০৬:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করলেন জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ স্মারক ডাকটিকিট সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জুলাইয়ের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করলেন জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের স্মারক ডাকটিকিট অর্থমন্ত্রী: বাংলাদেশ এগোচ্ছে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে গণতন্ত্র মজবুত করতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা বাড়বে: চিফ হুইপ জুলাই স্মৃতির অবমাননার অভিযোগ: শাওন, মাহি ও ফারজানার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় জিডি বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে মুক্ত বুদ্ধিচর্চা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জুলাই অবমাননার অভিযোগে শাওন, মাহি ও ফারজানার বিরুদ্ধে শাহবাগে জিডি বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য মুক্ত ও দায়বহ বুদ্ধিচর্চা অপরিহার্য: তথ্যমন্ত্রী

জিএম কাদের: দেশে দমন‑পীড়ন ও বৈষম্য তীব্র, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি জরুরি

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, বর্তমান সরকার বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের দেখানো পথ অনুসরণ করছে। ফলে দেশে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, দমন‑পীড়ন এবং বৈষম্য আরও তীব্র হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি দ্রুতভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অধিকার নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘‘জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি‑২০২৬’’ পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জিএম কাদের এ মন্তব্য করেন।

একটি আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংকের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেছেন, শক্তিশালী জনমতের ওপর ভিত্তি করে সরকার গঠিত হলেও তা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার গ্যারান্টি দেয় না। তিনি যোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে একীভূত করতে ব্যর্থ হলে এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে গুরুত্ব না দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।

সরকারের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে কাদের বলেন, গত জুলাই মাসে যে বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ছিল, সেটার প্রতিফলন বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনায় দেখা যাচ্ছে না। বরঞ্চ ‘‘জুলাইয়ের নামে’’ এখন নতুনভাবে বৈষম্য ও দমন‑পীড়ন চলছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত পোষণকারীদের রাস্তায় হেনস্তা করা, হাটে‑বাজারে বাধা দেওয়া এবং আইন প্রণয়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার মতো কর্মকাণ্ড ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রকাশ। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, শুধু একটি দলকে বাদ দিলে বা দমন করলে দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে না; বরং রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।

জিএম কাদের বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দার ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে এবং এর জন্য সরকার আলাদা থাকতেই পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের তরুণ সমাজ ব্যাপক হতাশাগ্রস্ত; কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যতের অভাবে তারা মাদক ও অপরাধমুখী কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকছে। এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন যে, বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের মাধ্যমে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতায় জিএম কাদের গুরুত্ব দিয়েছেন—ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা, সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করলে দেশ আবার স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে।

ট্যাগ :

সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা

জিএম কাদের: দেশে দমন‑পীড়ন ও বৈষম্য তীব্র, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি জরুরি

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, বর্তমান সরকার বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের দেখানো পথ অনুসরণ করছে। ফলে দেশে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, দমন‑পীড়ন এবং বৈষম্য আরও তীব্র হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি দ্রুতভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অধিকার নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘‘জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি‑২০২৬’’ পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জিএম কাদের এ মন্তব্য করেন।

একটি আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংকের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেছেন, শক্তিশালী জনমতের ওপর ভিত্তি করে সরকার গঠিত হলেও তা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার গ্যারান্টি দেয় না। তিনি যোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে একীভূত করতে ব্যর্থ হলে এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে গুরুত্ব না দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।

সরকারের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে কাদের বলেন, গত জুলাই মাসে যে বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ছিল, সেটার প্রতিফলন বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনায় দেখা যাচ্ছে না। বরঞ্চ ‘‘জুলাইয়ের নামে’’ এখন নতুনভাবে বৈষম্য ও দমন‑পীড়ন চলছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত পোষণকারীদের রাস্তায় হেনস্তা করা, হাটে‑বাজারে বাধা দেওয়া এবং আইন প্রণয়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার মতো কর্মকাণ্ড ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রকাশ। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, শুধু একটি দলকে বাদ দিলে বা দমন করলে দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে না; বরং রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।

জিএম কাদের বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দার ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে এবং এর জন্য সরকার আলাদা থাকতেই পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের তরুণ সমাজ ব্যাপক হতাশাগ্রস্ত; কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যতের অভাবে তারা মাদক ও অপরাধমুখী কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকছে। এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন যে, বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের মাধ্যমে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতায় জিএম কাদের গুরুত্ব দিয়েছেন—ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা, সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করলে দেশ আবার স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে।