০৬:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ

ধলাই নদীর অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে কমলগঞ্জে বিশাল মানববন্ধন

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদী থেকে নিয়মবহির্ভূত বালু উত্তোলন বন্ধ এবং তীর রক্ষা বাঁধ ও নদী সংলগ্ন স্থাপনা রক্ষার দাবিতে স্থানীয়রা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) কমলগঞ্জ পৌর এলাকায় এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে তারা তাদের ন্যূনতম নিরাপত্তা ও সরকারি হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে উত্তর আলেপুর, চণ্ডীপুর ও দক্ষিণ কুমড়াকাপন গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেন। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কৃষক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ উপস্থিত থেকে সংহতি জানান।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল নিয়ম ও নিরাপত্তা অমান্য করে ড্রেজার মেশিনে ধলাই নদীর তলদেশ থেকে বাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলন করছে। নদীর তীর ঘেঁষে অবাধে বালু তোলার ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্নিত হচ্ছে, তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং তীরভূমি ক্ষয়ে বসতবাড়ি, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, কবরস্থান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

সমাবেশে বক্তব্য দেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল হোসেন, জমসেদ মিয়া, আজাদ মিয়া, মহরম মিয়া, মনাই মিয়া, মন্নান মিয়া, নজরুল মিয়া, আলাল মিয়া, নূরুল ইসলাম, শিবলু ও নজরুল ইসলাম বুলবুলসহ অনেকে। আন্দোলনকারীরা বলেন, তারা বৈধ ইজারাকে সমর্থন না করলেও নদীতীরের ঠিক পাশে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, ধলাই নদীর তীরের বাঁধগুলোর অবস্থা সত্যিই নাজুক। তিনি বলেন, ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলে নদী তীরসংলগ্ন এলাকা থেকে দ্রুত বালু উত্তোলন বন্ধ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীর রক্ষা বাঁধ দ্রুত সংস্কার ও প্রয়োজন হলে নতুন বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা করা হয়েছে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

স্থানীয়রা দ্রুত তীর সংরক্ষণ ও বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণে বাস্তব পদক্ষেপ চান, যাতে ভবিষ্যতে তাদের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও কবরস্থান সুরক্ষিত থাকে এবং নদীর স্বাভাবিক ঢেউ-প্রবাহ পুনরুদ্ধার করে তীরভূমির ক্ষয় রোধ করা যায়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

আসুন সবুজ ও নিরাপদ বসতি গড়ে তুলি: প্রধানমন্ত্রী

ধলাই নদীর অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে কমলগঞ্জে বিশাল মানববন্ধন

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদী থেকে নিয়মবহির্ভূত বালু উত্তোলন বন্ধ এবং তীর রক্ষা বাঁধ ও নদী সংলগ্ন স্থাপনা রক্ষার দাবিতে স্থানীয়রা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) কমলগঞ্জ পৌর এলাকায় এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে তারা তাদের ন্যূনতম নিরাপত্তা ও সরকারি হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে উত্তর আলেপুর, চণ্ডীপুর ও দক্ষিণ কুমড়াকাপন গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেন। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কৃষক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ উপস্থিত থেকে সংহতি জানান।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল নিয়ম ও নিরাপত্তা অমান্য করে ড্রেজার মেশিনে ধলাই নদীর তলদেশ থেকে বাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলন করছে। নদীর তীর ঘেঁষে অবাধে বালু তোলার ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্নিত হচ্ছে, তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং তীরভূমি ক্ষয়ে বসতবাড়ি, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, কবরস্থান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

সমাবেশে বক্তব্য দেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল হোসেন, জমসেদ মিয়া, আজাদ মিয়া, মহরম মিয়া, মনাই মিয়া, মন্নান মিয়া, নজরুল মিয়া, আলাল মিয়া, নূরুল ইসলাম, শিবলু ও নজরুল ইসলাম বুলবুলসহ অনেকে। আন্দোলনকারীরা বলেন, তারা বৈধ ইজারাকে সমর্থন না করলেও নদীতীরের ঠিক পাশে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, ধলাই নদীর তীরের বাঁধগুলোর অবস্থা সত্যিই নাজুক। তিনি বলেন, ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলে নদী তীরসংলগ্ন এলাকা থেকে দ্রুত বালু উত্তোলন বন্ধ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীর রক্ষা বাঁধ দ্রুত সংস্কার ও প্রয়োজন হলে নতুন বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা করা হয়েছে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

স্থানীয়রা দ্রুত তীর সংরক্ষণ ও বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণে বাস্তব পদক্ষেপ চান, যাতে ভবিষ্যতে তাদের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও কবরস্থান সুরক্ষিত থাকে এবং নদীর স্বাভাবিক ঢেউ-প্রবাহ পুনরুদ্ধার করে তীরভূমির ক্ষয় রোধ করা যায়।