তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বিশ্ব বর্তমানে গভীর ও জটিল সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো একক আদর্শ, দর্শন বা মতের আধিপত্যে স্থায়ী সমাধান আসবে না; বরং নানা মতের বিনিময় ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সততাভিত্তিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই সম্ভব।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি অভিজাত হোটেলে আন্তর্জাতিক গবেষণা ও সংলাপের প্ল্যাটফর্ম ‘আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠান আয়োজন করে আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশন।
মন্ত্রী বলেন, ‘জগতের সব ধরনের বৈচিত্র্য, ভিন্নমত ও আদর্শের অবাধ আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই কেবল শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব; আর সেজন্য প্রয়োজন মুক্ত ও দায়বদ্ধ বুদ্ধিচর্চা।’ তিনি আরও যুক্ত করেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যখন বিভ্রান্তি, বিভাজন ও অপ্রামাণিক আলোচনা দ্রুত ছড়ায়, তখন জ্ঞান, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের ওপর দাঁড়ানো বিশ্বাসযোগ্য বুদ্ধিবৃত্তিক উদ্যোগ খুবই জরুরি। আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট এমন একটি জ্ঞানভিত্তিক ও গবেষণামূলক মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে, যা তৎপরভাবে বিভ্রান্তি দূর করবে এবং গঠনমূলক আলাপচারিতা বাড়াবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও জার্নালের সম্পাদক ইন-চিফ মোহাম্মদ জাকির হোসেন স্বাগত বক্তৃতা দেন। অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. এ এফ এম খালিদ হোসেন এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন তুর্কি লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ইয়াসিন আকতাই।
মন্ত্রী ভাষা, জাতি, ধর্ম, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্যকে প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘কোনো একক পরিচয় বা গোষ্ঠী একা বিশ্ব শাসন করতে পারে না। সব মতাদর্শের স্কলারদের সমন্বয়ে এমন সমাধান খুঁজতে হবে, যা সভ্যতার কল্যাণ বয়ে আনবে। অতীতেও কোনো একক বীর কিংবা সমাজ একা বৈশ্বিক সংকটের স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি।’
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সংক্রান্ত মন্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও সমাদৃত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের সরকার গঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের সরকার বৈচিত্র্য ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। আমাদের নীতি হলো—প্রত্যেকে তার অবস্থান থেকে স্বতন্ত্রভাবে কথা বলবেন এবং সুস্থ পরিবেশে মতবিনিময় হবে; এটিই প্রকৃত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি।’ তিনি জার্নালটির উদ্দেশ্য রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী জার্নালটি বাংলা, ইংরেজি, আরবি ও তুর্কি—এই চারটি ভাষায় প্রকাশের উদ্যোগকে প্রশংসা করে বলেন, পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া গড়ে তোলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ পর্যায়ের ভুল বোঝাবুঝি কমানো সম্ভব।
অধ্যাপক ইয়াসিন আকতাই অনুষ্ঠানে বলেন, ‘মুসলিম বিশ্বের সমৃদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য রয়েছে। সমসাময়িক বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সেই জ্ঞানচর্চার সংযোগ ঘটানো এখন সময়ের দাবি। আল-উম্মাহ বিশ্বজুড়ে চিন্তাবিদদের সংযুক্ত করার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হবে।’
ড. এ এফ এম খালিদ হোসেন বলেন, এই প্ল্যাটফর্মটি ওআইসি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত সংযোগ ও সহযোগিতা গড়তে এবং মুসলিম উম্মাহর সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জগুলোর জ্ঞানভিত্তিক সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী আলোচনায় দেশ-বিদেশের অভিনাক্ত গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মুসলিম উম্মাহর বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব, গণমাধ্যম, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক সহযোগিতা নিয়েও বিস্তারিত ভাবনা ও প্রস্তাব ভাগ করা হয়।
আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইটের উদ্বোধন এমন সময়, যখন তথ্যের দ্রুত প্রবাহ এবং ডিজিটাল বিভ্রান্তি সমাজে অন্তর্দ্বন্দ্বের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে; মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য ছিল—বুদ্ধিবৃত্তিক দায়িত্বশীলতা ও মুক্ত আলোচনা এসব ঝুঁকি কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হবে।
সূত্র: বাসস
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























