কাজকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং অন্যায়-অনীতির বিরুদ্ধে নির্ভয়ে সমালোচনা করা সাংবাদিকদের নৈতিক কর্তব্য।
তিনি অন্যান্যের পাশাপাশি রাজনীতিবিদদেরও ভুল-ত্রুটি সম্পর্কে সতর্ক করলেন এবং বললেন, ‘‘রাজনীতিবিদরা সমালোচনার ওপর নিহিত নয়। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে গিয়ে ভুল হতে পারে, সেই ভুল তুলে ধরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও গণমাধ্যমের দায়িত্ব।’’
ফখরুল অভিযোগ করেছেন যে অনেক সময় সত্য রিপোর্টিংয়ের কারণে সাংবাদিকরা হামলা ও হয়রানির শিকার হন, যা তিনি অত্যন্ত উদ্বেগজনক সহকারী হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন যাতে সাংবাদিক নির্ভয়ে কাজ করতে পারে।
স্থানীয় উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রসঙ্গে তিনি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে দুইটি নতুন উপজেলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে শুধু অবকাঠামো নয়, দক্ষ, সৎ ও দায়বদ্ধ নেতৃত্ব গড়ে তোলাও সমানভাবে জরুরি—এমনটিও তিনি বললেন।
মন্ত্রী সাংবাদিকদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘‘কর্মকে মূল্যায়ন করুন, ব্যক্তিকে নয়। ভাল কাজের স্বীকৃতি দিন; একই সঙ্গে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাহসীভাবে সংবাদ প্রকাশ করুন।’’
অনুষ্ঠানের শেষে মির্জা ফখরুল প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে তারা বস্তুনিষ্ঠ ও পেশাদার সাংবাদিকতার মাধ্যমে জনগণের আস্থা আরও মজবুত করবেন এবং প্রেসক্লাবকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী এবং জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























