০৭:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করলেন জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ স্মারক ডাকটিকিট সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জুলাইয়ের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করলেন জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের স্মারক ডাকটিকিট অর্থমন্ত্রী: বাংলাদেশ এগোচ্ছে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে গণতন্ত্র মজবুত করতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা বাড়বে: চিফ হুইপ জুলাই স্মৃতির অবমাননার অভিযোগ: শাওন, মাহি ও ফারজানার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় জিডি বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে মুক্ত বুদ্ধিচর্চা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জুলাই অবমাননার অভিযোগে শাওন, মাহি ও ফারজানার বিরুদ্ধে শাহবাগে জিডি বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য মুক্ত ও দায়বহ বুদ্ধিচর্চা অপরিহার্য: তথ্যমন্ত্রী

জিএম কাদের: দেশে দমন-পীড়ন ও বৈষম্য আরও তীব্র, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি জরুরি

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, বর্তমান সরকার আগের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের পথেই হাঁটছে। দেশে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, দমন-পীড়ন এবং বৈষম্য আরও তীব্র হয়েছে। যদি সরকার দ্রুত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউন মিলনায়তনে ‘জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি-২০২৬’ পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

একটি আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংকের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জিএম কাদের বলেন, কেবল জনমতের শক্তির ওপর ভিত্তি করে সরকার গঠিত হলেও তা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার গ্যারান্টি দেয় না। রাজনৈতিক দলগুলোকে একীভূত না করলে এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে গুরুত্ব না দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।

সরকারের ওপর তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত জুলাইয়ে যে বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, তা এখনকার সরকারি নীতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে না; বরং একই নামে নতুনভাবে বৈষম্য ও দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।

জিএম কাদের আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত পোষণকারীদের রাস্তাঘাটে হেনস্তা করা, হাট- বাজারে বাধা দেওয়া এবং আইন ব্যবহার করে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার মতো কর্মকাণ্ড ফ্যাসিবাদী মানসিকতারই প্রকাশ। কোনো একটি রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে বা দমন করে দেশের স্থিতিশীলতা আসবে না; এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

তিনি দেশের সাধারণ মানুষের কষ্টের কথাও তুলে ধরেন। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দার ফলে জনগণ চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং সরকার এ দায় এড়াতে পারে না। তরুণ সমাজ ব্যাপক হতাশার সম্মুখীন; কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নেই বলে তারা মাদক ও অপরাধের দিকে ঝুঁকছে।

প্রধানমন্ত্রীর দল ও সরকারি নীতির কারণে বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আবারো জোর দেন যে, এখন সময়ের দাবি সমস্ত রাজনৈতিক সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও অধিকার রক্ষা করা।

ট্যাগ :

সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা

জিএম কাদের: দেশে দমন-পীড়ন ও বৈষম্য আরও তীব্র, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি জরুরি

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, বর্তমান সরকার আগের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের পথেই হাঁটছে। দেশে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, দমন-পীড়ন এবং বৈষম্য আরও তীব্র হয়েছে। যদি সরকার দ্রুত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউন মিলনায়তনে ‘জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি-২০২৬’ পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

একটি আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংকের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জিএম কাদের বলেন, কেবল জনমতের শক্তির ওপর ভিত্তি করে সরকার গঠিত হলেও তা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার গ্যারান্টি দেয় না। রাজনৈতিক দলগুলোকে একীভূত না করলে এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে গুরুত্ব না দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।

সরকারের ওপর তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত জুলাইয়ে যে বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, তা এখনকার সরকারি নীতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে না; বরং একই নামে নতুনভাবে বৈষম্য ও দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।

জিএম কাদের আরও বলেন, রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত পোষণকারীদের রাস্তাঘাটে হেনস্তা করা, হাট- বাজারে বাধা দেওয়া এবং আইন ব্যবহার করে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার মতো কর্মকাণ্ড ফ্যাসিবাদী মানসিকতারই প্রকাশ। কোনো একটি রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে বা দমন করে দেশের স্থিতিশীলতা আসবে না; এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

তিনি দেশের সাধারণ মানুষের কষ্টের কথাও তুলে ধরেন। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দার ফলে জনগণ চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং সরকার এ দায় এড়াতে পারে না। তরুণ সমাজ ব্যাপক হতাশার সম্মুখীন; কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নেই বলে তারা মাদক ও অপরাধের দিকে ঝুঁকছে।

প্রধানমন্ত্রীর দল ও সরকারি নীতির কারণে বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আবারো জোর দেন যে, এখন সময়ের দাবি সমস্ত রাজনৈতিক সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও অধিকার রক্ষা করা।