১২:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

জিএম কাদের: দেশে দমন-পীড়ন ও বৈষম্য আরও তীব্র, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি জরুরি

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, বর্তমান সরকার আগের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের পথেই হাঁটছে। দেশে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, দমন-পীড়ন এবং বৈষম্য আরও তীব্র হয়েছে। যদি সরকার দ্রুত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউন মিলনায়তনে ‘জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি-২০২৬’ পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

একটি আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংকের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জিএম কাদের বলেন, কেবল জনমতের শক্তির ওপর ভিত্তি করে সরকার গঠিত হলেও তা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার গ্যারান্টি দেয় না। রাজনৈতিক দলগুলোকে একীভূত না করলে এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে গুরুত্ব না দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।

সরকারের ওপর তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত জুলাইয়ে যে বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, তা এখনকার সরকারি নীতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে না; বরং একই নামে নতুনভাবে বৈষম্য ও দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।

জিএম কাদের আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত পোষণকারীদের রাস্তাঘাটে হেনস্তা করা, হাট- বাজারে বাধা দেওয়া এবং আইন ব্যবহার করে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার মতো কর্মকাণ্ড ফ্যাসিবাদী মানসিকতারই প্রকাশ। কোনো একটি রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে বা দমন করে দেশের স্থিতিশীলতা আসবে না; এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

তিনি দেশের সাধারণ মানুষের কষ্টের কথাও তুলে ধরেন। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দার ফলে জনগণ চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং সরকার এ দায় এড়াতে পারে না। তরুণ সমাজ ব্যাপক হতাশার সম্মুখীন; কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নেই বলে তারা মাদক ও অপরাধের দিকে ঝুঁকছে।

প্রধানমন্ত্রীর দল ও সরকারি নীতির কারণে বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আবারো জোর দেন যে, এখন সময়ের দাবি সমস্ত রাজনৈতিক সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও অধিকার রক্ষা করা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

জিএম কাদের: দেশে দমন-পীড়ন ও বৈষম্য আরও তীব্র, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি জরুরি

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, বর্তমান সরকার আগের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের পথেই হাঁটছে। দেশে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, দমন-পীড়ন এবং বৈষম্য আরও তীব্র হয়েছে। যদি সরকার দ্রুত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউন মিলনায়তনে ‘জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি-২০২৬’ পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

একটি আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংকের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জিএম কাদের বলেন, কেবল জনমতের শক্তির ওপর ভিত্তি করে সরকার গঠিত হলেও তা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার গ্যারান্টি দেয় না। রাজনৈতিক দলগুলোকে একীভূত না করলে এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে গুরুত্ব না দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।

সরকারের ওপর তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত জুলাইয়ে যে বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, তা এখনকার সরকারি নীতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে না; বরং একই নামে নতুনভাবে বৈষম্য ও দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।

জিএম কাদের আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত পোষণকারীদের রাস্তাঘাটে হেনস্তা করা, হাট- বাজারে বাধা দেওয়া এবং আইন ব্যবহার করে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার মতো কর্মকাণ্ড ফ্যাসিবাদী মানসিকতারই প্রকাশ। কোনো একটি রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে বা দমন করে দেশের স্থিতিশীলতা আসবে না; এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

তিনি দেশের সাধারণ মানুষের কষ্টের কথাও তুলে ধরেন। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দার ফলে জনগণ চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং সরকার এ দায় এড়াতে পারে না। তরুণ সমাজ ব্যাপক হতাশার সম্মুখীন; কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নেই বলে তারা মাদক ও অপরাধের দিকে ঝুঁকছে।

প্রধানমন্ত্রীর দল ও সরকারি নীতির কারণে বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আবারো জোর দেন যে, এখন সময়ের দাবি সমস্ত রাজনৈতিক সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও অধিকার রক্ষা করা।